সৌদিতে ২০০ মার্কিন সেনা, গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে হুতি দমনের চেষ্টা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ , অনলাইন ভার্সন
ইয়েমেনের আল-হাজমের কাছে দেশটির ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করছে। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়তে সৌদি আরবে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ও ২০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সৌদি বাহিনীকে সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য ও হামলা চালানোর সঠিক স্থান নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছেন।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিএনএন জানায়, অভিযানে সম্পৃক্ত পাঁচটি পৃথক সূত্রের মাধ্যমে সৌদিতে মার্কিন সৈন্যদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সেখানে সেনা সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। সম্প্রতি নতুন একটি যৌথ কমান্ড গঠনের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী রিয়াদে কাজ শুরু করেছে। হুতিদের পেছনে ইরানের সামরিক সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পেন্টাগনের ‘মাভেন’ সিস্টেমের মতো একটি বিশেষ নজরদারি প্রযুক্তি সৌদি আরবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রণক্ষেত্রের রিয়েল-টাইম ছবি দেখতে পাচ্ছেন সামরিক কর্মকর্তারা। এছাড়া হুতিদের ওপর আঘাত হানতে মার্কিন বাহিনী সৌদিকে জিওস্পেসিয়াল গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মার্কিন সেনারা সরাসরি বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে না। আবার সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরানো বা অন্যান্য অপারেশনে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকছে তারা। পূর্বের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই কেবল সৌদির সামরিক পদক্ষেপ যাতে পেশাদারভাবে পরিচালিত হয়, সেটিতেই জোর দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করে না।

বর্তমানে ইয়েমেন উপদ্বীপে সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ২০২২ সালের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই। বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর দখল করেছে। এর ফলে বাবেল মান্দেব প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়ল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইয়েমেনে বর্তমানে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করা বাবেল মান্দেব প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। ওদিকে আলোচনার পথ বন্ধ হলে ইরান অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে এই পথটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আভাস দিয়েছিলেন। সম্প্রতি সৌদি জ্বালানি খাতে হুতিদের হামলার পেছনেও ইরানের হাত রয়েছে বলে জানা যায়।

তবে এই অভিযানে মার্কিন সেনাদের জড়িয়ে পড়া নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক রয়েছে। ওবামা ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সৌদিকে সহায়তার কারণে বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। এরপর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হুতিদের বিরুদ্ধে যৌথ প্রধান ড্যান কেইন কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালিয়ে মার্কিন সেনারা এমনিতেই ক্লান্ত। হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়া ও ইরান অবরোধেই তাদের বড় মনোযোগ রয়েছে। এর মাঝে সৌদিদের কোনো হামলায় ভুলবশত বেসামরিক মানুষ মারা গেলে যুক্তরাষ্ট্র আবার বিতর্কে পড়তে পারে— এমন আশঙ্কা রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]