দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে জন-অসন্তোষের মধ্যে রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো। এসব অভিযোগকে সামনে রেখে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগের দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এনসিপি। পরদিন ৩১ অক্টোবর জামায়াত ও তাদের শরিকদের ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জন-অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচির পরদিন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর কুষ্টিয়ামুখী এ কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার যানবাহন অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। জোটের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। দুই কর্মসূচির মধ্যে সরাসরি যৌথ অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও সময়ের নৈকট্য ও দাবির মিলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক কারবারের অভিযোগ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং সাইবার আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগও জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতা তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাইফুল আলমের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধী গোষ্ঠীর নতুন করে সংগঠিত হওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের মনোবল, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে পুরোনো অপরাধী চক্রের প্রভাব কমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় নতুন গোষ্ঠীর উত্থান অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তাসনিম সিদ্দিকীর মতে, বিরোধীদের আন্দোলনকে কেবল ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলে জন-অসন্তোষের বাস্তব কারণগুলো উপেক্ষিত হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারলে বিরোধী শক্তিগুলোর জন্য রাজনৈতিক পরিসর বাড়বে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান পরিস্থিতিটিকে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এনসিপি তরুণ ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সামনে আনছে, আর জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাবেশে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সরকারকে চাপের মুখে রাখা এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির বাইরে শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা থাকতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণের আভাস দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জন-অসন্তোষকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে মাঠে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচির পরদিন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর কুষ্টিয়ামুখী এ কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার যানবাহন অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। জোটের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। দুই কর্মসূচির মধ্যে সরাসরি যৌথ অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও সময়ের নৈকট্য ও দাবির মিলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে বিরোধী দলগুলো রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক কারবারের অভিযোগ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং সাইবার আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগও জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতা তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাইফুল আলমের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধী গোষ্ঠীর নতুন করে সংগঠিত হওয়ার মতো কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের মনোবল, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে পুরোনো অপরাধী চক্রের প্রভাব কমে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় নতুন গোষ্ঠীর উত্থান অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তুলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তাসনিম সিদ্দিকীর মতে, বিরোধীদের আন্দোলনকে কেবল ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলে জন-অসন্তোষের বাস্তব কারণগুলো উপেক্ষিত হতে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারলে বিরোধী শক্তিগুলোর জন্য রাজনৈতিক পরিসর বাড়বে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামান পরিস্থিতিটিকে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এনসিপি তরুণ ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সামনে আনছে, আর জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাবেশে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে সরকারকে চাপের মুখে রাখা এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির বাইরে শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা থাকতে পারে।