রবীন্দ্রনাথ▪️ইউনূস▪️কাদের▪️রুমিন▪️জয়▪️️বাঁধন

বরেণ্যদের হেনস্থার হিড়িক

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ , অনলাইন ভার্সন
মাত্র ৫ সপ্তাহে ৫ খ্যাতিমান নাজেহাল। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ নেপথ্য থেকে। কেউ দেশে, কেউ বিদেশের মাটিতে। সবাই বাংলাদেশের কৃতী সন্তান। সবাই হেনস্থা হয়েছেন স্বদেশীদের দ্বারাই। ‘মব’ সংস্কৃতির বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত। বিশ্বব্যাপী উঠেছে নিন্দার ঝড়। দলীয় দৃষ্টিকোণে অনেকে প্রশংসাও করছেন। তবে হেনস্থাকারীরা পাল্টা হেনস্থার  শিকারও হচ্ছেন। হচ্ছে মামলা-মোকদ্দমা, চলছে ধর-পাকড়ও।
প্রথম আঘাত রবীন্দ্রনাথ
কৌশলে নিয়ন্ত্রিত সংঘাত
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র ‘মহালয়া’। আটদিন পরই  পবিত্র দুর্গা পূজর মহোৎসব। এই সময়েই ঢাকায় ঘটলো সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে মাখানো হলো কালি। জুলাই আন্দোলনের আয়াসপন্থীদের ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন গ্রাফিতি আঁকিয়েছে। সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির পার্শ্বস্থ দেওয়ালচিত্র। নান্দনিক এ আয়োজনে হঠাৎ রাজনৈতিক বিদ্বেষ। হিজাব পরা এক তরুণী করলো কালিমা লেপন। অন্যদিকে এক পুলিশ কর্মকর্তা সরিয়ে দিলো।
বাধা পেয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠলো তরুণী। সংবাদিকদের বললো, এটা আমার প্রতি অন্যায়। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের ইতিহাসের শত্রু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ মুভমেন্টের বিরোধী ছিলেন। ওনার পরিবারের প্রধান ব্যবসা ছিলো বাঈজীবাড়ি পরিচালনা। আমাদের দেশে ওনার প্রতিকৃতির পূজা চলতে পারে না। তরুণী মোবাইল টেক্সট থেকে বিবরণ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ততোক্ষণে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি। মিনি সমাবেশের নেতাদের আটক করলেন। আদালতে তুললে জামিন আবেদন খারিজ হলো। বরং পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হলো নেতা আয়াসকে।
জামিন বিরোধিতায় সরকার পক্ষের উকিলরাও তৎপর। বললেন, কবি রবীন্দ্রনাথ জন্মেছেন বৃটিশ বাংলায়। ১৮৬১ সালের ৭ মে বা ২৫ বৈশাখ। মৃত্যুও হয়েছে ১৯৪১-এর ৭ আগস্ট। তখনও ভারত, পাকিস্তান বা  বাংলাদেশের জন্মই হয়নি। তাহলে উনি কিভাবে বাংলাদেশ-বিরোধী হতে পারেন? বরং ওনার রচিত গানই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে। ১৯২৬-এ তিনি সম্মানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘ডিলিট’ প্রদান করে। উনি শত্রু হলে তো এরকম সম্মান প্রদান সম্ভব হতো না। ১৯১৩ সালে নোবেল প্রাপ্তির পর আরো দৃষ্টান্ত রাখেন। নওগাঁর পতিসরে সমিতি’র মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দেন। জমিদার হয়েও নোবেলে’র টাকা মানবকল্যাণে সঁপে দিয়েছেন। সুতরাং তাঁকে অপমান করা রাষ্ট্রীয় অপরাধ।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট হামলাকারীরা এখন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামী। রবীন্দ্র প্রতিকৃতিতে আঘাতের প্রতিবাদে সংস্কৃতিসেবীরা সোচ্চার। রবীন্দ্রবিরোধী পক্ষও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্কে ‘ওরালথ্রেটে’ নোবেলজয়ী ড. ইউনূস  
আ.লীগের হেনস্থাকারীরাও তুমুল তোপের মুখে
২০০৬-এর অক্টোবরে শান্তিতে নোবেল পান ড.  ইউনূস। ঘোষণার ২০ বছরের মাথায় পেলেন হেনস্থামূলক অশান্তি। ‘ইউ আর টেররিস্ট, ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি। হোয়াই ইউ কেম ইন দিজ কান্ট্রি?’ এমন আক্রমণাত্মক ভাষায় অকথ্য গালাগালি। নিউইয়র্ক ‘জেএফকে’ এয়ারপোর্টে  পরিকল্পিত আক্রমণ। মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা এতে নেতৃত্ব দেন। ছিলেন ইমদাদ চৌধুরী, সাগর চৌধুরী, মিজান চৌধুরী। এছাড়াও সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল, তানভীর কায়সার প্রমুখ।
উল্লেখিত ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনা সর্বত্র, নিন্দার ঝড়ও। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। তাঁর সন্তান সোহেল তাজ দিয়েছেন আলোড়িত মতামত। বলেন, আমার বাবাকে মারার পরও এতোটা কষ্ট পাইনি। যতোটা পেয়েছি প্রফেসর ইউনূসকে অপমানিত হতে দেখে। 
সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও পোস্ট দিয়েছেন। বলেছেন, ‘ঘটনাটি সূর্যের প্রতি মোমবাতির ঢিল জাতীয়’। এতে আওয়ামী লীগ তার সন্ত্রাসী পরিচয়কে আরো পোক্ত করলো।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ অবশ্য আক্রমণের নিন্দা করেনি। বলেছে, ড. ইউনূস দেশের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। ‘মব পরিস্থিতি’র পক্ষে ছিলো ওনার অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশ ও হাম-শিশু হত্যার দায় তাকেই নিতে হবে। গণক্ষোভ থেকে তার প্রতি অশালীন আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী মূল্যায়ন। মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন প্রবাসীদের মধ্যে মুখ্যভূমিকা। হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী মুহিত আত্মজীবনীতে বিস্তারিত লিখেছেন। ড. ইউনূস সম্পাদিত একাত্তরের কথিকা জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনাও দেয়।
২০২৪-এর হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে তিনি অংশ নেননি। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পুরোপুরি পলাতক/ক্ষমতাহীন। তরুণ নেতাদের আমন্ত্রণে তিনি প্যারিস থেকে ৮ আগস্ট দেশে ফেরেন। শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের। পৌনে দুই বছরে সফলভাবে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেন। তবে নিজে অসংখ্য সুবিধে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেএফকে’তে ‘আওয়ামী হেনস্থা’র প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারপক্ষ। উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রশাসনিক ভূমিকার কথা বলেছেন। অন্যদিকে হেনস্থাকারীরাদের নিজেরাও হেনস্থার মুখোমুখি। বিএনপির কিছু অ্যাক্টিভিস্ট ড. ইউনূসকে আক্রমণের বদলা নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন উদ্যোগী হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা।
বিএনপি ‘ড. ইউনূসের ওপর আক্রমণ’কে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের যুক্তটিকে পোক্ত করছে। বহির্বিশ্বে আওয়ামী লীগকে পঁচানোর সুযোগটি কাজে লাগাতেও সচেষ্ট হয়েছে।
ঘরবন্দি জাপা নেতা ‘আওয়ামী দোসর’ জিএম কাদের
ঘরবন্দি বিএনপিচ্যুত স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা
১২ অক্টোবর উত্তরার বাসায় আকস্মিক আক্রমণ। মিছিল নিয়ে এসে বাড়ি ভাঙচুর, হুমকি, সতর্কীকরণ। অভিযোগ জাপা-প্রধান জিএম কাদের আওয়ামীপন্থী। শেখ হাসিনার সঙ্গে আঁড়ি পেতে ফোনে কথা বলেন।
এছাড়া ভারতপন্থী বলেও লালবাহিনীর চোখরাঙানি।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র এমপি ব্যরিস্টার রুহিন ফারহানাও ঘরবন্দি। টিভির সামনে বলেছেন, তিনি বিএনপি-আতঙ্কে আছেন। আওয়ামী লীগের বদল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে করছেন মন্তব্য। সেগুলো হজম না হওয়ায় হুমকি পাচ্ছেন নেতাদের। বলছেন, নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে ভয় পাচ্ছি। ভবিষ্যত রাজনীতি  বিষয়ে বলছেন, স্বতন্ত্রই ভালো। বাসায় ফিরে শুধু আল্লাহকে হাজিরা দিলেই চলে। বলেন, আর বিএনপিতে ফিরবো না। আওয়ামী লীগেও কখনও যাবো না। এমনকি কোন সংসার জীবনে ঢোকার প্রশ্নও আসে না।
ইতালিতে প্রথমত মবে’র শিকার হন আজমেরী হক বাঁধন। একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অতিথি ছিলেন। সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্রের প্রযোজক এক আওয়ামী মন্ত্রীর মেয়ে। চলচ্চিত্র উৎসবের ফাঁকে পারিবারিকভাবে গিয়েছিলেন পার্কে। সেখানেই রাজনৈতিক মবে’র শিকার হন। জুলাইযোদ্ধা হওয়ায় আওয়ামীপন্থীরা চরম গালিগালাজ করে। বিষয়টি  থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। ইতালি আওয়ামী লীগ  হামলাকারীদের পক্ষে সমাবেশ করে।
একই সময়ে ইতালি সফরে ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র,  প্রযুক্তি উপদেষ্টা। সঙ্গে ছিলো এক শ্বেতাঙ্গিনী বান্ধবী। প্রায় পাঁচবছর পূর্বে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ। বেরসিক প্রতিপক্ষ সেখানেও দেয় হানা। গোপনে তুলতে থাকে রোমান্টিকতার ভিডিও। অবশেষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সম্ভ্রমহরণ। রোমান্টিক সময়ের দুর্লভ চিত্রসমূহ এখন চোখে চোখে। মববাজদের কাছ থেকে বাঁচতে বরেণ্যদের করুণদশা।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]