ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: টাকার কার্লসন

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:০১ , অনলাইন ভার্সন
ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপ দিচ্ছেন। কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন। 

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টে টাকার কার্লসন দাবি করেন, প্রস্তাবিত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বত, যেখানে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ধারণা করছে যে তেহরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেছে।

টাকার কার্লসন যুক্তি দেন, সাধারণ মার্কিন অস্ত্র পর্বতের গ্রানাইট ভেদ করে মাটির নিচের টানেলে পৌঁছাতে পারবে না যেখানে পারমাণবিক কাজ চলছে বলে ধারণা করা হয়। তিনি লেখেন, ‘ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চাপে ট্রাম্প প্রশাসন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে।’ নেতানিয়াহু এই ধরনের অভিযানের জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন উল্লেখ করে কার্লসন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বিবি প্রতিদিন এই বিষয়ে ট্রাম্পকে ফোন করেন।’

তবে কার্লসনের এই পোস্টে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা বা নেতানিয়াহুর তরফ থেকে আসা চাপের বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহের নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামরিক অভিযানের এই চাপকে যুক্ত করে কার্লসন লেখেন, ‘নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কাছাকাছি থাকতে হবে। তার এই যুদ্ধ প্রয়োজন।’ তিনি দাবি করেন যে ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া নেতানিয়াহুর সরকার গঠন করা কঠিন হবে এবং ক্ষমতা হারালে তিনি তদন্ত ও সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে সমর্থন করছেন উল্লেখ করে কার্লসন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের নাম প্রকাশ করেন। 

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করছেন বলে তিনি দাবি করেন। কার্লসন আরও উল্লেখ করেন যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি দোহায় খসড়া করা ইরান শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন, যদিও এর পক্ষেও কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

টাকার কার্লসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানে চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন চাইতে ২৭ সেপ্টেম্বর গোপনে আবুধাবি সফর করেছিলেন নেতানিয়াহু, কিন্তু আমিরাত তা প্রত্যাখ্যান করে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে কার্লসন জানান, পিকঅ্যাক্স পর্বতে ভূপৃষ্ঠের বিস্ফোরণ পারস্য উপসাগরকে দূষিত করতে পারে এবং ১০ কোটি মানুষের পানি সরবরাহ প্রভাবিত করতে পারে। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার অন্যান্য দেশের জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন। কার্লসন দাবি করেন যে রাশিয়া অন্তত দুটি সরকারকে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা চালালে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের স্বাধীনতা পাবে।

টাকার কার্লসন আরও অভিযোগ করেন, তথাকথিত ‘রণাঙ্গনের পারমাণবিক অস্ত্র’ বা যুদ্ধক্ষেত্রের পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার সহজ করতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন প্রশাসন তাদের পারমাণবিক নীতি নীরবে সংশোধন করেছে। অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালিতে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত প্রায় ৮৫০টি সুপারট্যাঙ্কারের মধ্যে ১১টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু শনিবার ফোনালাপে আলোচনা অব্যাহত রাখা ও পুনরায় সামরিক অভিযানে ফেরার বিষয়ে কথা বলেন, যেখানে নেতানিয়াহু মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন হামলার জন্য চাপ দেন। ট্রাম্প পরে সেই কথোপকথনকে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
 
ট্রাম্প অবশ্য এর আগে জানান, ‘আমরা ১০ মিনিটের মধ্যে তা করতে পারি। আমাদের সেই পরিকল্পনা আছে। আপনারা পিকঅ্যাক্স পর্বত দেখতে পারেন। আমাদের সেটির ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই তা করতে পারি।’

এদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আশা করি অপর পক্ষ অন্যান্য পথের চেয়ে কূটনীতিকে বেছে নেওয়ার মতো যথেষ্ট বিবেচনা প্রদর্শন করবে।’

কার্লসন দাবি করেন, ট্রাম্প এখনও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কথা শুনছেন, যারা মনে করেন ইরানের সঙ্গে এখনও চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তাই পারমাণবিক উত্তেজনার ঝুঁকি না নিয়ে ওয়াশিংটনকে কূটনীতির পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন কার্লসন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]