রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার তাঁদের উত্তরসূরী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাবা-মায়ের দেখানো পথ ধরে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার পর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমান এবার প্রথমবারের মতো যোগ দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন তিনি। ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২৬ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে যান।
২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ কর্মসূচি। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ কার্যক্রম।
এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন তিনি। এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায়ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার** গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প, দেশের জাতীয় স্বার্থ, গণমানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করাই হবে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও অন্যতম অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এ সংকট যেন আন্তর্জাতিক এজেন্ডা থেকে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টিও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি বা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলো সামনে আনা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরেও এবারের সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ-যাত্রায় তারেক রহমানের এবারের উপস্থিতি একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকেও সামনে এনেছে।
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তী সময়েও তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবার তাঁদের সন্তান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনও নিউইয়র্কে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানও বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
তবে তারেক রহমানের সামনে বিশ্ব পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট, সব মিলিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি এবার বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার পর একই বিশ্বমঞ্চে এবার দাঁড়াচ্ছেন তাঁদের সন্তান। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে তাই শুধু বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ আগামী দিনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চায়-তারও একটি রূপরেখা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তাঁকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২৬ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে তিনি হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে যান।
২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ কর্মসূচি। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ কার্যক্রম।
এরপর অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন তিনি। এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায়ও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার** গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প, দেশের জাতীয় স্বার্থ, গণমানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করাই হবে তাঁর বক্তব্যের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটও অন্যতম অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এ সংকট যেন আন্তর্জাতিক এজেন্ডা থেকে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়টিও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি বা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নগুলো সামনে আনা হবে।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরেও এবারের সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ-যাত্রায় তারেক রহমানের এবারের উপস্থিতি একটি পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকেও সামনে এনেছে।
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তী সময়েও তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এবার তাঁদের সন্তান তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই মঞ্চে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনও নিউইয়র্কে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানও বাংলাদেশের স্বার্থ ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
তবে তারেক রহমানের সামনে বিশ্ব পরিস্থিতি এখন ভিন্ন। যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জলবায়ু সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট, সব মিলিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার বিষয়টি এবার বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার পর একই বিশ্বমঞ্চে এবার দাঁড়াচ্ছেন তাঁদের সন্তান। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে তাই শুধু বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিই নয়, বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ আগামী দিনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করতে চায়-তারও একটি রূপরেখা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।