আমাদের বর্তমান প্রজন্ম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
বর্তমান প্রজন্মকে বলা হচ্ছে জেন-জি। ১৯৯৭-২০১২ সালের মধ্যে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের বলা হচ্ছে জেন-জি। ২০১৩-২০২৪ সালের মধ্যে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, তারা জেনারেশন আলফা নামে পরিচিত। জেন-জি—যারা স্মার্টফোন, সোশ‍্যাল মিডিয়া আর টেকনোলজির চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছে। বিশ্ব এখন এআই (Artificial Intelligence) যুগে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হাতের মুঠোয় এখন সকল তথ্য। অডিও, ভিডিওকলে মানুষ কথা বলছে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের মানুষের সঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে দেখা যায় সবাই এখন ওভার স্মার্ট।
আমাদের সময়টা ছিল বেশ সাদাসিধা। গুরুজনে ভক্তি করো থেকে শুরু করে অনেক আদব-কায়দা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, ভদ্রতা এসব আমরা শিখেছি ও মেনে চলেছি। যদিও এসব পারিবারিক শিক্ষা ও রীতিনীতির অংশ। আজ এসব সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। একটা অস্থির সমাজের মাঝে আমরা পথ চলছি। এ পথচলা আলোর পথ না অন্ধকার পথের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
বর্তমান প্রজন্মের বেড়ে ওঠা এবং এদের নিয়ে আমার একটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ তুলে ধরলাম।
গবেষণা প্রতিবেদন—বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের বেড়ে ওঠা ও সামাজিক অবক্ষয় : বাস্তবতা, সংকট ও উত্তরণের পথ
সারসংক্ষেপ : বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এক গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। একদিকে আধুনিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, বিশ্বায়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তাদের সামনে সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে; অন্যদিকে পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, বেকারত্ব, মাদক, সহিংসতা এবং মূল্যবোধের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য শুধু তরুণ প্রজন্মকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠদের আচরণও নতুন প্রজন্মের মানসিকতা ও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের কিশোর ও তরুণদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ বিশ্লেষণ করা, সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে প্রচলিত উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি পরীক্ষা করা এবং একটি সুস্থ, মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার কার্যকর উপায় চিহ্নিত করা।
গবেষণার ধরন : প্রকাশিত পরিসংখ্যান, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা। এটি নতুন মাঠ জরিপ বা সাক্ষাৎকারভিত্তিক গবেষণা নয়।
১. বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের বর্তমান চিত্র : বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম বলতে এই প্রতিবেদনে মূলত ১০ থেকে ২৯ বছর বয়সী কিশোর ও তরুণদের বোঝানো হয়েছে। এর মধ্যে জেনারেশন জেড বা Gen-Z একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। আজকের তরুণেরা একই সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব অনুভব করছে।
গুরুত্বপূর্ণ গবেষণালব্ধ তথ্য
৮৫.৭%
১—১৪ বছর বয়সী শিশু গত এক মাসে সহিংস শাসনের শিকার
৩৩.৯%
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বয়সী শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে
৪৭.২%
২০—২৪ বছর বয়সী নারীদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে
৩৯.২%
৭—১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক গণিতদক্ষতা রয়েছে
উৎস : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ, Multiple Indicator Cluster Survey (MICS)  ২০২৫; প্রতিবেদন প্রকাশ জুন ২০২৬।
এই পরিসংখ্যান তরুণদের নৈতিক চরিত্রের পরিমাপ নয়; বরং তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির নির্দেশক।
২. পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক শিক্ষার সংকট : পরিবার শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিশুরা শুধু উপদেশ শুনে নয়, পরিবারের বড়দের আচরণ দেখে সততা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ব শেখে।
বর্তমান সমাজে কিছু পরিবারে সন্তানের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষাগত প্রত্যাশা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং শাসনের নামে অপমান বা শারীরিক নির্যাতন উদ্বেগের বিষয়।
MICS 2025 অনুযায়ী, ১—১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৮৬ শতাংশ কোনো না কোনো সহিংস শাসনের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। এটি শিশুদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষণ : সন্তানকে শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য চাপ দিলে কিন্তু তার অনুভূতি, নৈতিক বিকাশ ও সামাজিক আচরণকে গুরুত্ব না দিলে সুষম ব্যক্তিত্ব গঠন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে সব পরিবারে বন্ধন দুর্বল হচ্ছে—এমন জাতীয় প্রবণতা প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল সংস্কৃতি : ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ, বিনোদন এবং তথ্য গ্রহণের অভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক হলো শিক্ষামূলক তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, অনলাইন ব্যবসা, সৃজনশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের সুযোগ।
অন্যদিকে কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে :
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে পড়াশোনা ও ঘুমের সময় কমে যাওয়া।
অনলাইন হয়রানি, অপমান ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার।
ভুয়া সংবাদ, গুজব ও উসকানিমূলক বিষয়বস্তুর বিস্তার।
জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ অনুকরণ।
অন্যের সাজানো জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা করে মানসিক চাপ অনুভব করা।
২০২৫ সালের MICS অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৭২.১ শতাংশ পরিবারের ঘরে ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ রয়েছে। তবে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়া মানেই নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে—এমন সিদ্ধান্ত এই তথ্য থেকে নেওয়া যায় না।
৪. শিক্ষাব্যবস্থা : সনদ অর্জন বনাম মানুষ হওয়া : শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা চাকরি অর্জন নয়; বরং যুক্তিবোধ, সততা, মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার মান, মৌলিক দক্ষতা, ঝরে পড়া এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
MICS 2025 অনুযায়ী, ৭—১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০.২ শতাংশের মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং ৩৯.২ শতাংশের মৌলিক গণিতদক্ষতা রয়েছে।
এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা কার্যকর করতে পাঠ্যবইয়ের উপদেশের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বাস্তব পরিবেশের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অসততা, বৈষম্য বা অন্যায় আচরণ দেখে, তখন তাদের কাছে নৈতিক শিক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৫. বেকারত্ব, হতাশা ও সামাজিক অস্থিরতা : বাংলাদেশের তরুণ শ্রমবাজারের নির্বাচিত সূচক
যুব বেকারত্বের হার কেবল শ্রমশক্তিতে থাকা বেকার তরুণদের জন্য; NEET একটি পৃথক সূচক।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ২০২৬ সালের বিশ্লেষণেও বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের মান, প্রকৃত মজুরি, অনানুষ্ঠানিক কাজ এবং তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তরুণদের মধ্যে হতাশা, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে বেকারত্বকে সরাসরি অপরাধপ্রবণতা বা নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ বলা যায় না।
৬. সামাজিক অবক্ষয়ের আলোচনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ : বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গবেষণার দাবি রাখে।
মাদক ও অপরাধপ্রবণতা : কিশোরদের মাদকাসক্তি, সংঘবদ্ধ সহিংসতা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। তবে এসব ঘটনা বাড়ছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য সময়ভিত্তিক জাতীয় তথ্য দরকার।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা : বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক সহিংসতা এবং শিশু নির্যাতন সামাজিক উন্নয়নের বড় বাধা। এগুলো কেবল নতুন প্রজন্মের সমস্যা নয়; বহুদিনের সামাজিক রীতি, ক্ষমতার অসমতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
অসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ : মতভিন্নতাকে সম্মান করা, অন্যের অধিকার স্বীকার করা এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমানের প্রবণতা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
সততা ও আদর্শের সংকট : সমাজে যখন অন্যায়ভাবে সুবিধা অর্জনকারীরা পুরস্কৃত হয় এবং সৎ আচরণ যথাযথ স্বীকৃতি পায় না, তখন তরুণদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব সমস্যা সব তরুণের মধ্যে সমানভাবে বিদ্যমান নয়। অনেক তরুণ স্বেচ্ছাসেবা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
৭. নতুন প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য : আধুনিক প্রতিযোগিতা, পরীক্ষার চাপ, পারিবারিক প্রত্যাশা, সম্পর্কের জটিলতা এবং কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
MICS 2025-এর কিশোর-কিশোরী বিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ১০-১৭ বছর বয়সীদের প্রায় ৫ শতাংশ অন্তত একটি কার্যক্ষমতা-সংক্রান্ত অসুবিধার কথা জানিয়েছে; উদ্বেগ ও বিষণ্নতা-সংক্রান্ত অসুবিধাও এর মধ্যে রয়েছে। এই হারকে সব ধরনের মানসিক রোগের সামগ্রিক হার হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, পরামর্শসেবা এবং অপমানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
৮. সামাজিক অবক্ষয় রোধে করণীয় পরিবারের দায়িত্ব : সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো, তার বন্ধু ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে যুক্তিসংগত শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার চর্চা করা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব : নৈতিক শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ ও পরামর্শব্যবস্থা চালু রাখা।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব : মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান, শিশু সুরক্ষা, মাদক প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
সমাজ ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব : ইতিবাচক আদর্শ তুলে ধরা, অপপ্রচার ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধ করা এবং তরুণদের নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
৯. গবেষণার সীমাবদ্ধতা : এই প্রতিবেদনে শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের নৈতিকতা পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় কতটা উন্নত বা অবনত হয়েছে, তা সরাসরি পরিমাপ করার মতো তুলনাযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি তথ্য এখানে নেই।
সুতরাং সামাজিক অবক্ষয় সম্পর্কে প্রচলিত উদ্বেগকে একটি গবেষণার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত, প্রমাণিত সর্বজনীন সত্য হিসেবে নয়। ভবিষ্যতে শহর ও গ্রাম, বিভিন্ন আয়শ্রেণি এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক জরিপ ও সাক্ষাৎকার পরিচালনা করা প্রয়োজন।
১০. উপসংহার : বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের বেড়ে ওঠা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট বাস্তব কারণ রয়েছে। শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ, শিক্ষার মানের ঘাটতি, বাল্যবিবাহ, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ডিজিটাল পরিবেশের ঝুঁকি তাদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মকে এককভাবে সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী করলে সমস্যার মূল কারণ আড়াল হয়ে যায়।
আমরা যদি সন্তানদের সৎ, বিনয়ী, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আগে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরণে সেই আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
একটি শিশু জন্মগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত, অসহিষ্ণু বা মূল্যবোধহীন হয়ে জন্মায় না। তার চারপাশের পরিবেশ, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পর্ক তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু প্রযুক্তিতে দক্ষ বা অর্থনৈতিকভাবে সফল করে তুললেই চলবে না; তাদের মধ্যে সততা, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা, আত্মমর্যাদা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলাও সমান জরুরি।
আজকের তরুণদের দোষারোপ করার চেয়ে তাদের জন্য একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলাই হবে আগামী বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র :
১. Bangladesh Bureau of Statistics I UNICEF, Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey 2025 ২০২৫, প্রকাশ জুন ২০২৬।
২. UNICEF Bangladesh, Data on the Situation of Children in Bangladesh, MICS ২০২৫ সূচকসমূহ।
৩. International Labour Organization, Reviving and Reconnecting Economic Growth and Employment in Bangladesh, 2026, ২০২৬।
৪. UNESCO-UNEVOC, Bangladesh Labour Market Country Profile, ILOSTAT-ভিত্তিক যুব কর্মসংস্থান সূচক।
৫. UNICEF Bangladesh, Every Adolescent Has an Equitable Chance in Life, MICS 2025।
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]