দল-সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর তারেক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ , অনলাইন ভার্সন
দল ও সরকারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষমতাসীন দলের নেতা, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হলে পদ-পদবি বিবেচনায় ছাড় না দেওয়ার নীতি সামনে এসেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সেই অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব ঘটনাকে দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্তি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে দলের হাইকমান্ডের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এই নীতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনায় ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ। গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা বিধিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বের সীমা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
১৮ অক্টোবর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। প্রথম দিকে ইশরাক এ খবরকে গুজব বলে দাবি করলেও পরদিন ১৯ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দল ও সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে না দেওয়ার নৈতিক বিবেচনা থেকেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এমন বার্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কোনো কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর যত কাছেরই হোন না কেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার ভাষ্য, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
ইশরাকের ঘটনার আগে একইভাবে রাজনৈতিক আলোচনায় আসেন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাদের কয়েকজনকে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। একই সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পদ-পদবি বিবেচনায় ছাড় না দেওয়ার বার্তা সামনে এসেছে।
এর আগে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত আচরণ ও কর্মকাণ্ড সরকারের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে। কোনো নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তার রাজনৈতিক দায় দল ও সরকারের ওপরও বর্তায়। এ কারণে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
মিষ্টির পদত্যাগ থেকে ইশরাকের পদত্যাগ—সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন বড় প্রশ্ন, এই অবস্থান কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। দলীয় পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, সরকারি দায়িত্বে শৃঙ্খলা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। অন্যথায় তা রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]