হিতকরী আত্মীয়স্বজন

প্রকাশ : ১৪ অগাস্ট ২০২৫, ১৩:১৬ , অনলাইন ভার্সন
জীবনের প্রতিটি ধাপে আত্মীয়স্বজন আমাদের পাশে থাকে একেকটি ছায়ার মতো। কখনো তারা হয় সঙ্গী, আবার কখনো হয় ব্যথার কারণ। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই-আত্মীয়স্বজন আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা রক্তের সম্পর্ক, সমাজের ভিত্তি এবং পারিবারিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এই সম্পর্কগুলো কখনো গভীর ভালোবাসার আবার কখনো নিঃশব্দ কষ্টের। তাই আত্মীয়স্বজন নিয়ে কিছু উক্তি আমাদের মনের অনেক অজানা অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায়।
সব আত্মীয়স্বজন আপন হয় না, কিছু আত্মীয় কেবল স্বার্থের সময়ই আপন হয়। পরিচিত মুখগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় অভিনয়শিল্পী, আর আত্মীয়স্বজনের মধ্যেই থাকে সবচেয়ে বড় প্রতারক। স্বার্থ থাকলে আত্মীয়স্বজন খোঁজ নেয়, স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে ভুলে যায়। রক্তের সম্পর্ক থাকলেই আত্মীয় হওয়া যায় না, হৃদয়ের সম্পর্কই আসল আত্মীয়তা। পরের অবহেলা কষ্ট দেয় না, আত্মীয়দের অবহেলাই সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।

যখন তুমি ব্যর্থ হবে, আত্মীয়স্বজন মুখ ফিরিয়ে নেবে, আর যখন তুমি সফল হবে, তখন তারাই তোমার সবচেয়ে আপন সাজতে আসবে। সফল হলে আত্মীয় বাড়ে, বিপদে পড়লে আপনজনও দূরে সরে যায়। নিজেকে শক্ত করো, আত্মীয়স্বজন সবাই তোমাকে বুঝতে আসবে না। বিপদে যারা পাশে থাকে, তারাই আসল আত্মীয়, বাকিরা শুধু নামমাত্র সম্পর্ক। যাদের মন ছোট, তাদের আত্মীয়তা বড় হয় না। আসল আত্মীয়স্বজন সেই, যারা সুখে-দুঃখে একসাথে থাকে।
সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে নয়, বিশ্বাস আর ভালোবাসায় টিকে থাকে! সৎ ও নির্ভরযোগ্য আত্মীয় পাওয়া আজকের যুগে এক বড় আশীর্বাদ। আসল আত্মীয় তারাই, যারা দূরে থেকেও মনের কাছে থাকে। রক্তের সম্পর্ক থাকলেই আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। আত্মার সম্পর্কই সত্যিকারের আত্মীয়তার পরিচয় দেয়। আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা তখনই বোঝা যায়, যখন সত্যিকারের প্রয়োজন হয়। যে আত্মীয় কষ্টের সময় পাশে থাকে না, সে শুধু নামের আত্মীয়-হৃদয়ের নয়। কিছু আত্মীয় আছে, যারা শুধু সুখের সময়েই আপন হয়ে ওঠে, দুঃখের সময় নয়।

যে আত্মীয়স্বজন শুধু স্বার্থের জন্য কাছে আসে, তাদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। সব সম্পর্কই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আত্মার সম্পর্ক ছাড়া রক্তের সম্পর্ক অর্থহীন। আত্মীয়স্বজনের আসল মূল্যায়ন বিপদের মুহূর্তেই বোঝা যায়। আত্মীয় শুধু নামের জন্য নয়, হৃদয়ে স্থান পাওয়ার মতো হওয়া উচিত। সবাই আত্মীয় হতে পারে, কিন্তু সবাই আপন হতে পারে না। আত্মীয়স্বজন মানে শুধু সম্পর্ক নয়, মানে ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং একে অপরের পাশে থাকা। স্বার্থের সম্পর্ক কখনো টেকে না, কিন্তু ভালোবাসার সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয়।

রক্তের সম্পর্ক থাকলেই আত্মীয় হওয়া যায় না; সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য ভালোবাসা, সম্মান ও আন্তরিকতাই আসল। আত্মীয়স্বজন রক্তের সম্পর্কের বাঁধনে গাঁথা, কিন্তু হৃদয়ের বন্ধনই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে। আত্মীয়তার প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন বিপদে পড়ে তাদের পাশে পাওয়া যায়। সম্পর্ক শুধু রক্তের নয়, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মাধ্যমেও আত্মীয়তা গড়ে ওঠে। আত্মীয়রা সব সময় কাছের মানুষ হয় না, কিছু কাছের মানুষ আত্মীয়ের চেয়েও আপন হয়। আত্মীয়তা রক্ষার জন্য ভালোবাসা ও সহনশীলতাই প্রধান চাবিকাঠি।

যে আত্মীয় কেবল সুখের দিনে পাশে থাকে, সে প্রকৃত আত্মীয় নয়। আত্মীয়তা শুধু জন্মসূত্রে পাওয়া যায় না, ভালোবাসা দিয়ে অর্জন করাও যায়। যে আত্মীয় স্বার্থের জন্য আসে, সে আত্মীয় নয়, শুধুই এক পরিচিত মুখ। বড় হওয়ার সাথে সাথে বুঝতে পারি, আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সহজ নয়। আত্মীয়তা টিকিয়ে রাখতে চাইলে অহংকারকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। আত্মীয়রা তখনই মূল্যবান, যখন তারা শুধু দুঃখের নয়, সুখের সঙ্গীও হয়। রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার বন্ধন চিরকাল অটুট থাকে।

আত্মীয়তা শুধু নামের জন্য নয়, মনের জন্যও হওয়া উচিত। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন হলো জীবনের শক্তির মূল উৎস। একজন ভালো আত্মীয় হাজারো পরের চেয়ে মূল্যবান। পরিচিত মুখগুলোই কখনো কখনো সবচেয়ে অচেনা হয়ে যায়, আর আত্মীয়রাই কখনো কখনো সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। রক্তের সম্পর্ক থাকলেই যে ভালোবাসা থাকবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। আত্মীয়রাই কখনো কখনো সবচেয়ে বেশি আঘাত দেয়। শত্রু বাইরে নয়, শত্রু অনেক সময় ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, আত্মীয়ের রূপ ধরে।

পরিবারের নামেই সবাই আত্মীয়, কিন্তু সবাই পরিবারের মতো নয়। বাইরের মানুষের কথা এড়িয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু আত্মীয়স্বজনের কথাগুলো কখনো কখনো হৃদয়ে ছুরি বসিয়ে দেয়! সবাই রক্তের সম্পর্ক নিয়ে গর্ব করে, কিন্তু কষ্টটা তখনই বেশি লাগে, যখন সেই রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোই আঘাত দেয়। আত্মীয়দের থেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা আশা করি, কিন্তু কষ্টও সবচেয়ে বেশি তারাই দেয়। নিজের চেয়ে বেশি কাছের মানুষগুলো যখন অবহেলা করে, তখন কষ্টটা সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়।

সম্পর্ক যখন স্বার্থের ওপর নির্ভর করে, তখন আত্মীয়স্বজনও অচেনা হয়ে যায়। কিছু আত্মীয় শুধু নামেই আত্মীয়, তাদের মন আসলে স্বার্থের কাঠপুতুল ছাড়া কিছুই নয়। আত্মীয়স্বজন শুধু খোঁজ নেয় যখন তাদের প্রয়োজন থাকে, আর যখন আমি কষ্টে থাকি, তখন সবাই ব্যস্ত। জীবনে টাকার মূল্য না থাকলে আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসার মূল্যও থাকত না।

আত্মীয়স্বজন শুধু মুখে বলে ‘আমরা তোমার আপন’, কিন্তু কাজে প্রমাণ করে, তোমার সুখ- দুঃখে আমাদের কিছু যায় আসে না। অধিকাংশ আত্মীয়ের ভালোবাসা স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল, স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে সম্পর্কও ফুরিয়ে যায়। কিছু আত্মীয় আছে, যারা সামনে মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু পেছনে বিষ ছড়ায়। কিছু আত্মীয় এতটাই পর হয়ে যায় যে তাদের থেকে অচেনা মানুষও ভালো। সবাই বলে, আত্মীয়স্বজন সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা শুধু সুখে হাততালি দেয় আর দুঃখে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

যে আত্মীয়স্বজন শুধু প্রয়োজন ফুরালেই খোঁজ নেয়, তাদের ভালোবাসা হিসাবের খাতা ছাড়া কিছু নয়। স্বার্থপর আত্মীয়রা ছায়ার মতোÑআলোতে পাশে থাকে, অন্ধকারে হারিয়ে যায়। পরিচয়ের আগে মনুষ্যত্ব দরকার, আত্মীয় হয়েও অনেকেই মানুষ হতে পারে না। স্বার্থের খেলায় আত্মীয়রা পাশা বদলায়, তখন আপন মুখগুলোও অচেনা লাগে। ভালোবাসা যদি স্বার্থ মেপে হয়, তবে সেই আত্মীয়তা থেকেও দূরত্ব অনেক ভালো। সব আত্মীয় কাছের নয়, কিছু আত্মীয় কাছাকাছি এলেই বোঝা হয়। স্বার্থপর আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে যত দূর থাকা যায়, মানসিক শান্তি তত বেশি থাকে।

কিছু আত্মীয়স্বজন তোমার ভালো দেখতে পারে না, তারা কেবল তোমার ব্যর্থতার অপেক্ষায় থাকে। পরের অবহেলা সহ্য করা যায়, কিন্তু আত্মীয়দের অবহেলা হৃদয় ভেঙে দেয়। রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোই যখন অবহেলা করে, তখন বুঝতে হবে ভালোবাসার থেকেও স্বার্থ বড় হয়েছে। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে আত্মীয়রাই প্রথম দূরে সরে যায়, তখন সম্পর্ক কেবল নামেই থেকে যায়। যাদের আপন ভেবে ভালোবেসেছি, তারাই একদিন প্রয়োজন ফুরোলে অবহেলা করেছে। কিছু আত্মীয়স্বজন শুধু দুঃসময়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবে কেবল স্বার্থের সময় দেখা দেয়। সম্পর্ক তখনই বোঝা যায়, যখন দরকারে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। আত্মীয়স্বজনের অবহেলা তখন সবচেয়ে বেশি পোড়ায়।

স্বার্থ চলে গেলে আত্মীয়ও পর হয়ে যায়, এটাই বাস্তবতা। আত্মীয়দের অবহেলা সেই আয়নার মতো, যা আমাদের সত্যিকারের অবস্থান দেখিয়ে দেয়। যে আত্মীয় বিপদে অবহেলা করে, সুখে তার ভালোবাসা নিছক ভণ্ডামি। আত্মীয়রা যদি আপন হতো, তাহলে কষ্টের দিনে পরের দরজায় যেতে হতো না। নিঃস্ব মানুষের আত্মীয় কমে যায়, আর ধনী মানুষের আত্মীয় বাড়তে থাকে।
আত্মীয়স্বজন তখনই অবহেলা করে, যখন তারা তোমাকে প্রয়োজনহীন মনে করে। সব আঘাত বাইরে থেকে আসে না, কিছু আঘাত খুব আপন নামধারীদের হাত থেকেই আসে। আপন মানুষ যখন অবহেলা করে, তখন অপরিচিতের অবহেলাও সহজ লাগে। আত্মীয়স্বজনের খারাপ ব্যবহার এমন এক বিষ, যা ধীরে ধীরে ভেতরটা নিঃশেষ করে দেয়। রক্তের সম্পর্কের চেয়ে আচরণ অনেক বেশি মূল্যবান। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে ব্যবহার, নাম নয়।

আপন বলেই তাদের আচরণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে। দূরের মানুষ আঘাত দিলে এতটা লাগে না। ভালো ব্যবহারের অভাব রক্তের সম্পর্ককেও অচেনা করে দেয়। মিষ্টি কথায় মুখোশ পরে থাকা আত্মীয়দের চেনা কঠিন, কিন্তু ব্যবহারে তাদের আসল রূপ ধরা পড়ে। আত্মীয়ের খারাপ ব্যবহার হলো সেই শিক্ষা, যা মানুষকে মানুষ চেনার পাঠ দেয়।

ইসলামের শিক্ষা : ইসলামে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা ও তাদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এখানে কিছু ইসলামিক বাক্য উপস্থাপন করা হলো। আল্লাহর ইবাদত করো এবং তার সাথে কাউকে শরিক করো না, পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম-মিসকিন, নিকটবর্তী প্রতিবেশী, দূরবর্তী প্রতিবেশী, পাশে বসা সাথি, মুসাফির এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণ করো। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর জন্য আল্লাহর লা’নত ও অভিসম্পাত রয়েছে। তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না : অভ্যস্ত মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং জাদুতে বিশ্বাসী। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে জীবনে সুখ ও শান্তি আসে। আত্মীয়তার সম্পর্ক মানবিক সমাজকে একত্রিত করে। আত্মীয়দের হক আদায়ের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে উত্তম আচরণ করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন। আত্মীয়স্বজনকে সাহায্য করা একটি মহৎ গুণ।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা মহাপাপ। আত্মীয়স্বজন নিয়ে অনুভূতির গভীরতা বোঝানো যায় না শুধু কথায়। এই সম্পর্কগুলো কখনো আশ্রয়, কখনো আবার অভিমানের এক নাম। তাই আত্মীয়তার টান ধরে রাখতে হলে দরকার পারস্পরিক সম্মান, আন্তরিকতা ও বিশ্বাস। আমাদের উচিত শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলা। কারণ আত্মীয়তা তখনই সার্থক, যখন তাতে ভালোবাসার ছোঁয়া থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করার তওফিক দান করুন। আমিন।
M M Shahin, Chairman Board of Editors, Thikana

Corporate Headquarter :

THIKANA : 7409 37th Ave suite 403

Jackson Heights, NY 11372

Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806



Bangladesh Bureau : THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath),
5th Floor, Dhaka- 1205, Bangladesh.
Mobile: 01711238078