যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অর্থায়নে আবারও বড় আলোচনায় বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারী জর্জ সরোস ও তার পরিবারের নেটওয়ার্ক। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, সরোস-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি নির্বাচনী চক্রে তার প্রতিষ্ঠিত সুপারপ্যাক ‘ডেমোক্র্যাসি প্যাক’-এ ১০২ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছে। একই সময়ে সাম্প্রতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
ডেমোক্র্যাসি প্যাক ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জর্জ সরোস। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সংস্থাটি ১০২ মিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে। এর প্রায় অর্ধেক এসেছে সরোসের মালিকানাধীন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জিওসোর কর্প থেকে এবং বাকি বড় অংশ এসেছে ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম থেকে। প্রতিষ্ঠানটি সরোস প্রতিষ্ঠিত ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনসের সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাটির বোর্ড চেয়ারম্যান তার ছেলে অ্যালেক্স সরোস।
জুনের শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাসি প্যাক প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই অর্থ সরাসরি একজন বা কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে সক্রিয় বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন ও নিরপেক্ষ গোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জনমত জরিপেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পরিচালিত জাতীয় জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন ছিল ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ১১ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপটিতে এক হাজার সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং এর আনুমানিক ত্রুটিসীমা ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
তবে জাতীয় ‘জেনেরিক ব্যালট’ কোনো নির্দিষ্ট কংগ্রেসনাল আসনের ফল নির্দেশ করে না। ফলে এই ১১ পয়েন্টের ব্যবধানকে সরাসরি নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের পৃথক জরিপেও ডেমোক্র্যাটরা সামান্য এগিয়ে। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দেশের ৩৭টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদীয় আসনের ১০৫২ সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৯ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৭ শতাংশ পাওয়া যায়। জরিপটির ত্রুটিসীমা ৩.০২ শতাংশ পয়েন্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ৩৭টি আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প গড়ে ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান জরিপে একই আসনগুলোর সম্মিলিত জেনেরিক ব্যালটে ডেমোক্র্যাটদের ২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ২ পয়েন্টের ব্যবধান জরিপটির ত্রুটিসীমার মধ্যেই রয়েছে। সরোস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম বড় অর্থদাতা। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনী চক্রে তার রাজনৈতিক অনুদান প্রায় ১২৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনী চক্রে ডেমোক্র্যাসি প্যাক সংগ্রহ করেছিল ৮১ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ২০২৪ সালের চক্রে প্রায় ৭২ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের নির্বাচন আরেকটি কারণে সরোস পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে জর্জ সরোস তার রাজনৈতিক ও দাতব্য নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব ছেলে অ্যালেক্স সরোসের হাতে তুলে দেন। এরপর এটিই প্রথম কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। অ্যালেক্স ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন।
অন্যদিকে সরোস পরিবারের রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান মহলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্জ ও অ্যালেক্স সরোসের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভে অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং তাদের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সংস্থাটি সেই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত নেই।
সরোসের ডেমোক্র্যাটপন্থী রাজনৈতিক অর্থায়নের ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জ ডব্লিউ বুশের পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে তিনি প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন কেরির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে এবারের নির্বাচনে শুধু ডেমোক্র্যাটপন্থী বড় দাতারাই বিপুল অর্থ ঢালছেন না। রিপাবলিকানপন্থী ধনাঢ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। ফলে সরোস নেটওয়ার্কের ১০২ মিলিয়ন ডলারকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত ‘মেগাডোনার’ অর্থায়নের প্রেক্ষাপটেই দেখা প্রয়োজন।
নির্বাচনের আগে দুটি বিষয় এখন স্পষ্ট—অর্থের লড়াই যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি ভোটারদের মনোভাবেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে সরোস নেটওয়ার্কের অনুদান এবং ডেমোক্র্যাটদের সাম্প্রতিক জরিপে এগিয়ে থাকার মধ্যে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে, এমন তথ্য নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের প্রচার, অর্থনীতি, যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেমোক্র্যাসি প্যাক ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জর্জ সরোস। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সংস্থাটি ১০২ মিলিয়ন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে। এর প্রায় অর্ধেক এসেছে সরোসের মালিকানাধীন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জিওসোর কর্প থেকে এবং বাকি বড় অংশ এসেছে ফান্ড ফর পলিসি রিফর্ম থেকে। প্রতিষ্ঠানটি সরোস প্রতিষ্ঠিত ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনসের সঙ্গে যুক্ত। সংস্থাটির বোর্ড চেয়ারম্যান তার ছেলে অ্যালেক্স সরোস।
জুনের শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাসি প্যাক প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই অর্থ সরাসরি একজন বা কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারে সীমাবদ্ধ না থেকে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে সক্রিয় বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠন ও নিরপেক্ষ গোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জনমত জরিপেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর পরিচালিত জাতীয় জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন ছিল ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ১১ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপটিতে এক হাজার সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং এর আনুমানিক ত্রুটিসীমা ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
তবে জাতীয় ‘জেনেরিক ব্যালট’ কোনো নির্দিষ্ট কংগ্রেসনাল আসনের ফল নির্দেশ করে না। ফলে এই ১১ পয়েন্টের ব্যবধানকে সরাসরি নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের পৃথক জরিপেও ডেমোক্র্যাটরা সামান্য এগিয়ে। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দেশের ৩৭টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদীয় আসনের ১০৫২ সম্ভাব্য ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৯ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪৭ শতাংশ পাওয়া যায়। জরিপটির ত্রুটিসীমা ৩.০২ শতাংশ পয়েন্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ৩৭টি আসনে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প গড়ে ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান জরিপে একই আসনগুলোর সম্মিলিত জেনেরিক ব্যালটে ডেমোক্র্যাটদের ২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ২ পয়েন্টের ব্যবধান জরিপটির ত্রুটিসীমার মধ্যেই রয়েছে। সরোস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম বড় অর্থদাতা। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনী চক্রে তার রাজনৈতিক অনুদান প্রায় ১২৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনী চক্রে ডেমোক্র্যাসি প্যাক সংগ্রহ করেছিল ৮১ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং ২০২৪ সালের চক্রে প্রায় ৭২ মিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের নির্বাচন আরেকটি কারণে সরোস পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে জর্জ সরোস তার রাজনৈতিক ও দাতব্য নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব ছেলে অ্যালেক্স সরোসের হাতে তুলে দেন। এরপর এটিই প্রথম কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। অ্যালেক্স ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন।
অন্যদিকে সরোস পরিবারের রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে রিপাবলিকান মহলে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্জ ও অ্যালেক্স সরোসের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভে অর্থায়নের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং তাদের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সংস্থাটি সেই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে চূড়ান্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত নেই।
সরোসের ডেমোক্র্যাটপন্থী রাজনৈতিক অর্থায়নের ইতিহাস দুই দশকেরও বেশি পুরোনো। ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জ ডব্লিউ বুশের পুনর্নির্বাচনের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে তিনি প্রায় ২৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলেন এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জন কেরির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তবে এবারের নির্বাচনে শুধু ডেমোক্র্যাটপন্থী বড় দাতারাই বিপুল অর্থ ঢালছেন না। রিপাবলিকানপন্থী ধনাঢ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য। ফলে সরোস নেটওয়ার্কের ১০২ মিলিয়ন ডলারকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত ‘মেগাডোনার’ অর্থায়নের প্রেক্ষাপটেই দেখা প্রয়োজন।
নির্বাচনের আগে দুটি বিষয় এখন স্পষ্ট—অর্থের লড়াই যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি ভোটারদের মনোভাবেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে সরোস নেটওয়ার্কের অনুদান এবং ডেমোক্র্যাটদের সাম্প্রতিক জরিপে এগিয়ে থাকার মধ্যে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে, এমন তথ্য নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের প্রচার, অর্থনীতি, যুদ্ধ ও পররাষ্ট্রনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।