সম্প্রীতি, সেক্যুলারিজম এবং পারস্পরিকতা নিয়ে একটি নিবেদন

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
সম্প্রতি দুর্গাপূজার সময় একটি দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে—আমাদের মুসলিম সমাজের কিছু সেক্যুলার বোন অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে শাঁখা-সিঁদুর পরছেন, সিঁদুর খেলায় অংশ নিচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি এতে আনন্দিত। যাক, সবাই মিলে আনন্দ করুক, সৌহার্দ্য বজায় থাকুক। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই, বরং এটাই তো বাংলার সংস্কৃতি। তবে এই আনন্দের মাঝে একটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ আমার মনে উদয় হয়েছে, যা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।
আমি ব্যক্তিগত জীবনে অসংখ্য হিন্দু সেক্যুলার বান্ধবী ও দিদিকে দেখেছি। তারা নিয়মিত আমাদের বাসায় ঈদের দাওয়াতে আসেন, সেমাই খান, আমাদের আনন্দে শামিল হন। আমার প্রিয় বন্ধুদের মতো তারাও ঈদকে সম্মান করেন।
কিন্তু আমি কখনো দেখিনি, কোনো হিন্দু সেক্যুলার মহিলা মুসলিম বান্ধবীর সঙ্গে সংহতি জানাতে বোরকা পরিধান করে নামাজে দাঁড়িয়েছেন বা রোজাকে নিজের ধর্মীয় আচার হিসেবে পালন করছেন এবং এটাই স্বাভাবিক, এটাই সুন্দর। কারণ তারা সম্প্রীতির সংজ্ঞাটা খুব ভালো বোঝেন। তারা ঈদে আসেন অতিথি হয়ে, নিজের পরিচয় এবং বিশ্বাসকে সম্মানের সঙ্গে বজায় রেখেই আসেন। তারা কখনো নিজের ধর্মীয় পরিচয় মুছে ফেলে অন্য ধর্মের পরিচয় ধারণ করে বাড়াবাড়ি করেন না।
এখানেই আমার বিনীত প্রশ্ন—সম্প্রীতি মানে কি নিজের পরিচয়কে মুছে ফেলা, নাকি নিজের পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে ধারণ করেই অন্যের উৎসবকে সম্মান জানানো?
একজন অতিথি হিসেবে পূজামণ্ডপে যাওয়া, বন্ধুর সঙ্গে ঘোরা, প্রসাদ গ্রহণ করা, ছবি তোলা—এটি নিঃসন্দেহে সম্প্রীতি এবং এটি প্রশংসনীয়। কিন্তু সিঁদুর, যা সনাতন ধর্মে একটি অত্যন্ত পবিত্র, বৈবাহিক এবং ধর্মীয় প্রতীক, সেটি ধারণ করে নিজেকে হিন্দু রূপে উপস্থাপন করা—এটি কি আর সম্প্রীতি থাকে, নাকি এটি নিজের এবং অন্যের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি একধরনের অগভীর প্রদর্শনী হয়ে যায়?
আমি সেক্যুলারিজমের বিপক্ষে নই, আমি উদারতার বিপক্ষে নই। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃত সেক্যুলারিজম দ্বিমুখী এবং পারস্পরিক সম্মানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমি তোমার পূজায় যাব সম্মানিত অতিথি হয়ে, তুমি আমার ঈদে আসবে সম্মানিত অতিথি হয়ে। আমি তোমার বিশ্বাসকে সম্মান করব, তুমি আমার বিশ্বাসকে সম্মান করবে।
নিজের শেকড়কে অস্বীকার করে অন্যের শেকড় ধারণ করার মধ্যে কোনো উদারতা নেই। যে মানুষ নিজের ধর্ম ও পরিচয়কে সম্মান করতে জানে না, সে অন্যের ধর্মকেও প্রকৃত অর্থে সম্মান করতে পারে না।
আসুন, সম্প্রীতিকে প্রদর্শনী নয়, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে উদ্্যাপন করি।
লেখক : অ্যাক্টিভিস্ট
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]