​বিশেষ রহমতপূর্ণ পবিত্র আশুরা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২১:২৮ , অনলাইন ভার্সন
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বাহিনীর ইরানে সাঁড়াশি অভিযান এবং গাজা, ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ সারা বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত কোটি কোটি মানুষের আর্ত আহাজারি বক্ষে ধারণ করে ১৫ জুন সোমবার বিদায় নিয়েছে হিজরি ১৪৪৭ সাল। আর ১৬ জুন মঙ্গলবার থেকে ১৪৪৮ হিজরি সালের যাত্রা শুরু হয়েছে। সভ্যতার ধ্বজাধারী ও বিশ্বপরাশক্তির আশীর্বাদপুষ্ট ইসরায়েল এবং সাম্রাজ্যবাদী মোড়লদের দানবীয় ও নির্মম নির্যাতনের বুকভরা হাহাকার বক্ষপিঞ্জরে ধারণ করে হিজরি ১৪৪৭ সালের বিদায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সর্বস্বান্ত জনমনে বিন্দুমাত্র আঁচড় কাটবে না বলে আমার বিশ্বাস। কারণ একুশ শতকের সূচনালগ্ন থেকে স্বার্থের মোহাবিষ্ট দানবীয় শক্তির অধীশ্বররা নানা ছলচুতোয় গোটা বিশ্বকে কুক্ষিগত করার যে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, সেই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে যুদ্ধ নামক মহাবিধ্বংসী প্রলয়নৃত্য অব্যাহত রয়েছে। তাই একটি সালের বিদায় এবং নতুন সালের আগমন অধিকারবঞ্চিত ও হৃতসর্বস্ব সাড়ে ৬০০ কোটি বিশ্ববাসীর জীবনে বিন্দুমাত্র আবেদন সৃষ্টি করে না। তা সত্ত্বেও ১৪৪৮ হিজরি সালের আগমনকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ বিশ্ব মুসলিমের মনমন্দিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের উর্মিমালা ঢেউ খেলে যাচ্ছে। এমনতর বাস্তবতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অধিকারবঞ্চিত সর্বহারাদের বিদেহী আত্মার চিরপ্রশান্তি কামনা ও তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেই হিজরি ১৪৪৮ সালকে স্বাগত জানাচ্ছি। নববর্ষের সূচনালগ্নে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে আশরাফুল মাখলুকাত অভিধায় আখ্যায়িত প্রত্যেকের অন্তর্নিহিত সহজাত মনুষ্যত্ব ও সৌভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশ এবং পশুত্ববোধের সমূল উৎপাটনে বিশ্ব প্রতিপালকের বিশেষ রহমত ভিক্ষা করছি। অধিকন্তু স্বাধীনতাকামী বিশ্ব জনগোষ্ঠীর সাফল্য এবং ধরাধাম থেকে মানুষের অবয়বধারী অসুরীয় শক্তির সমূল মূলোচ্ছেদে বিশ্ববিধাতার অলৌকিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
যাহোক, নববর্ষের হিসাব অনুসারে আগামী ২৬ জুন বৃহস্পতিবার মহান আল্লাহ তায়ালা প্রেরিত ১০ জন নবী-রাসুলের বিপদমুক্তি এবং কারবালার মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবাহী পবিত্র আশুরা বা ১০ মহররম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মুসলমানদের শাশ্বত জীবনবিধান পবিত্র কোরআনে আশুরাকে অপরিসীম বরকত ও রহমতপূর্ণ দিবস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অনবদ্য কারণে বিশ্ব মুসলিম পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ-মাহফিল আয়োজনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে পবিত্র আশুরা পালন করে আসছেন সেই স্মরণাতীত কাল থেকে। বর্তমান পটভূমিতে ইসলামের মৌলিক আদর্শচ্যুত এবং চরমভাবে নিষ্পেষিত ও অনন্যোপায় বিশ্ব মুসলিমের জীবনেও আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনাতীত বললে সম্ভবত অত্যুক্তি হবে না।

ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আরবের লব্ধপ্রতিষ্ঠ পৌত্তলিক সম্প্রদায়ের সুরক্ষিত হারাম পবিত্র কাবার আঙিনায় এবং মক্কা নগরীতে মহান আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করতে গিয়ে হজরত মোহাম্মদ (সা.) বর্ণনাতীত নির্যাতন-নিগ্রহ ও শোষণের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু পৌত্তলিকদের প্রচণ্ড বাধা-বিপত্তির মুখেও নবদীক্ষিত মুসলমানের সংখ্যা আশাতীত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌত্তলিক সম্প্রদায় হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে প্রাণনাশের চূড়ান্ত আয়োজন সম্পন্ন করে। এমনতর শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর চাচা আবু তালিব এবং প্রাণাধিক প্রিয় সহধর্মিণী বিবি খাদিজা ইন্তেকাল করায় নবী করিম (সা.) চরমভাবে বিষণ্ন হয়ে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ফেরেশতাকুল শিরোমণি হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মক্কা ত্যাগপূর্বক মদিনা বা ইয়াসরিব যাত্রার নির্দেশ লাভ করেন। অবশেষে একমাত্র সঙ্গী হজরত আবু বকর (রা)-কে সঙ্গে নিয়ে হজরত মোহাম্মদ (সা.) গভীর রজনীতে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। আল্লাহর অপরিসীম কুদরতে সহস্র প্রতিবন্ধকতার দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর মাড়িয়ে পরিশেষে হজরত মোহাম্মদ (সা.) ও আবু বকর (রা) ইয়াসরিব বা মদিনায় পৌঁছান। ইয়াসরিববাসী বিশ্বনবী (সা.)-কে সাদরে বরণ করেন এবং আল্লাহর নির্দেশে হজরত মোহাম্মদ (সা.) সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস ও নবোদ্যমে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা ত্যাগ এবং ইয়াসরিবে স্থায়ীভাবে বসবাসের ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যমণ্ডিত অধ্যায়কে চিরস্মরণীয় করার খাতিরেই সাহাবিদের পরামর্শক্রমে হিজরি সালের প্রবর্তন করা হয়েছিল। প্রণিধানযোগ্য, হিজরি সাল মূলত চন্দ্রবর্ষ এবং মহররম মাস দিয়ে বছর গণনা শুরু হয় এবং জিলহজ দিয়ে বছরের পরিসমাপ্তি টানা হয়। সৌর দিবসের সূচনা হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে; পক্ষান্তরে হিজরি দিবস গণনা করা হয় সূর্যাস্ত এবং পশ্চিমাকাশে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।
আশুরা : আরবি ভাষার ‘আশারা’ বা দশম শব্দ থেকেই আশুরা শব্দটি উদ্ভূত। পবিত্র কোরআন এবং হাদিস গ্রন্থে মহররম মাসের দশম তারিখ বা আশুরার দিবসে কারবালার বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ১০ জন নবী-রাসুলের বিপদমুক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। চির অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনা ও প্রলোভনে আদি পিতা হজরত আদম (আ.) এবং বিবি হাওয়া নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করে অভিশপ্ত হলেন। তারপর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি শুরু করলেন এবং অভিশপ্ত আদম (আ.) এবং বিবি হাওয়া বেহেশত থেকে ভূমণ্ডলে নিক্ষিপ্ত হলেন। ৩ শতাধিক বছর কান্নাকাটির পর সর্বশ্রেষ্ঠ নবী-রাসুল হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর অছিলায় মহান আল্লাহ তায়ালা ১০ মহররম অনুতপ্ত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়ার অপরাধ মার্জনা করেন এবং আরাফার ময়দানে তাঁরা পুনর্মিলিত হন। খোদাদ্রোহী নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করতে গিয়ে হজরত নুহ (আ.) তাদের চরম বিরাগভাজন হন। উদ্ধত পৌত্তলিক সম্প্রদায় হজরত নুহ (আ)-কে বস্তায় পুরে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। নদী থেকে উদ্ধারের পর হজরত নুহ (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কিস্তি তৈরি করলেন এবং স্বীয় স্বল্পসংখ্যক অনুসারী এবং জোড়ায় জোড়ায় প্রত্যেক পশু-পাখি নিয়ে ১০ রজব কিস্তিতে আরোহণ করেছিলেন। অবিরাম এবং প্রবল বর্ষণে গোটা পৃথিবী তলিয়ে গেল এবং স্বীয় অনুসারীদেরসহ নুহ (আ.)-এর কিস্তিটি তরঙ্গবিক্ষুব্ধ সাগরের উত্তাল উর্মিমালার বুক চিরে ৬ মাস ধরে গোটা বিশ্ব পরিভ্রমণ করল। অবশেষে ১০ মহররম সিরিয়া বা মসুলের অন্তর্গত জুদি পাহাড়ের চূড়া স্পর্শ করল (সুরা হুদ, আয়াত ৪৪, অধ্যায় একাদশ)। জুদি পাহাড়ের চূড়ায় কিস্তির মাঝে কিছুদিন অবস্থান শেষে পানি কমে যাওয়ায় আল্লাহর নির্দেশে হজরত নুহ (আ.) তাঁর অনুসারী এবং পশু-পাখিসহ বৃষ্টিবিধৌত ভূখণ্ডে অবতরণ করলেন এবং নতুনভাবে বসতি গড়া শুরু করলেন (সুরা হুদ, আয়াত ৪৮, অধ্যায় একাদশ)। বিশ্ব মুসলিমের শাশ্বত জীবনবিধান পবিত্র কোরআনের ভাষায়, আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদবিরোধী জালেমদের অসহনীয় নির্যাতনে অতিষ্ঠ হজরত ইউনুস (আ.) আল্লাহর সম্মতি ছাড়াই গোপনে স্বদেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে জাহাজে আরোহণ করেছিলেন। পরে ধরা পড়ায় তাঁকে গভীর সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হলো এবং প্রথমে একটি মাছ তাকে ও পরে আরেকটি দৈত্যাকার সামুদ্রিক মাছ ইউনুস (আ.)সহ প্রথম মাছটিকে ভক্ষণ করেছিল। দীর্ঘকাল মাছের পেটে কাটানোর পর মহান আল্লাহ তায়ালার অনুকম্পায় ইউনুস (আ.) ১০ মহররম সমুদ্রের উপকূলীয় চরায় নিক্ষিপ্ত হন এবং পুনর্জীবন লাভ করেন। মিসরের খোদাদ্রোহী ও জালেম শাসক ফেরাউনের চরম নিষ্পেষণের কবল থেকে হজরত মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মুক্তি পেয়েছিলেন ১০ মহররম। পবিত্র কোরআনের বর্ণনানুসারে হজরত মুসা (আ.)-এর সদলবলে সাগরপাড়ি নিশ্চিত করার খাতিরে সর্বশক্তিমান আল্লাহ ঐতিহাসিক রেড সি বা লোহিত সাগরের মধ্যভাগে প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আর ঘোড়সওয়ার পশ্চাদ্ধাবনকারী ইতিহাসধিক্কৃত ফেরাউনের সসৈন্যে সলিলসমাধি রচিত হয়েছিল অতলস্পর্শী রেড সি বা লোহিত সাগরে। হজরত ইবরাহিম (আ.) নমরুদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন ১০ মহররম। দীর্ঘ ভোগান্তির পর হজরত আইয়ুব (আ.) রোগমুক্ত হয়েছিলেন ১০ মহররম। হজরত ইউসুফ (আ.) দীর্ঘ নির্যাতন ভোগের পর মিসরের মন্ত্রিত্ব লাভ করেছিলেন ১০ মহররম। হজরত সুলাইমান (আ.) হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন ১০ মহররম। হজরত ইদ্রিস (আ.) এবং হজরত ঈসা (আ.)-এর নির্যাতনের অবসান ঘটেছিল ১০ মহররম।

সর্বশেষ ৬১ হিজরিতে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল অবরুদ্ধ ফোরাত উপকূলবর্তী কারবালার প্রান্তরে। হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম সাহাবি উমাইয়ার ইন্দ্রিয়পরায়ণ ও লম্পট পুত্র ইয়াজিদের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছিল এই হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর কনিষ্ঠ দৌহিত্র ইমাম হোসেনকে ৭২ জন সঙ্গী-সাথিসহ নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ৬১ হিজরির ১০ মহররম ইতিহাসধিক্কৃত ইয়াজিদের নির্দেশে। সংগত কারণেই উল্লেখ করতে হচ্ছে, ঊষর কারবালার অবরুদ্ধ মরুপ্রান্তরে নিহতদের সকলেই ছিলেন হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর পরিবারের পুরুষ সদস্য। লাখ টাকা পুরস্কারের লোভে ইতিহাসধিক্কৃত সিমার হজরত ফাতিমা (রা.)-এর জঠরজাত এবং ইসলামের চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা.)-এর পরম আদরের ধন এবং বেহেশতে যুবকদের অন্যতম সর্দার মুমূর্ষু হজরত হোসেনের শির মোবারক ৬১ হিজরির ১০ মহররম দেহ থেকে আলাদা করেছিল। সেই বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে প্রতিবছর ১০ মহররম শিয়া ধর্মাবলম্বীরা তাজিয়াসহ শোক মাতম, সুন্নি বিশ্ব মুসলিম নানাবিধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের আয়োজন করে থাকেন। ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে ১০ মহররমের বিভিন্ন ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনা, বিশেষত কারবালার স্মৃতিচারণা করে বিশ্ব মুসলিম অশ্রুসিক্ত ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

করণীয় ও বর্জনীয় : পবিত্র হাদিস গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে, হজরত মোহাম্মদ (সা.) পবিত্র রমজানের ফরজ সাওমের পর আশুরার সাওমের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি কখনো আশুরা ছাড়া অন্য কোনো দিবসে আখেরি নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে রোজা পালনের ক্ষেত্রে এত বেশি গুরুত্বারোপ করতে দেখিনি। (সহিহ আল-বুখারি)। আশুরার দিবসের রোজা পালনকারীকে এক বছর রোজা পালনকারীর সওয়াব প্রদান করা হবে বলেও হজরত মোহাম্মদ (সা.) উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, আশুরার তারিখে রোজা পালনকারী ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের মহানবী (সা.) রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারা সবিনয়ে উত্তর দিলেন, হে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ, এই বিশেষ দিবসে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা শাসকগোষ্ঠীর পাশবিক নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। তখন হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন : আগামী বছর, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে, আমরা নবম তারিখেও রোজা রাখব। কিন্তু পরের বছর মহানবী (সা.) ইন্তেকাল করেন। (মুসলিম)। হজরত মোহাম্মদ (সা.) মহররমের নবম তারিখে রোজা রাখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন বিধায় ইসলামি বিশেষজ্ঞগণ নবম ও দশম মহররম কিংবা দশম ও একাদশ মহররম রোজা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, আশুরার দিবসে যে ব্যক্তি স্বজনদের জন্য উদারহস্তে ব্যয় করেন, আল্লাহ তার প্রতি সারা বছর সদয় থাকবেন (বাইহাকি)। আশুরা উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যমতো অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অসহায় ও গরিবদের দুর্দশা লাঘবেও যথাসাধ্য সদকা ও জাকাত প্রদানের তাগিদ দিয়েছেন হজরত মোহাম্মদ (সা.)। তাই স্বজনদের ভূরিভোজন আয়োজনের পাশাপাশি অসহায়দের দুর্দশা লাঘবে আন্তরিক হলে মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ নতুন মাত্রা পাবে, ইনশা আল্লাহ। এ ছাড়া পবিত্র আশুরার তারিখে কোরআন তেলাওয়াত, নফল সালাত আদায় ও অন্যান্য সকল ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ তাগিদ রয়েছে ইসলামি শরিয়তে। উল্লেখ্য, ইসলামি শরিয়তে বাড়তি ইবাদত-বন্দেগির জন্য যে ৫টি দিবস-রজনীর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, আশুরা তার অন্যতম। অন্যান্য বিশেষ দিবসের ইবাদত-বন্দেগি করা হয় রাতে; শুধু আশুরার ইবাদত-বন্দেগি দিবাভাগে করা হয়ে থাকে।
যাহোক, পাপপঙ্কিল বিশ্বচরাচরে বর্তমানে মুসলমানদের দুর্ভোগের ইয়ত্তা নেই। লেফাফাদুরস্ত ধার্মিক এবং শয়তানের প্ররোচনায় কিংবা ব্যক্তি-গোষ্ঠী-পারিবারিক-দলীয় স্বার্থে বর্তমানে বিশ্ব মুসলিম ফিতনা-বিদ্বেষ-বিভক্তিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকার্জন বা হালাল রোজগারের প্রতিযোগিতা আধুনিক সভ্য ও ভদ্র সমাজে অচল ও আধুনিকতা-পরিপন্থী। তাই বাম হাতের লেনদেন বা অবৈধ উপায়ে জাগতিক প্রাচুর্যের ছদ্মাবরণে জাহান্নাম খরিদে সকলেই কম-বেশি নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ধর্মীয় বিধি-বিধান আমাদের জীবনাচরণ থেকে বহুলাংশে নির্বাসিত প্রায় এবং সংসার ভাঙার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবার পারিবারিক দায়বদ্ধতার কারণে আমরা অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কলুর বলদের মতো অহর্নিশ জীবনরথের ঘানি টেনে যাচ্ছি। তাই জীবনরথের ঘানি টানার পর হাড্ডিসার অচল দেহ নিয়ে নিতান্ত সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষেই ধর্মকর্মে ইচ্ছেমতো সময় দেওয়ার সুযোগ এবং সংগতি হচ্ছে না।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশ্ব প্রতিপালকের নিকট আমাদের কায়মনোবাক্যে আরাধ্য : হে রাব্বুল আলামিন, তুমি আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হওয়ার তওফিক দান করে বিশেষভাবে ধন্য করেছ। পবিত্র কোরআনের ২৪তম অধ্যায়ের মক্কায় অবতীর্ণ সুরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে তুমি বলেছ : লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ, ইন্নাল্লাহা ইয়াগফিরুয যুনুবা, ইন্নাহু হুয়াল গাফুরুর রাহিম (আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অপরাধীদের অপরাধ মার্জনাকারী; বাস্তবিকই আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু)। অতএব, হিজরি ১৪৪৮ নববর্ষে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আমাদের আত্মশুদ্ধির সুযোগ করে দাও। ইসলামের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার তওফিক তুমি আমাদের দান করো। আমিন!
লেখক : সাবেক প্রধান শিক্ষক, গ্রন্থকার ও সহযোগী সম্পাদক, নিউইয়র্ক।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]