আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় সারা দেশে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের অতিপ্রয়োজনীয় ছাড়া সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নির্দেশনা-সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার সুযোগ নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তার দাবি, পূজামণ্ডপ, হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটিয়ে সেসবের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টিসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৬টি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, বক্তব্য বা দাবি উপস্থাপন করা যাবে না। পূজা উদ্যাপন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধ ও কোন্দল এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপতথ্য, গুজব বা ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সমন্বয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং তাদের পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত পরিচয়চিহ্ন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রাস্তার পাশে বা অরক্ষিত স্থানে প্রতিমা রাখা যাবে না। বিরোধপূর্ণ স্থানে পূজামণ্ডপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। যেসব স্থায়ী মণ্ডপের পাশে মসজিদ রয়েছে, সেখানে নামাজের সময় গান-বাজনা বন্ধ রাখতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘাটের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপূজায় চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের মতো অপরাধ প্রতিরোধেও পুলিশ সতর্ক থাকবে। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে মেলা বসলে কখনো কখনো মাদকসেবনসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন জানান, রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকের পুলিশ, সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা থাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অনলাইন নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে বলেও জানান তিনি।
আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে নির্দেশনা-সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বিশেষ শাখার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার সুযোগ নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তার দাবি, পূজামণ্ডপ, হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটিয়ে সেসবের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর ঢাকা মহানগরে ২৫৮টিসহ সারা দেশে ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৬টি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, বক্তব্য বা দাবি উপস্থাপন করা যাবে না। পূজা উদ্যাপন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধ ও কোন্দল এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপতথ্য, গুজব বা ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সমন্বয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং তাদের পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত পরিচয়চিহ্ন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রাস্তার পাশে বা অরক্ষিত স্থানে প্রতিমা রাখা যাবে না। বিরোধপূর্ণ স্থানে পূজামণ্ডপ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। যেসব স্থায়ী মণ্ডপের পাশে মসজিদ রয়েছে, সেখানে নামাজের সময় গান-বাজনা বন্ধ রাখতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘাটের সংখ্যা বাড়ানো এবং রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, দুর্গাপূজায় চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের মতো অপরাধ প্রতিরোধেও পুলিশ সতর্ক থাকবে। অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে মেলা বসলে কখনো কখনো মাদকসেবনসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন জানান, রাজধানীর প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকের পুলিশ, সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা থাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অনলাইন নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বডিওর্ন ক্যামেরা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে বলেও জানান তিনি।