নিউইয়র্ক সিটির আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে মেয়র ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি নগরীর প্রশাসনিক কাঠামো, নির্মাণ অনুমোদন, সড়ক নিরাপত্তা ও বাজেট ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাঁচটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দেবেন নাগরিকেরা। প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, আউটডোর ডাইনিংয়ের অনুমতি দ্রুত দেওয়া, নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সঞ্চয়ব্যবস্থা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
নিউইয়র্ক সিটির চার্টার সংশোধনের অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাব ভোটারদের সামনে আনা হয়েছে। নগর সরকার পরিচালনার মৌলিক বিধিবিধান নির্ধারণ করে সিটি চার্টার। ভোটাররা প্রতিটি প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে সংশোধন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।
মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা পর্যালোচনা কমিশন প্রস্তাবগুলো সামনে এনেছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও কার্যকর করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে অনুমোদনের ধাপ কমানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জনপরিসর ব্যবহারে সহজ অনুমোদন : প্রথম প্রস্তাবে ফুটপাত ও অন্যান্য সরকারি পরিসরে র্যাম্প, গাছের টব, বেঞ্চ এবং ফুটপাতের ক্যাফে স্থাপনের অনুমোদন সহজ করার কথা বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গণশুনানির পরিবর্তে প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তবে কমিউনিটি বোর্ড ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নগর প্রশাসনের লক্ষ্য, আউটডোর ডাইনিংয়ের অনুমোদনে বর্তমানে প্রায় আট মাস লাগলেও তা কমিয়ে দুই মাসে আনা।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে নগর সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থার কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ রয়েছে। চুক্তি অনুমোদনের কিছু দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার সুযোগও বাড়বে। এতে চুক্তি সম্পন্ন করতে সময় কমবে এবং ছোট ব্যবসা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয় প্রস্তাবে বাইক লেন, বাস লেন এবং সড়কের নকশা পরিবর্তনের মতো প্রকল্পে পর্যালোচনার সময় কমানোর কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অন্তত ৩৩ শতাংশ কমানো। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু নগর সম্পত্তি বিক্রি বা ইজারা দেওয়া এবং নগরকর্মীদের জন্য অফিস ভাড়া নেওয়ার অনুমোদন প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
চতুর্থ প্রস্তাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদনব্যবস্থা আরও কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নির্মাণকাজের অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন নগর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন ও অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। ভবন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুমোদনের ক্ষমতা বাড়ানো এবং জলতীরবর্তী স্থাপনার নির্মাণ অনুমোদনের দায়িত্বও বিভাগটির কাছে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পঞ্চম প্রস্তাবে অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি কিংবা আকস্মিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নগরীর সঞ্চয় তহবিল শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগের বছরের মোট কর-রাজস্বের অন্তত ১২ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ রিজার্ভ ও অন্যান্য সংরক্ষিত তহবিলে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। অর্থ জমার পদ্ধতি নির্ধারণে মেয়রের বাজেট দপ্তর ও কম্পট্রোলার কাজ করবেন। তবে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবগুলোর সমর্থকদের মতে, অনুমোদনের ধাপ কমলে ব্যবসা পরিচালনা, নির্মাণকাজ ও সরকারি সেবা প্রদান সহজ হবে। অন্যদিকে গণশুনানি ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পর্যালোচনার সুযোগ কমলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নগরীর বাজেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিটিজেনস বাজেট কমিশন ৭ অক্টোবর প্রকাশিত অবস্থানে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রস্তাবের পক্ষে এবং পঞ্চম প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, পঞ্চম প্রস্তাবটি যথেষ্ট শক্তিশালী সঞ্চয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করে না।
নিউইয়র্ক সিটির চার্টার সংশোধনের অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাব ভোটারদের সামনে আনা হয়েছে। নগর সরকার পরিচালনার মৌলিক বিধিবিধান নির্ধারণ করে সিটি চার্টার। ভোটাররা প্রতিটি প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিয়ে সংশোধন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।
মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা পর্যালোচনা কমিশন প্রস্তাবগুলো সামনে এনেছে। প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও কার্যকর করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে অনুমোদনের ধাপ কমানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জনপরিসর ব্যবহারে সহজ অনুমোদন : প্রথম প্রস্তাবে ফুটপাত ও অন্যান্য সরকারি পরিসরে র্যাম্প, গাছের টব, বেঞ্চ এবং ফুটপাতের ক্যাফে স্থাপনের অনুমোদন সহজ করার কথা বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গণশুনানির পরিবর্তে প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তবে কমিউনিটি বোর্ড ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নগর প্রশাসনের লক্ষ্য, আউটডোর ডাইনিংয়ের অনুমোদনে বর্তমানে প্রায় আট মাস লাগলেও তা কমিয়ে দুই মাসে আনা।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে নগর সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থার কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ রয়েছে। চুক্তি অনুমোদনের কিছু দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়ার সুযোগও বাড়বে। এতে চুক্তি সম্পন্ন করতে সময় কমবে এবং ছোট ব্যবসা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃতীয় প্রস্তাবে বাইক লেন, বাস লেন এবং সড়কের নকশা পরিবর্তনের মতো প্রকল্পে পর্যালোচনার সময় কমানোর কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অন্তত ৩৩ শতাংশ কমানো। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু নগর সম্পত্তি বিক্রি বা ইজারা দেওয়া এবং নগরকর্মীদের জন্য অফিস ভাড়া নেওয়ার অনুমোদন প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
চতুর্থ প্রস্তাবে ভবন নির্মাণের অনুমোদনব্যবস্থা আরও কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নির্মাণকাজের অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন নগর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন ও অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। ভবন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুমোদনের ক্ষমতা বাড়ানো এবং জলতীরবর্তী স্থাপনার নির্মাণ অনুমোদনের দায়িত্বও বিভাগটির কাছে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পঞ্চম প্রস্তাবে অর্থনৈতিক মন্দা, রাজস্ব ঘাটতি কিংবা আকস্মিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নগরীর সঞ্চয় তহবিল শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগের বছরের মোট কর-রাজস্বের অন্তত ১২ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ রিজার্ভ ও অন্যান্য সংরক্ষিত তহবিলে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। অর্থ জমার পদ্ধতি নির্ধারণে মেয়রের বাজেট দপ্তর ও কম্পট্রোলার কাজ করবেন। তবে অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক বার্ষিক বাজেট প্রক্রিয়ার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
প্রস্তাবগুলোর সমর্থকদের মতে, অনুমোদনের ধাপ কমলে ব্যবসা পরিচালনা, নির্মাণকাজ ও সরকারি সেবা প্রদান সহজ হবে। অন্যদিকে গণশুনানি ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পর্যালোচনার সুযোগ কমলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নগরীর বাজেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিটিজেনস বাজেট কমিশন ৭ অক্টোবর প্রকাশিত অবস্থানে প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রস্তাবের পক্ষে এবং পঞ্চম প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, পঞ্চম প্রস্তাবটি যথেষ্ট শক্তিশালী সঞ্চয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করে না।