নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আবাসন বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে উচ্চ ভাড়ার চাপে হিমশিম খাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা, অন্যদিকে ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর নতুন লোক খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন বাড়িওয়ালারা। রুম ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি ও রুমমেট খুঁজছেন এমন মানুষের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা। এর সঙ্গে মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নতুন অভিবাসীদের আগমন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নিউইয়র্ক সিটির বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে ভাড়া পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে তার জন্য ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। একইভাবে আগে প্রাইভেট বাড়িতে দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে থাকলেও এখন তা বেড়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন বেডরুমের একটি বাসার ভাড়া আগে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ ডলার বা তারও বেশি। অন্যদিকে আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে একটি রুম ভাড়া পাওয়া গেলেও এখন একই ধরনের রুমের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তবে এলাকা, বাসার ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া যে হারে বেড়েছে, সে অনুপাতে আয় বাড়েনি। ফলে মাসিক আয় থেকে বাসাভাড়া পরিশোধের পর খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বেশি ভাড়ার কারণে বর্তমান বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাইলেও নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং বাড়তি ভাড়ার কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে বাড়িওয়ালারাও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা, বিদ্যুৎ-পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়। এমনকি বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা থাকলেও সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের ব্যয় এড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘদিন বাসা খালি থাকলে বাড়িওয়ালাদের নিজেদের সঞ্চয় কিংবা চাকরির আয় থেকে এসব খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় বেশি ভাড়ার আশায় দীর্ঘদিন বাসা খালি রাখার পরিবর্তে কিছুটা কম ভাড়ায় নির্ভরযোগ্য ভাড়াটিয়া খুঁজছেন কোনো কোনো বাড়িওয়ালা। তাদের মতে, নিয়মিত ভাড়া দেন এবং বাড়ির যত্ন নেন—এমন ভাড়াটিয়া থাকলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়। তবে বাড়িওয়ালাদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ভাড়াটিয়া সময়মতো ভাড়া দেন না, বাড়ির ক্ষতিসাধন করেন কিংবা নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা প্রয়োজনীয় মেরামত করেন না, পানি ও হিটিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা রাখেন না কিংবা ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে চাপ দেন।
রুম ভাড়া ও রুমমেটের বাজারেও একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্কে একা একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই কেউ পুরো বাসা ভাড়া নিয়ে অন্যদের কাছে রুম ভাড়া দেন, আবার কেউ রুমমেটের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগি করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে রুম ভাড়া দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যারা রুম খুঁজছেন, তাদের অনেকে নিজেদের সামর্থ্যরে মধ্যে উপযুক্ত বাসস্থান পাচ্ছেন না। ফলে রুম ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বাসাভাড়া বা মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করতেন, এমন মানুষও আর্থিক চাপে পড়ছেন।
আবাসন বাজারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নতুন অভিবাসীদের আগমনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকে রুম ভাড়া নিয়ে কিংবা কয়েকজন মিলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকেন। একইভাবে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলো যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে ভাড়া বাসায় ওঠেন। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিলম্বের কারণে সম্ভাব্য কিছু ভাড়াটিয়ার আগমন পিছিয়ে যাচ্ছে বলে আবাসন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এতে বিশেষ করে রুম ভাড়া ও রুমমেটের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব কারণে ভাড়ার চাহিদা ঠিক কতটা কমেছে, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেক পরিবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছে। কেউ লং আইল্যান্ডে, কেউ আপস্টেট নিউইয়র্কে, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ের অন্য এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাদের মতে, সিটির বাইরে একই অর্থে তুলনামূলক বড় বাসা পাওয়া সম্ভব। ফলে কিছু এলাকায় ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাড়িওয়ালাদের নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজতে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই। মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে পারলেও মাসিক কিস্তির হিসাব করে অনেকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। আবার যারা ইতিমধ্যে বাড়ি কিনেছেন, তাদের কেউ কেউ ভাড়া থেকে পর্যাপ্ত আয় না পাওয়ায় কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন।
নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা—উভয় পক্ষই চাপের মুখে রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের প্রয়োজন আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাসাভাড়া, আর বাড়িওয়ালাদের প্রয়োজন নিয়মিত ভাড়া দেন এমন নির্ভরযোগ্য ভাড়াটিয়া। রুম ভাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের জন্যও নিয়মিত রুমমেট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়িভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয়, মর্টগেজের সুদের হার এবং মানুষের স্থান পরিবর্তনের প্রবণতা কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারের পরিস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে ভাড়া পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে তার জন্য ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। একইভাবে আগে প্রাইভেট বাড়িতে দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে থাকলেও এখন তা বেড়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিন বেডরুমের একটি বাসার ভাড়া আগে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া গেলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ ডলার বা তারও বেশি। অন্যদিকে আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলারে একটি রুম ভাড়া পাওয়া গেলেও এখন একই ধরনের রুমের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তবে এলাকা, বাসার ধরন ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভাড়ার পার্থক্য রয়েছে।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া যে হারে বেড়েছে, সে অনুপাতে আয় বাড়েনি। ফলে মাসিক আয় থেকে বাসাভাড়া পরিশোধের পর খাবার, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার বেশি ভাড়ার কারণে বর্তমান বাসা ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাইলেও নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং বাড়তি ভাড়ার কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে বাড়িওয়ালারাও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা, বিদ্যুৎ-পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়। এমনকি বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা থাকলেও সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের ব্যয় এড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘদিন বাসা খালি থাকলে বাড়িওয়ালাদের নিজেদের সঞ্চয় কিংবা চাকরির আয় থেকে এসব খরচ বহন করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় বেশি ভাড়ার আশায় দীর্ঘদিন বাসা খালি রাখার পরিবর্তে কিছুটা কম ভাড়ায় নির্ভরযোগ্য ভাড়াটিয়া খুঁজছেন কোনো কোনো বাড়িওয়ালা। তাদের মতে, নিয়মিত ভাড়া দেন এবং বাড়ির যত্ন নেন—এমন ভাড়াটিয়া থাকলে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়। তবে বাড়িওয়ালাদের একাংশের অভিযোগ, কিছু ভাড়াটিয়া সময়মতো ভাড়া দেন না, বাড়ির ক্ষতিসাধন করেন কিংবা নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, কিছু বাড়িওয়ালা প্রয়োজনীয় মেরামত করেন না, পানি ও হিটিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা রাখেন না কিংবা ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ভাড়াটিয়াকে বাসা ছাড়তে চাপ দেন।
রুম ভাড়া ও রুমমেটের বাজারেও একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্কে একা একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বহন করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাই কেউ পুরো বাসা ভাড়া নিয়ে অন্যদের কাছে রুম ভাড়া দেন, আবার কেউ রুমমেটের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগি করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে রুম ভাড়া দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যারা রুম খুঁজছেন, তাদের অনেকে নিজেদের সামর্থ্যরে মধ্যে উপযুক্ত বাসস্থান পাচ্ছেন না। ফলে রুম ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে বাসাভাড়া বা মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করতেন, এমন মানুষও আর্থিক চাপে পড়ছেন।
আবাসন বাজারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নতুন অভিবাসীদের আগমনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অনেকে রুম ভাড়া নিয়ে কিংবা কয়েকজন মিলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকেন। একইভাবে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলো যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথমে ভাড়া বাসায় ওঠেন। কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বিলম্বের কারণে সম্ভাব্য কিছু ভাড়াটিয়ার আগমন পিছিয়ে যাচ্ছে বলে আবাসন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এতে বিশেষ করে রুম ভাড়া ও রুমমেটের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব কারণে ভাড়ার চাহিদা ঠিক কতটা কমেছে, তা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেক পরিবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছে। কেউ লং আইল্যান্ডে, কেউ আপস্টেট নিউইয়র্কে, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত কম ব্যয়ের অন্য এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাদের মতে, সিটির বাইরে একই অর্থে তুলনামূলক বড় বাসা পাওয়া সম্ভব। ফলে কিছু এলাকায় ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাড়িওয়ালাদের নতুন ভাড়াটিয়া খুঁজতে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই। মর্টগেজের উচ্চ সুদের হার, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড় করতে পারলেও মাসিক কিস্তির হিসাব করে অনেকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছেন। আবার যারা ইতিমধ্যে বাড়ি কিনেছেন, তাদের কেউ কেউ ভাড়া থেকে পর্যাপ্ত আয় না পাওয়ায় কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন।
নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা—উভয় পক্ষই চাপের মুখে রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের প্রয়োজন আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাসাভাড়া, আর বাড়িওয়ালাদের প্রয়োজন নিয়মিত ভাড়া দেন এমন নির্ভরযোগ্য ভাড়াটিয়া। রুম ভাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের জন্যও নিয়মিত রুমমেট পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়িভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয়, মর্টগেজের সুদের হার এবং মানুষের স্থান পরিবর্তনের প্রবণতা কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারের পরিস্থিতি।