​আদালতের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তি

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশিসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ উঠে গেছে, এমন খবরে আবেদনকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি সাম্প্রতিক ঘোষণায় পুরোনো স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাসে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার সাক্ষাৎকার পুনঃনির্ধারণ ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে থেমে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কি সত্যিই আবার চালু হয়েছে?
সরকারি নথি ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি মূলত দুটি পৃথক সিদ্ধান্তের কারণে জটিল হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক বনাম রুবিও মামলায় গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনেট এ. ভার্গাস ওই নীতি বেআইনি বলে রায় দেন।
আদালত বলেছে, শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষমতা পররাষ্ট্র দপ্তরের ছিল না। আদালত সংশ্লিষ্ট নীতিটি বাতিল বা *াধপধঃব* করার নির্দেশ দেয়। ২৪ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আংশিক রায়ও নথিভুক্ত হয়। 
এরপর ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানায়, আদালতের আদেশ অনুসারে ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য জানুয়ারিতে আরোপ করা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ওই ৭৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। 
এই তথ্যের ভিত্তিতেই কিছু সংবাদমাধ্যমে “বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র” শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 
বিভ্রান্তির কারণ হলো- ৭৫ দেশের বিরুদ্ধে আগের নিষেধাজ্ঞাটি আদালত বাতিল করলেও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর **আলাদা একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে পুনঃনির্ধারণ করছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাময়িক বিরতি দিয়েছে। নতুন পাবলিক চার্জ বা আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না, এটি যাচাইয়ের নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 
ফলে ৭৫ দেশের জন্য আগের নিষেধাজ্ঞা আইনিভাবে বাতিল হলেও, বাস্তবে অনেক আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার পিছিয়ে যাচ্ছে বা নতুন তারিখ দেওয়া হচ্ছে না।
আদালতের ২১ আগস্টের আদেশ কার্যকর হয়েছে এবং ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিক রায়ও নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের শুধু জাতীয়তার কারণে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা না দেওয়ার আগের নীতি এখন আর বৈধ নয়। কিন্তু আদালতের রায় বাস্তবে কীভাবে এবং কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে—সেটি নিয়েই নতুন বিরোধ দেখা দিয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষ ২৬ আগস্ট জরুরি আবেদন করে অভিযোগ করেছে, আদালত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার পরও প্রশাসন বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করছে। তারা আদালতের কাছে রায় বাস্তবায়ন তদারকির আবেদন করেছে। 
এ বিষয়ে আদালত মার্কিন সরকারের জবাব চেয়েছে এবং ৩১ আগস্ট উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানিরও ব্যবস্থা করে। মামলার অন্যান্য বিষয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উভয় পক্ষকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে যৌথ প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। 
ঢাকার জন্য পরিস্থিতি কী?
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শিডিউলিং তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় ভিসা প্রক্রিয়া প্রশাসনিকভাবে চালু রয়েছে। তবে সেখানে বড় ধরনের ব্যাকলগও রয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় কিছু ক্যাটাগরিতে বহু পুরোনো ‘ডকুমেন্টারিলি কমপ্লিট’ মামলা এখনো শিডিউল করা হচ্ছে। 
অন্যদিকে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস চলতি বছরের ১ জুন থেকে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য নতুন দুই ধাপের প্রক্রিয়া চালু করেছে। প্রথমবার আবেদনকারীর কাগজপত্র, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হয় এবং পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। 
কিন্তু সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং কনস্যুলার নির্দেশনা পুনর্বিন্যাসের কারণে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- “৭৫ দেশের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে” এবং “সব ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবার স্বাভাবিকভাবে দেওয়া শুরু হয়েছে”- এই দুটি কথাকে একই অর্থে না নেওয়া।
প্রথমটি সত্য। আদালতের রায়ে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত বিশেষ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়েছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সেটি স্বীকার করেছে। কিন্তু দ্বিতীয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ নতুন পাবলিক চার্জ নির্দেশনা কার্যকর করা, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সাক্ষাৎকার ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব বা পুনঃনির্ধারণ চলছে।
তাই যাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ রয়েছে, তাদের নিজ উদ্যোগে তা বাতিল করা উচিত নয়। দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার—ঘঠঈ থেকে সরাসরি কোনো পরিবর্তনের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই নিরাপদ।
বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিষেধাজ্ঞা আদালত বাতিল করেছে। কিন্তু সেই রায়ের বাস্তবায়ন এবং একই সময়ে চালু হওয়া নতুন প্রশাসনিক স্থগিত/পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ফলে এখনই “বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পুরোপুরি চালু হয়ে গেছে”- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি “বাংলাদেশিদের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল”- এ কথাও সঠিক নয়।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আবেদনকারীদের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]