শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু আনন্দ-উৎসব নয়; এটি শুভর কাছে অশুভের, ন্যায়ের কাছে অন্যায়ের এবং আলোর কাছে অন্ধকারের পরাজয়ের চিরন্তন বার্তা। মা দুর্গার অসুরবধ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমাজের হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ, অন্যায় ও অবিচারই আজকের সময়ের অসুর। তাই দুর্গাপূজার শিক্ষা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ, নিরাপত্তাহীনতা, মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং নানা ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। এসব ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে, আবার একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান, দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও ভাবতে শেখায়। কারণ বাইরের প্রতিকূলতার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যকার বিভাজন, ভুল-বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক দূরত্বও আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।
সনাতন সমাজের ইতিহাস আমাদের শেখায়—ঐক্যই শক্তি। একে অপরকে ছোট করা নয়, সম্মান করা; ভুল খোঁজা নয়, সহযোগিতার হাত বাড়ানো; ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত আমাদের পথচলার ভিত্তি।
দশভুজা মা দুর্গা যেন সেই সম্মিলিত শক্তিরই প্রতীক। তাঁর দশ হাতের মতো আমরা যদি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে একটি অভিন্ন কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করতে পারি, তাহলে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ও শক্তিশালী করা এবং সবার জন্য মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা—এসবই হতে পারে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
দুর্গাপূজার প্রকৃত সার্থকতা শুধু মণ্ডপের সৌন্দর্য, আলোকসজ্জা কিংবা উৎসবের আয়োজনে নয়; এর শিক্ষা যখন আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত হয়, তখনই পূজার তাৎপর্য পূর্ণতা পায়। তাই অসুরবধের প্রতীকী বার্তাকে জীবনে ধারণ করে আমাদের বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস দূর করতে হবে এবং তার জায়গায় গড়ে তুলতে হবে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও মানবিকতার সম্পর্ক।
আসুন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে আমরা একটি নতুন প্রত্যয় গ্রহণ করি, ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’; বিভাজন নয়, ঐক্য; বিরোধ নয়, সহযোগিতা; প্রতিহিংসা নয়, মানবিকতা। একসঙ্গে পথচলার এই মানসিকতাই আমাদের সমাজকে আজ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর করে তুলতে পারে।
মা দুর্গার আশীর্বাদে অশুভের বিনাশ হোক, শুভবোধের জয় হোক এবং সবার জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক।
শুভ শারদীয়া।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বিদ্বেষ, নিরাপত্তাহীনতা, মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর এবং নানা ধরনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। এসব ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে, আবার একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান, দায়িত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও ভাবতে শেখায়। কারণ বাইরের প্রতিকূলতার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যকার বিভাজন, ভুল-বোঝাবুঝি ও পারস্পরিক দূরত্বও আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।
সনাতন সমাজের ইতিহাস আমাদের শেখায়—ঐক্যই শক্তি। একে অপরকে ছোট করা নয়, সম্মান করা; ভুল খোঁজা নয়, সহযোগিতার হাত বাড়ানো; ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত আমাদের পথচলার ভিত্তি।
দশভুজা মা দুর্গা যেন সেই সম্মিলিত শক্তিরই প্রতীক। তাঁর দশ হাতের মতো আমরা যদি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে একটি অভিন্ন কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করতে পারি, তাহলে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করা, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ও শক্তিশালী করা এবং সবার জন্য মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা—এসবই হতে পারে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
দুর্গাপূজার প্রকৃত সার্থকতা শুধু মণ্ডপের সৌন্দর্য, আলোকসজ্জা কিংবা উৎসবের আয়োজনে নয়; এর শিক্ষা যখন আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত হয়, তখনই পূজার তাৎপর্য পূর্ণতা পায়। তাই অসুরবধের প্রতীকী বার্তাকে জীবনে ধারণ করে আমাদের বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস দূর করতে হবে এবং তার জায়গায় গড়ে তুলতে হবে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও মানবিকতার সম্পর্ক।
আসুন, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে আমরা একটি নতুন প্রত্যয় গ্রহণ করি, ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’; বিভাজন নয়, ঐক্য; বিরোধ নয়, সহযোগিতা; প্রতিহিংসা নয়, মানবিকতা। একসঙ্গে পথচলার এই মানসিকতাই আমাদের সমাজকে আজ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর করে তুলতে পারে।
মা দুর্গার আশীর্বাদে অশুভের বিনাশ হোক, শুভবোধের জয় হোক এবং সবার জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক।
শুভ শারদীয়া।