ট্রাম্পের সঙ্গে গুগল, মেটা, ওপেনএআই, এনভিডিয়া, অ্যানথ্রপিক ও মাস্কের স্বেচ্ছা সমঝোতা

এআই উন্নয়নে নিজেদেরই পাহারাদার প্রযুক্তি জায়ান্টরা

প্রকাশ : ২০২৬-০৯-৩০ ২৩:২৯:০০ , অনলাইন ভার্সন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জনমনে উদ্বেগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক এক সমঝোতায় সই করেছেন বিশ্বের শীর্ষ এআই ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতারা। সমঝোতার মূলকথা হলো, এআই কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রযুক্তির ঝুঁকি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে, তবে তাদের ব্যবস্থাপনা স্বাধীন বহিরাগত নিরীক্ষার আওতায়ও থাকবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এআই খাতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ‘self-policing’ বা স্বনিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে এবং কোম্পানিগুলোও বুঝতে পারছে যে নিজেদের প্রযুক্তিকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।

সমঝোতায় ট্রাম্পের পাশাপাশি সই করেছেন Anthropic⁠-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, Google⁠-এর প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই, Meta⁠-এর প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, OpenAI⁠-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, Nvidia⁠-এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং xAI⁠-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক।

সমঝোতাটি আপাতত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প একে ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে নথিতে ভবিষ্যতে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আইন ও বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে এআই উন্নয়নে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করবেন স্বাধীন বহিরাগত অডিটর। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অধীনে একটি কমিটি থাকবে, যারা অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরীক্ষার প্রতিবেদন মূল্যায়ন করবে।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, পুরো এআই খাতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথাও ভাবা হচ্ছে। সমঝোতার তদারকিতে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামও পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হতে পারে।

এই উদ্যোগ এমন সময়ে এল, যখন স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। OpenAI, Anthropic, Meta ও Google-এর মডেল পরীক্ষার সময় বাইরের নেটওয়ার্কে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এসব ঘটনায় এআই ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিলিকন ভ্যালিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু স্বনিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকদের কেউ মনে করছেন, উদ্ভাবনের স্বাধীনতা বজায় রেখে নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগ এই ব্যবস্থায় রয়েছে। অন্যরা বলছেন, জনস্বার্থ রক্ষার মতো শক্তিশালী প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর নিজেদের ওপরই অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও বৈঠকের পর সতর্কতার কথা বলেছেন। তার মতে, এআই প্রযুক্তির বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে এবং সেই ঝুঁকি কীভাবে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হবে, তার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। 

অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, নিরাপত্তার নামে এমন কোনো নিয়ন্ত্রণ তিনি চান না, যা যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তার দৃষ্টিতে এআই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। ফলে হোয়াইট হাউসের নতুন সমঝোতায় দুটি লক্ষ্যই সামনে রাখা হয়েছে—উদ্ভাবনের গতি ধরে রাখা এবং ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই প্রযুক্তির ওপর নিরাপত্তা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা তৈরি করা।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]