​অভিবাসন নীতিতে বড় আইনি ধাক্কার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে পরপর দুটি আইনি বাধার মুখে পড়েছে। একদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসায় নতুন সময়সীমা আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। অন্যদিকে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি।

স্থানীয় সময় ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বোস্টনের ফেডারেল বিচারক এফ. ডেনিস সেলার (চতুর্থ) ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর স্থগিত করেন। খবর আল জাজিরার।

নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা সর্বোচ্চ চার বছরের জন্য সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে, সেটি সর্বোচ্চ ২৪০ দিনের জন্য সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিচারক সেলার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানোর যুক্তিতে এই পরিবর্তনের পক্ষে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) দেওয়া ব্যাখ্যা ‘অত্যন্ত দুর্বল’।

সেলার বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার আওতায় কয়েক কোটি শিক্ষাবিদ গবেষণা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে উচ্চশিক্ষা ও বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

প্রস্তাবিত বিধিনিষেধে প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী প্রভাবিত হতে পারেন।

অন্যদিকে, সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় নেতৃত্ব দিচ্ছে। মোট ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এই জোটে রয়েছে। অন্য মামলাটি করেছে ছয়টি শহর ও কাউন্টির একটি জোট।

নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে কোনো অভিবাসীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘পাবলিক চার্জ’ বলতে ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করা যেত। তবে খাদ্য সহায়তা বা মেডিকেডের মতো নগদ নয়—এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

ট্রাম্প প্রশাসন এখন তার প্রথম মেয়াদের নীতির আদলে ওই বিধিনিষেধ আবার চালু করতে চাইছে। এর ফলে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেডের মতো সরকারি সুবিধা গ্রহণকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো বলছে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের নিয়ম করার এখতিয়ার প্রশাসনের নেই। তাদের দাবি, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেডের মতো বৈধভাবে পাওয়া সরকারি সুবিধার কারণে আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়া হলে তা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে এবং এটি একটি বেআইনি বিধিনিষেধে পরিণত হবে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য মামলাকারীদের সমালোচনা করে তাদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নতুন এই নিয়ম অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সব সরকারি কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা করে আসছে।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]