ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কোন খাবারে সতর্ক থাকবেন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩৮ , অনলাইন ভার্সন
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের ক্ষেত্রে গাঁটে ব্যথা, ফোলাভাব ও গাউটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে খাবারদাবার নিয়ে সতর্ক থাকেন অনেকে।

তবে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন খাবার কতটা খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।

চিনি ও পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার
সাদা চিনি, মিষ্টি পানীয় এবং অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজযুক্ত খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস ও মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা বা কমিয়ে দেওয়া ভালো।

পাশাপাশি কেক, কুকিজ ও ময়দা দিয়ে তৈরি খাবারও পরিমিত খাওয়া উচিত।

কিছু সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক খাবার
সার্ডিন, অ্যাঙ্কোভি এবং কিছু সামুদ্রিক মাছের মধ্যে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকে।

শরীরে পিউরিন ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে এ ধরনের মাছ ও সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে সব মাছ বা চিংড়ি সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে, এমন নয়; ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মদ্যপান

মদ্যপান ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং গাউটের আক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করতে পারে। বিশেষ করে বিয়ার ও অতিরিক্ত মদ্যপানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে মদ্যপান এড়িয়ে চলাই ভালো।

প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার
সসেজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ফাস্ট ফুড নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বার্গার, পিৎজা ও এ ধরনের খাবার কম খেয়ে ঘরে তৈরি সুষম খাবার বেছে নেওয়া ভালো। তবে এসব খাবারের সব উপাদান সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়, এমন নয়।

ভাত-রুটি কি বাদ দিতে হবে?
ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে অনেকেই ভাত ও রুটি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু সাধারণ পরিমাণে ভাত বা রুটি খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়, এমন নয়। বরং পরিশোধিত শর্করার বদলে আঁশসমৃদ্ধ শস্য, শাকসবজি এবং সুষম খাবার বেছে নেওয়া উপকারী হতে পারে।

শাকসবজি খাওয়ার ক্ষেত্রেও কি বিধিনিষেধ আছে?
পালংশাক, ফুলকপি ও মটরশুটির মতো কিছু সবজিতে পিউরিন থাকলেও উদ্ভিজ্জ খাবারের পিউরিন সাধারণত প্রাণিজ উচ্চ-পিউরিন খাবারের মতো গাউটের ঝুঁকি বাড়ায় না। তাই শুধু ইউরিক অ্যাসিডের ভয়ে এসব সবজি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া এবং মদ্যপান ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলেই যে গাঁটে ব্যথা হবে, তা নয়। আবার গাঁটে ব্যথা হলেই ইউরিক অ্যাসিড বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো ঠিক নয়।

সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গাঁটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব ও ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা ও ওষুধের মাধ্যমে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]