ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে চার দিনেই হেরে গেল বাংলাদেশ

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৩ , অনলাইন ভার্সন
তাইজুল ইসলামের শর্ট বল মিড অফ দিয়ে চার মারেন ব্র্যান্ডন কিং। এই চারের পর মিরপুর শেরেবাংলায় বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা একে অন্যের সঙ্গে করমর্দন করেন। চতুর্থ দিনের খেলা শেষ হতে তখনো ১ ঘণ্টার মতো সময় বাকি। যদিও বৃষ্টির বাগড়া, আলোকস্বল্পতার কারণে অনেক ওভার নষ্ট হয়েছে। তবু ক্যারিবীয়দের জিততে কোনো অসুবিধা হয়নি।

বাংলাদেশের মাঠে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট খেলেছে ২০২১ সালে। মিরপুর শেরেবাংলায় সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছিল উইন্ডিজ। পাঁচ বছর পর এবার সেই মিরপুরে একেবারে হেসেখেলে জিতল ক্যারিবীয়রা। এক দিন হাতে রেখে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল উইন্ডিজ। ৫ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ৬ উইকেটে ৭৯ রান করে আজ শনিবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের খেলা শুরুর পঞ্চম বলে জোমেল ওয়ারিকানকে চার মারেন জাকের আলী অনিক। যেখানে মুমিনুল হক ছিটকে যাওয়ায় কনকাশন বদলি হিসেবে সুযোগ পান জাকের। তবে চার মারার পরের বলেই স্লিপে রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দেন জাকের।

৩৪ বলে ২ চারে ২২ রান করা জাকেরের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২৯ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৪ রান। তাতে ভেঙে যায় সপ্তম উইকেটে জাকের-নাঈমের ৫০ বলে ৩১ রানের জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরপর ক্যাচ মিসের মহড়া শুরু করে। চতুর্থ দিনে উইন্ডিজ যে তিন ক্যাচ মিস করেছে, তার মধ্যে তিনটিই ওয়ারিকানের বলে। যার মধ্যে একটিতে হাসান মাহমুদের কট এন্ড বোল্ড সুযোগ হাতছাড়া করেন ওয়ারিকান। ৩১.২ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার যখন ক্যাচ ড্রপ করেন, তখন হাসানের রান ১। বাংলাদেশ ৮৬ রানে হারাতে পারত অষ্টম উইকেট।

ওয়ারিকানের বলে এরপর যে দুই ক্যাচ মিস হয়েছে, দুবারই জীবন পেয়েছেন নাঈম। যার মধ্যে ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে প্রথম স্লিপে চেজ ক্যাচ মিস করে সেটাকে চার বানিয়ে দেন। তখন নাঈমের রান ২১। আরেক দফা যখন জীবন পান, তখন তার রান ২৯। ৩৬তম ওভারের শেষ বলে এবারও ওয়ারিকানের বলে সেই প্রথম স্লিপেই চেজ ক্যাচ মিস করেন।

নাঈম এক প্রান্তে জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে থাকেন। অন্য প্রান্তে তাকে হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম সঙ্গ দিতে থাকেন। হাসান, তাইজুল দুজনই ৮ রান করে আউট হয়েছেন। দুই টেলএন্ডার ব্যাটারই এলবিডব্লুর শিকার হয়েছেন। যার মধ্যে ওয়ারিকানের আর্ম বলে এলবিডব্লু হওয়ার পর হাসান রিভিউ নষ্ট করেছেন। আগের দুই ব্যাটার শান্ত, লিটন রিভিউ নষ্ট করায় বাংলাদেশের তিন রিভিউ শেষ হয়ে যায়। তারাও এলবিডব্লু হয়েছেন। আর তাইজুলকে এলবিডব্লু করেন চেজ।

হাসান, তাইজুল দ্রুত ফেরায় বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৪৫ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান। নাঈম এক প্রান্তে স্বীকৃত ব্যাটারের মতো খেলতে থাকেন। বাজে বল পেলে সুইপে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। প্রথম টেস্ট ফিফটির পর মাত্র ২ রান যোগ করতে পেরেছেন। ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে চেজকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে জশুয়া বিশপের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম।

৯১ বলে ৪ চারে ৫২ রান করে নাঈম ফেরায় বাংলাদেশ ৪৮.৪ ওভারে ১৪২ রানে গুটিয়ে যায়। ২৭ রানের লিডসহ স্বাগতিকদের স্কোর ১৬৯ রান। নাঈমই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার। চেজ ৩৬ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। টেস্টে এ নিয়ে পাঁচবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন।

১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে যখন ৮ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখন লাঞ্চ ঘোষণা করা হয়। সেই ওভারেই ক্যাম্পবেলের বিপক্ষে তিনবার এলবিডব্লুর আবেদন করেন মিরাজ। কোনোবারই আম্পায়ার সাড়া দেননি। এমনকি লাঞ্চ বিরতির পর খেলা শুরু হলে নাঈম-তাইজুলরাও আবেদন করেন। আম্পায়ার সাড়া দেননি। নাজমুল হোসেন শান্ত দুবার রিভিউ নিলে আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ওপেনাররা। পুঁজি যখন কম, একেকটা উইকেটের জন্য যেখানে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা, সেখানে রিভিউ নিয়েও উইকেট না পারার হতাশা ফুটে উঠেছে শান্তর চেহারায়।

বরাবরের মতো আজ চতুর্থ দিনের দুপুরেই শেরেবাংলার ফ্লাডলাইট জ্বালানো হয়েছে। ২টা ১০ মিনিটে চা পানের বিরতি দেওয়ার কথা থাকলেও ৩-৪ মিনিট আগে বিরতি দেওয়া হয়। ১৭.৪ ওভারে বিনা উইকেটে ৮৭ রানে শেষ করে দ্বিতীয় সেশনের খেলা।

দলীয় ১১২ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরীফুল ইসলাম। ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে শরীফুলের ভেতরে ঢোকা বল ক্যাম্পবেলের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। ৫৫ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি ব্যাটার। তিন নম্বরে নামা তেজনারায়ণ চন্দরপল ১৫ বল খেলে ১ রান করেন। ২৭তম ওভারের চতুর্থ বলে তাকে ফিরিয়েছেন হাসান মাহমুদ।

দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ২৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২০ রানে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৫০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন কিং-কাভেম হজ। কিং ১১৫ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৮১ রান। ১১৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন জোমেল ওয়ারিকান। যার মধ্যে প্রথম ইনিংসেই পেয়েছেন ৫ উইকেট।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করে। ইনিংস সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন সাদমান ইসলাম। জোমেল ওয়ারিকান নেন ৫ উইকেট। উইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২৪৫ রানে। নাঈম নিয়েছেন ৪ উইকেট। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৩২ উইকেটের মধ্যে ২৪টাই নিয়েছেন স্পিনাররা। বাকি ৮ উইকেট পেসাররা নিয়েছেন। এমনকি মুড়ি মুড়কির মতো ক্যাচ পড়েছে। প্রথম ইনিংসে চার ক্যাচ মিস করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ক্যাচ ড্রপ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও তিন ক্যাচ মিস করেছে।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]