শীতে হতে পারে পানিশূন্যতা, যেসব লক্ষণে হবেন সতর্ক

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫ , অনলাইন ভার্সন
শীতকালে তৃষ্ণা তুলনামূলক কম লাগায় অনেকেই পানি পান করার পরিমাণ কমিয়ে দেন। ফলে অজান্তেই শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা নামে পরিচিত। এ সময় মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সময়মতো এসব লক্ষণ চিনতে না পারলে পানিশূন্যতা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।

পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ

পানিশূন্যতার শুরুতে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, ক্লান্তি, বিরক্তি, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং পেশিতে টান ধরাও পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার নরম অংশ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখ দিয়ে পানি না পড়া এবং ডায়াপার স্বাভাবিকের তুলনায় শুকনো থাকা পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

গুরুতর লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

শরীরে পানির ঘাটতি বেড়ে গেলে প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের চোখ বসে যাওয়া ও ত্বক কুঁচকে যাওয়াও বিপদের সংকেত।

এ ছাড়া মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং ত্বকে চুলকানি হতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিলে অনেকে সেগুলোকে ক্ষুধার লক্ষণ বলেও ভুল করতে পারেন।

যেভাবে পূরণ করবেন পানির ঘাটতি

পানিশূন্যতা হলে ধীরে ধীরে পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে অতিরিক্ত পানি পান না করে অল্প অল্প করে পান করুন। বমি বা ডায়রিয়ার কারণে পানি ও লবণের ঘাটতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত তরল দিতে হবে।

ফলের রস ও ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। পানিশূন্যতা গরমের কারণে হলে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নিন। অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।

যাদের ঝুঁকি বেশি

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, কিডনির রোগী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবনকারীদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত ব্যায়াম, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, জ্বর, বমি ও ডায়রিয়াও এ ঝুঁকি বাড়ায়।

কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

পানিশূন্যতার সঙ্গে অজ্ঞান হওয়া, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খিঁচুনি কিংবা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। বমি বা পায়খানায় প্রচুর রক্ত দেখা গেলেও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। গুরুতর পানিশূন্যতায় শিরায় তরল দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধে যা করবেন

দিনজুড়ে পর্যাপ্ত তরল পান করুন। গরমে, ব্যায়ামের সময় এবং জ্বর বা ডায়রিয়া হলে তরল গ্রহণ বাড়ান। ফলমূল ও শাকসবজিও শরীরে পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। তবে বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]