এসেছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই উৎসবের অর্থ কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে শিল্প, সংগীত, সাহিত্য, লোকাচার, পারিবারিক স্মৃতি, সামাজিক মিলন এবং বাঙালির গভীর মাতৃভাবনা।
দেবী দুর্গা এখানে শুধু একটি প্রতিমা নন। তিনি মায়ের প্রতীক, শক্তির প্রতীক, আশ্রয়ের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের প্রতীকও তিনি। আর ‘মা’—এই একটি শব্দের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক যেন অন্য রকম।
বাঙালির সংস্কৃতিতে মাতৃভাবনার শিকড় অনেক গভীরে। এই মাটিকে আমরা মা বলি, জন্মভূমিকে মা বলি, কখনো নদীকে, কখনো প্রকৃতিকে, কখনো ভাষাকেও মায়ের সঙ্গে তুলনা করি। আমাদের কল্পনায় মাটি শুধু মাটি নয়; তার মধ্যে আছে স্মৃতি, আশ্রয়, পরিচয় ও ভালোবাসা। দুর্গার মাতৃরূপ তাই বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনায় সহজেই আপন হয়ে উঠেছে।
বাংলার শাক্ত ঐতিহ্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। শক্তিপূজার নানা পরম্পরা এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতির বিশেষ সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি কখনো একটি মাত্র ধারায় প্রবাহিত হয়নি। শাক্ত, বৈষ্ণব, সুফি, বাউল এবং নানা লোকধর্ম ও লোকাচারের পারস্পরিক সংস্পর্শে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। এই মিলনই বাংলার সংস্কৃতিকে দিয়েছে তার স্বতন্ত্র চরিত্র।
তাই দুর্গোৎসবের দিকে তাকালে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চোখে পড়ে না; দেখা যায় একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসবের ছবি। মৃৎশিল্পীর হাতে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, কারিগরের হাতে মণ্ডপ সাজছে, আলোকশিল্পী আলো দিয়ে গল্প বলছেন, ঢাকিরা বাদ্য বাজাচ্ছেন, কোথাও চলছে গান, কোথাও আবৃত্তি, কোথাও নাটক কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই উৎসবের ভেতরেই ধর্ম ও সংস্কৃতি পাশাপাশি হাঁটে।
উৎসবের একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে—এটি মানুষকে তার শিকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ; সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।’ বাংলার সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও মরমি সাধনার দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে দেখার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য আমাদের আছে।
লালন শাহ প্রশ্ন করেছিলেন :
‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে,
লালন বলে জাতের কী রূপ, দেখলাম না এই নজরে।’
এই প্রশ্ন শুধু জাতের প্রশ্ন নয়; মানুষের পরিচয় নিয়ে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।
লালনের দর্শনে মানুষই ছিল অনুসন্ধানের কেন্দ্র। বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি খুঁজেছেন অন্তরের মানুষকে। তাঁর গান আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে বিভাজনের আগে তাকে মানুষ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
কাজী নজরুল ইসলামও সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠকে উচ্চকিত করেছেন। তাঁর বিখ্যাত উচ্চারণ :
‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’
নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মপরিচয়ের একটি অংশ; কিন্তু মানবতা ছিল তার ঊর্ধ্বে। তাঁর কবিতা, গান ও জীবনচর্চায় হিন্দু-মুসলমানের মিলনের আকাঙ্ক্ষা বারবার ফিরে এসেছে।
রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী চিন্তাতেও মানুষের বৃহত্তর পরিচয় কোনো সংকীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ নয়। তাঁর গীতাঞ্জলির সেই আকাঙ্ক্ষা—‘যেথায় বিশ্ব হয় একাকার’—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষকে শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর মানবসমাজের অংশ হিসেবেই দেখতে হয়।
এই সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্প্রীতি কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া ধারণা নয়। এর শিকড় আমাদের গান, কবিতা, লোককথা, সাধনা এবং দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের বহু গভীরে।
ধর্ম আলাদা, মানবতা এক। পৃথিবীর বড় বড় ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের দিকে তাকালেও আমরা মানবিকতার একটি সাধারণ সুর শুনতে পাই। ধর্মের ভাষা আলাদা। উপাসনার পদ্ধতি আলাদা। আচার আলাদা। কিন্তু ভালোবাসা, করুণা, ন্যায় ও সহমর্মিতার আহ্বানে আশ্চর্য এক মিল রয়েছে। তাই ধর্মকে যদি আমরা সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করি, তবে তার প্রকাশ অন্যের প্রতি ঘৃণায় নয়; মানবিকতায় হওয়ার কথা। অসাম্প্রদায়িকতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বরং নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অন্যের ধর্ম পালনের অধিকারকে সম্মান করা। আমার বিশ্বাস আমার কাছে যেমন মূল্যবান, অন্যের বিশ্বাসও তার কাছে তেমনই মূল্যবান—এই সহজ সত্যটি গ্রহণ করতে পারাই সম্প্রীতির প্রথম পাঠ।
সেই প্রেক্ষাপটে জিজ্ঞাসা হতে পারে, আজকের অসুর কে কিংবা কোথায়?
জগজ্জননী দেবী দুর্গার হাতে অস্ত্র আছে। কিন্তু সেই অস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে নয়; অশুভের বিরুদ্ধে। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুর অশুভ শক্তির প্রতীক। আমাদের সময়ের অসুরের চেহারা অবশ্য বদলে গেছে। আজ তার রূপ হতে পারে ঘৃণা, বিদ্বেষ, গুজব, মিথ্যা তথ্য, ধর্মীয় উসকানি, বৈষম্য কিংবা অসহিষ্ণুতা। তাই দুর্গোৎসবের সময় আমাদের নিজেদের কাছেও একটি প্রশ্ন রাখা যায়—
আমরা কি আমাদের সময়ের অসুরকে চিনতে পারছি?
এই প্রশ্নটি আজ বিশেষভাবে জরুরি।
কারণ আমরা এক বিভ্রান্ত, উন্মাদ সময়ের মধ্যে বাস করছি। এটি এমন এক সময় যখন ক্রোধ, ঘৃণা ভালোবাসার চেয়ে শতগুণ দ্রুত ছড়ায়। জীবনানন্দ দাশ সেই কবে বলেছিলেন :
‘ইতিহাস অর্ধসত্যে কামাচ্ছন্ন এখনো কালের কিনারায়;
তবুও মানুষ এই জীবনকে ভালোবাসে; মানুষের মন
জানে জীবনের মানে : সকলের ভালো ক’রে জীবনযাপন।
কিন্তু সেই শুভ রাষ্ট্র ঢের দূরে আজ।
চারিদিকে বিকলাঙ্গ অন্ধ ভীরু অলীক প্রয়াণ।
মন্বন্তর শেষ হলে পুনরায় নব মন্বন্তর;
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে নতুন যুদ্ধের নান্দীরোল;
মানুষের লালসার শেষ নেই;
উত্তেজনা ছাড়া কোনো দিন ঋতু ক্ষণ
অবৈধ সংগম ছাড়া সুখ
অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া ছাড়া প্রিয় সাধ
নেই।
কেবলই আসন থেকে বড়ো, নবতর
সিংহাসনে যাওয়া ছাড়া গতি নেই কোনো।
মানুষের দুঃখ কষ্ট মিথ্যা নিষ্ফলতা বেড়ে যায়।’
সেই হাহাকার আজও বিরাজমান। আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে মিথ্যা আর কপটতা গ্রাস করছে ক্রমশ। আজকাল একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিতে কোনো মাইক্রোফোন কিংবা সভা-সমাবেশের প্রয়োজন হয় না। একটি স্মার্টফোনই যথেষ্ট। একটি পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি ভিডিও মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও বা ভিডিও সত্য বলে মনে হতে পারে। একটি উসকানিমূলক পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
এই জায়গায় আমাদের তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের তরুণেরা শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; তারাই বর্তমানের সবচেয়ে সক্রিয় সামাজিক শক্তি। তাদের হাতে স্মার্টফোন আছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে, তথ্যের অসীম প্রবাহ আছে। তারা চাইলে একটি ভালো বার্তা মুহূর্তে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আবার অসতর্ক হলে তারাই হয়ে উঠতে পারে গুজবের সবচেয়ে দ্রুত বাহক।
তাই সম্প্রীতির চর্চা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। একটি গুজব শেয়ার না করা। কোনো ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য না করা। অন্যের উৎসবকে সম্মান করা। ভিন্নমতের মানুষকে অপমান না করা। কোনো উপাসনালয়ে হামলার খবর শুনে উল্লাস না করে মানবিকভাবে প্রতিবাদ করা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট দেখার পর কয়েক সেকেন্ড থেমে যাওয়া—এটিও আজ একধরনের সামাজিক দায়িত্ব। কারণ প্রযুক্তি আমাদের হাতে শক্তি দিয়েছে। কিন্তু সেই শক্তির সঙ্গে বিবেকও প্রয়োজন।
তা ছাড়া সব সময় ধর্ম নিয়ে কথা বলতে হবে এমন নয়। কখনো একসঙ্গে গান গাওয়াও সম্প্রীতি। একসঙ্গে বই পড়াও সম্প্রীতি। এমনকি একসঙ্গে হাসতে পারাও সম্প্রীতি। বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় সম্প্রীতি।
তবে সম্প্রীতি একমুখী নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোনো একটি সম্প্রদায়ের একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। একজন মুসলমানের দায়িত্ব আছে তার হিন্দু প্রতিবেশীর পূজা কিংবা ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে পালনের অধিকারকে সম্মান করার। একজন হিন্দুরও দায়িত্ব আছে তার মুসলমান প্রতিবেশীর ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করার। একই কথা বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের মনে রাখতে হবে, সম্প্রীতি কোনো একতরফা অনুগ্রহ নয়। এটি পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক।
তবে সম্প্রীতি রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগ করা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। গণমাধ্যমের দায়িত্ব যাচাই করে তথ্য প্রকাশ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর দায়িত্ব গুজব ও বিদ্বেষ না ছড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তরুণদের দায়িত্বশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলা। কিন্তু রাষ্ট্র একা সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারে না। পুলিশ পাহারা দিতে পারে, প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারে, আইন অপরাধের শাস্তি দিতে পারে; কিন্তু মানুষের মনে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করতে হয় পরিবারে, শ্রেণিকক্ষে, বন্ধুত্বে, প্রতিবেশে এবং নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়ে। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে নিরাপদ হয়, যখন মানুষ শুধু নিজের উপাসনালয় নয়, অন্যের উপাসনালয়কেও নিরাপদ দেখতে চায়। একটি মন্দির শুধু একটি স্থাপনা নয়। তার সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা ও অনুভূতি জড়িয়ে আছে। একইভাবে একটি মসজিদ, একটি গির্জা, একটি বৌদ্ধবিহারও কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়। এগুলো মানুষের আত্মিক আশ্রয়ের জায়গা। অন্যের বিশ্বাসের জায়গাকে নিরাপদ রাখতে পারা মানে শেষ পর্যন্ত নিজের মানবিকতাকেই নিরাপদ রাখা।
মায়ের কাছে সন্তানই আগে। শারদীয় দুর্গোৎসব তাই শুধু দেবীর আরাধনার সময় নয়; নিজের ভেতরের অশুভকে চিনে নেওয়ারও সময়। আমাদের ভেতরের অহংকার, ঘৃণা, হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধেও একধরনের অসুরবধ প্রয়োজন। দুর্গার হাতে যে অস্ত্র, তা আমাদের কাছে প্রতীক হয়ে উঠুক—অন্য মানুষের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই অস্ত্র হোক মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের, গুজবের বিরুদ্ধে বিবেকের, ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের।
জগজ্জননীর আরাধনার সূত্রটি নিহিত থাকে সকল মানুষের জন্য মঙ্গল কামনায়, সমাজের সার্বিক শুভচিন্তায়। বিদ্বেষ-বিভেদে নয়। তাই পরিশেষে বলব, উৎসবের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিমায় নয়; মানুষের মুখে ফুটে ওঠা আনন্দে। সবচেয়ে বড় পূজা হয়তো ফুল, ধূপ কিংবা প্রদীপে নয়—একজন মানুষের বিপদে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। ঘৃণার বিপরীতে প্রীতি, বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা, অমানবিকতার বিপরীতে মানবিকতাই হয়ে উঠুক পূজার মূল লক্ষ্য। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব হোক শুধু মাতৃ আরাধনার উৎসব নয়—মানুষকে নতুন করে আবিষ্কারের উৎসব। অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের উৎসব। বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভালোবাসার উৎসব। বিভাজনের বিরুদ্ধে সহমর্মিতার উৎসব। আর ধর্মীয় পরিচয়ের বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশের স্বপ্নকে আরও একটু কাছে টেনে নেওয়ার উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের আলো তাই শুধু পূজামণ্ডপে না জ্বলুক—জ্বলে উঠুক মানুষের মনেও।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
দেবী দুর্গা এখানে শুধু একটি প্রতিমা নন। তিনি মায়ের প্রতীক, শক্তির প্রতীক, আশ্রয়ের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের প্রতীকও তিনি। আর ‘মা’—এই একটি শব্দের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক যেন অন্য রকম।
বাঙালির সংস্কৃতিতে মাতৃভাবনার শিকড় অনেক গভীরে। এই মাটিকে আমরা মা বলি, জন্মভূমিকে মা বলি, কখনো নদীকে, কখনো প্রকৃতিকে, কখনো ভাষাকেও মায়ের সঙ্গে তুলনা করি। আমাদের কল্পনায় মাটি শুধু মাটি নয়; তার মধ্যে আছে স্মৃতি, আশ্রয়, পরিচয় ও ভালোবাসা। দুর্গার মাতৃরূপ তাই বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনায় সহজেই আপন হয়ে উঠেছে।
বাংলার শাক্ত ঐতিহ্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। শক্তিপূজার নানা পরম্পরা এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু বাংলার সংস্কৃতির বিশেষ সৌন্দর্য এখানেই যে, এটি কখনো একটি মাত্র ধারায় প্রবাহিত হয়নি। শাক্ত, বৈষ্ণব, সুফি, বাউল এবং নানা লোকধর্ম ও লোকাচারের পারস্পরিক সংস্পর্শে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। এই মিলনই বাংলার সংস্কৃতিকে দিয়েছে তার স্বতন্ত্র চরিত্র।
তাই দুর্গোৎসবের দিকে তাকালে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চোখে পড়ে না; দেখা যায় একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসবের ছবি। মৃৎশিল্পীর হাতে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, কারিগরের হাতে মণ্ডপ সাজছে, আলোকশিল্পী আলো দিয়ে গল্প বলছেন, ঢাকিরা বাদ্য বাজাচ্ছেন, কোথাও চলছে গান, কোথাও আবৃত্তি, কোথাও নাটক কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই উৎসবের ভেতরেই ধর্ম ও সংস্কৃতি পাশাপাশি হাঁটে।
উৎসবের একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আছে—এটি মানুষকে তার শিকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়। রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ; সেদিন সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সে সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া মহৎ।’ বাংলার সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও মরমি সাধনার দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষকে ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে দেখার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য আমাদের আছে।
লালন শাহ প্রশ্ন করেছিলেন :
‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে,
লালন বলে জাতের কী রূপ, দেখলাম না এই নজরে।’
এই প্রশ্ন শুধু জাতের প্রশ্ন নয়; মানুষের পরিচয় নিয়ে এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।
লালনের দর্শনে মানুষই ছিল অনুসন্ধানের কেন্দ্র। বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি খুঁজেছেন অন্তরের মানুষকে। তাঁর গান আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে বিভাজনের আগে তাকে মানুষ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
কাজী নজরুল ইসলামও সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠকে উচ্চকিত করেছেন। তাঁর বিখ্যাত উচ্চারণ :
‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান,
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’
নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মপরিচয়ের একটি অংশ; কিন্তু মানবতা ছিল তার ঊর্ধ্বে। তাঁর কবিতা, গান ও জীবনচর্চায় হিন্দু-মুসলমানের মিলনের আকাঙ্ক্ষা বারবার ফিরে এসেছে।
রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী চিন্তাতেও মানুষের বৃহত্তর পরিচয় কোনো সংকীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ নয়। তাঁর গীতাঞ্জলির সেই আকাঙ্ক্ষা—‘যেথায় বিশ্ব হয় একাকার’—আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষকে শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর মানবসমাজের অংশ হিসেবেই দেখতে হয়।
এই সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সম্প্রীতি কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া ধারণা নয়। এর শিকড় আমাদের গান, কবিতা, লোককথা, সাধনা এবং দৈনন্দিন সামাজিক জীবনের বহু গভীরে।
ধর্ম আলাদা, মানবতা এক। পৃথিবীর বড় বড় ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের দিকে তাকালেও আমরা মানবিকতার একটি সাধারণ সুর শুনতে পাই। ধর্মের ভাষা আলাদা। উপাসনার পদ্ধতি আলাদা। আচার আলাদা। কিন্তু ভালোবাসা, করুণা, ন্যায় ও সহমর্মিতার আহ্বানে আশ্চর্য এক মিল রয়েছে। তাই ধর্মকে যদি আমরা সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করি, তবে তার প্রকাশ অন্যের প্রতি ঘৃণায় নয়; মানবিকতায় হওয়ার কথা। অসাম্প্রদায়িকতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বরং নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অন্যের ধর্ম পালনের অধিকারকে সম্মান করা। আমার বিশ্বাস আমার কাছে যেমন মূল্যবান, অন্যের বিশ্বাসও তার কাছে তেমনই মূল্যবান—এই সহজ সত্যটি গ্রহণ করতে পারাই সম্প্রীতির প্রথম পাঠ।
সেই প্রেক্ষাপটে জিজ্ঞাসা হতে পারে, আজকের অসুর কে কিংবা কোথায়?
জগজ্জননী দেবী দুর্গার হাতে অস্ত্র আছে। কিন্তু সেই অস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে নয়; অশুভের বিরুদ্ধে। পৌরাণিক কাহিনিতে মহিষাসুর অশুভ শক্তির প্রতীক। আমাদের সময়ের অসুরের চেহারা অবশ্য বদলে গেছে। আজ তার রূপ হতে পারে ঘৃণা, বিদ্বেষ, গুজব, মিথ্যা তথ্য, ধর্মীয় উসকানি, বৈষম্য কিংবা অসহিষ্ণুতা। তাই দুর্গোৎসবের সময় আমাদের নিজেদের কাছেও একটি প্রশ্ন রাখা যায়—
আমরা কি আমাদের সময়ের অসুরকে চিনতে পারছি?
এই প্রশ্নটি আজ বিশেষভাবে জরুরি।
কারণ আমরা এক বিভ্রান্ত, উন্মাদ সময়ের মধ্যে বাস করছি। এটি এমন এক সময় যখন ক্রোধ, ঘৃণা ভালোবাসার চেয়ে শতগুণ দ্রুত ছড়ায়। জীবনানন্দ দাশ সেই কবে বলেছিলেন :
‘ইতিহাস অর্ধসত্যে কামাচ্ছন্ন এখনো কালের কিনারায়;
তবুও মানুষ এই জীবনকে ভালোবাসে; মানুষের মন
জানে জীবনের মানে : সকলের ভালো ক’রে জীবনযাপন।
কিন্তু সেই শুভ রাষ্ট্র ঢের দূরে আজ।
চারিদিকে বিকলাঙ্গ অন্ধ ভীরু অলীক প্রয়াণ।
মন্বন্তর শেষ হলে পুনরায় নব মন্বন্তর;
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে নতুন যুদ্ধের নান্দীরোল;
মানুষের লালসার শেষ নেই;
উত্তেজনা ছাড়া কোনো দিন ঋতু ক্ষণ
অবৈধ সংগম ছাড়া সুখ
অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া ছাড়া প্রিয় সাধ
নেই।
কেবলই আসন থেকে বড়ো, নবতর
সিংহাসনে যাওয়া ছাড়া গতি নেই কোনো।
মানুষের দুঃখ কষ্ট মিথ্যা নিষ্ফলতা বেড়ে যায়।’
সেই হাহাকার আজও বিরাজমান। আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে মিথ্যা আর কপটতা গ্রাস করছে ক্রমশ। আজকাল একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিতে কোনো মাইক্রোফোন কিংবা সভা-সমাবেশের প্রয়োজন হয় না। একটি স্মার্টফোনই যথেষ্ট। একটি পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি ভিডিও মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি অডিও বা ভিডিও সত্য বলে মনে হতে পারে। একটি উসকানিমূলক পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
এই জায়গায় আমাদের তরুণদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের তরুণেরা শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; তারাই বর্তমানের সবচেয়ে সক্রিয় সামাজিক শক্তি। তাদের হাতে স্মার্টফোন আছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে, তথ্যের অসীম প্রবাহ আছে। তারা চাইলে একটি ভালো বার্তা মুহূর্তে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আবার অসতর্ক হলে তারাই হয়ে উঠতে পারে গুজবের সবচেয়ে দ্রুত বাহক।
তাই সম্প্রীতির চর্চা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। একটি গুজব শেয়ার না করা। কোনো ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য না করা। অন্যের উৎসবকে সম্মান করা। ভিন্নমতের মানুষকে অপমান না করা। কোনো উপাসনালয়ে হামলার খবর শুনে উল্লাস না করে মানবিকভাবে প্রতিবাদ করা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট দেখার পর কয়েক সেকেন্ড থেমে যাওয়া—এটিও আজ একধরনের সামাজিক দায়িত্ব। কারণ প্রযুক্তি আমাদের হাতে শক্তি দিয়েছে। কিন্তু সেই শক্তির সঙ্গে বিবেকও প্রয়োজন।
তা ছাড়া সব সময় ধর্ম নিয়ে কথা বলতে হবে এমন নয়। কখনো একসঙ্গে গান গাওয়াও সম্প্রীতি। একসঙ্গে বই পড়াও সম্প্রীতি। এমনকি একসঙ্গে হাসতে পারাও সম্প্রীতি। বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় সম্প্রীতি।
তবে সম্প্রীতি একমুখী নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোনো একটি সম্প্রদায়ের একার দায়িত্ব নয়। এটি সবার দায়িত্ব। একজন মুসলমানের দায়িত্ব আছে তার হিন্দু প্রতিবেশীর পূজা কিংবা ধর্মীয় আচার নির্বিঘ্নে পালনের অধিকারকে সম্মান করার। একজন হিন্দুরও দায়িত্ব আছে তার মুসলমান প্রতিবেশীর ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করার। একই কথা বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমাদের মনে রাখতে হবে, সম্প্রীতি কোনো একতরফা অনুগ্রহ নয়। এটি পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক।
তবে সম্প্রীতি রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন প্রয়োগ করা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। গণমাধ্যমের দায়িত্ব যাচাই করে তথ্য প্রকাশ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর দায়িত্ব গুজব ও বিদ্বেষ না ছড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তরুণদের দায়িত্বশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলা। কিন্তু রাষ্ট্র একা সম্প্রীতি রক্ষা করতে পারে না। পুলিশ পাহারা দিতে পারে, প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারে, আইন অপরাধের শাস্তি দিতে পারে; কিন্তু মানুষের মনে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি করতে হয় পরিবারে, শ্রেণিকক্ষে, বন্ধুত্বে, প্রতিবেশে এবং নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়ে। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে নিরাপদ হয়, যখন মানুষ শুধু নিজের উপাসনালয় নয়, অন্যের উপাসনালয়কেও নিরাপদ দেখতে চায়। একটি মন্দির শুধু একটি স্থাপনা নয়। তার সঙ্গে মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা ও অনুভূতি জড়িয়ে আছে। একইভাবে একটি মসজিদ, একটি গির্জা, একটি বৌদ্ধবিহারও কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়। এগুলো মানুষের আত্মিক আশ্রয়ের জায়গা। অন্যের বিশ্বাসের জায়গাকে নিরাপদ রাখতে পারা মানে শেষ পর্যন্ত নিজের মানবিকতাকেই নিরাপদ রাখা।
মায়ের কাছে সন্তানই আগে। শারদীয় দুর্গোৎসব তাই শুধু দেবীর আরাধনার সময় নয়; নিজের ভেতরের অশুভকে চিনে নেওয়ারও সময়। আমাদের ভেতরের অহংকার, ঘৃণা, হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধেও একধরনের অসুরবধ প্রয়োজন। দুর্গার হাতে যে অস্ত্র, তা আমাদের কাছে প্রতীক হয়ে উঠুক—অন্য মানুষের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেই অস্ত্র হোক মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের, গুজবের বিরুদ্ধে বিবেকের, ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের।
জগজ্জননীর আরাধনার সূত্রটি নিহিত থাকে সকল মানুষের জন্য মঙ্গল কামনায়, সমাজের সার্বিক শুভচিন্তায়। বিদ্বেষ-বিভেদে নয়। তাই পরিশেষে বলব, উৎসবের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিমায় নয়; মানুষের মুখে ফুটে ওঠা আনন্দে। সবচেয়ে বড় পূজা হয়তো ফুল, ধূপ কিংবা প্রদীপে নয়—একজন মানুষের বিপদে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। ঘৃণার বিপরীতে প্রীতি, বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা, অমানবিকতার বিপরীতে মানবিকতাই হয়ে উঠুক পূজার মূল লক্ষ্য। এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব হোক শুধু মাতৃ আরাধনার উৎসব নয়—মানুষকে নতুন করে আবিষ্কারের উৎসব। অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধের উৎসব। বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ভালোবাসার উৎসব। বিভাজনের বিরুদ্ধে সহমর্মিতার উৎসব। আর ধর্মীয় পরিচয়ের বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশের স্বপ্নকে আরও একটু কাছে টেনে নেওয়ার উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের আলো তাই শুধু পূজামণ্ডপে না জ্বলুক—জ্বলে উঠুক মানুষের মনেও।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি