ফিফার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে মেসি

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০১:০৩ , অনলাইন ভার্সন
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলোর পর প্রকাশিত ফিফার অফিশিয়াল পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ফিফা। প্রথম রাউন্ড শেষে আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, সৃজনশীলতায় ইরানের রামিন রেজাইয়ান এবং রক্ষণভাগে কানাডার ডেরেক কর্নেলিয়াস শীর্ষস্থান দখল করেছেন।

ফিফার এই সূচক শুধু গোল বা এসিস্ট পাসের হিসাব করে না। আক্রমণ গড়ে তোলা, খেলার গতি এগিয়ে নেওয়া, প্রতিপক্ষের সুযোগ নষ্ট করা এবং মাঠে সামগ্রিক প্রভাবের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়।

আক্রমণভাগে শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-০ গোলের জয় এনে দেন তিনি। ম্যাচে আর্জেন্টিনার মোট গোলচেষ্টার ৬০ শতাংশই এসেছে মেসির কাছ থেকে। দলের তিনটি গোলই ছিল তার অবদান। শুধু গোলই নয়, আলজেরিয়ার মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মাঝখানে তিনি ২৩ বার বল গ্রহণ করেন এবং ১২ বার প্রতিপক্ষের লাইন ভেঙে আক্রমণকে এগিয়ে নেন। মেসি আক্রমণভাগে ১০ এর মধ্যে টুর্নামেন্ট সেরা ৮.১৩ রেটিং পেয়ে সবার উপরে আছেন।

এই বিভাগে দ্বিতীয় স্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের উইঙ্গার এলাইজা জাস্ট। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে দুই সুযোগ থেকেই দুটি গোল করেন তিনি। ইরান বেশি আক্রমণ ও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও জাস্টের নিখুঁত ফিনিশিং নিউজিল্যান্ডকে ২-২ সমতা এনে দেয়।

ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি যৌথভাবে সেরা পারফরমারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। দুজনই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করেন। সেনেগালের বিপক্ষে এমবাপ্পে চারটি শটের সব কটিই লক্ষ্যভেদ করেন এবং পাঁচবার বল এগিয়ে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলেন। অন্যদিকে আয়ারি প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে ভালো ফিনিশিং করেছেন।

সৃজনশীলতা বিভাগে শীর্ষে আছেন ইরানের ডান প্রান্তের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রামিন রেজাইয়ান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের আক্রমণ গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন তিনি। ১৬টি গতিমূলক পাস সম্পন্ন করার পাশাপাশি ১৩ বার প্রতিপক্ষের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের লাইন ভেঙে দেন। শুধু আক্রমণ তৈরিই নয়, ইরানের প্রথম সমতাসূচক গোলটি করেন তিনি নিজে এবং দ্বিতীয় গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন।

তার ঠিক পেছনেই আছেন ফ্রান্সের মিশেল ওলিসে। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে তিনি ১৯ বার প্রতিপক্ষের লাইন ভাঙেন, যার মধ্যে ১৭টিই ছিল পাসের মাধ্যমে। তিনি এমন নয়টি আক্রমণ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন, যেগুলোর শেষ হয় গোলচেষ্টায়। একটি গোল করানোর পাশাপাশি ফ্রান্সের তিন গোলের দুটিতে তার ভূমিকা ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার লি কাং-ইন, প্যারাগুয়ের হুলিও এনসিসো এবং মিসরের মোহাম্মদ সালাহও এই তালিকার শীর্ষ সারিতে আছেন।

চেকিয়ার বিপক্ষে লি কাং-ইন নিজের ৩৮টি পাসের সব কটিই সফলভাবে সম্পন্ন করেন এবং একটি গোল করান। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্যারাগুয়ের বল দখল ছিল ৩০ শতাংশেরও কম, তবু এনসিসো ছিলেন দলের প্রধান আক্রমণভাগের ভরসা। অন্যদিকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সালাহর পাস ও মিসরের আক্রমণে ধার এনে দেয় এবং ইমাম আশুরের গোলেও সহায়তা করেন তিনি।

রক্ষণভাগে শীর্ষে আছেন কানাডার ডেরেক কর্নেলিয়াস। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেন তিনি। প্রথম রাউন্ডে সবচেয়ে বেশি ১৭ বার বল দখলে ফেরান এই ডিফেন্ডার। এ ছাড়া ১৩ বার বিপদমুক্ত করেন নিজেদের রক্ষণভাগ, চারটি ট্যাকল করেন এবং চারটি শট আটকে দেন। 

একই ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নিকোলা কাটিচও নজর কেড়েছেন। তিনি ১২ বার বল ক্লিয়ার করেন, পাঁচটি শট আটকে দেন এবং সাতটি ট্যাকল করেন। এ ছাড়া ১১ বার বল দখলে ফেরানোর পাশাপাশি এরিংয়াল ডুয়েলে ১১টি লড়াইয়ে জয় পান। নিজের দলের রক্ষণ সামলাতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

এই তালিকায় আছেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টাইলার অ্যাডামস ও কেপ ভার্দের সিদনি লোপেস কাবরালও। অ্যাডামসের নেতৃত্বে প্যারাগুয়েকে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে কেপ ভার্দের অন্যতম নায়ক ছিলেন সিদনি। তিনি পাঁচটি শট আটকে দেন, পাঁচটি ট্যাকল করেন এবং ১০ বার বল দখলে ফেরান।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]