অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসী অধিকার ও আবাসন সুরক্ষায় অগ্রাধিকার লেটিশিয়া জেমসের

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৩ , অনলাইন ভার্সন
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের প্রচারে জননিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ভোক্তা অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসীদের সুরক্ষা এবং আবাসন অধিকারকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া এ. জেমস। তাঁর নির্বাচনী ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মসূচিতে এসব বিষয়ে গত কয়েক বছরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির প্রার্থী জেমসের দাবি, নিউইয়র্কবাসীর নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় তাঁর দপ্তর ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান থেকে শুরু করে বড় করপোরেশনের অনিয়ম, বাড়িওয়ালাদের শোষণ এবং অভিবাসীদের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
জননিরাপত্তা ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে জননিরাপত্তাকে তাঁর নির্বাচনী অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছেন লেটিশিয়া জেমস। তাঁর দাবি, নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট থেকে ৯ হাজার ৬০০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র সরাতে সক্ষম হয়েছে তাঁর দপ্তর। বন্দুক কেনাবেচার বিনিময় কর্মসূচি (গান বাইব্যাক) এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশেষ করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ঘোস্ট গান নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তিনি। ঘোস্ট গান হলো এমন আগ্নেয়াস্ত্র, যা সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে তৈরি করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত সিরিয়াল নম্বর বা নিবন্ধন থাকে না। এ ছাড়া সংগঠিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শত শত পাউন্ড মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করার কথা জানিয়েছে তাঁর দপ্তর।
ঘৃণাজনিত সহিংসতার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন জেমস। ২০২২ সালে বাফেলোর টপস সুপারমার্কেটে বর্ণবাদী হামলায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় তাঁর দপ্তরের ভূমিকার কথাও নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরা হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টি রয়েছে তালিকায়। নিউইয়র্কবাসীর জন্য ন্যায্য মজুরি এবং ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে চান জেমস। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তাঁর নির্বাচনী ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রাপ্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কর্মীদের জন্য লাখ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেও কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, নিউইয়র্কের সাধারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্যের মূল্য যেন অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা।
ভোক্তা অধিকার ও আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধ করতে চান। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় বিভিন্ন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন লেটিশিয়া জেমস।
এর মধ্যে ফেয়ার বিজনেস প্র্যাকটিস অ্যাক্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রচার শিবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ আইনের মাধ্যমে শোষণমূলক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, হয়রানিমূলক ঋণ আদায়কারী এবং অসাধু বন্ধকী ঋণদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণা বন্ধেও আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে জবাবদিহিতার বিষয়টিও তুলে এনেছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা, অবহেলা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জেমস।
তাঁর দপ্তর ওপিওয়েড সংকটে ভূমিকার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেছে বলে নির্বাচনী ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবহেলাপূর্ণ সেবার অভিযোগে বিভিন্ন নার্সিং হোমের কাছ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ ও সমঝোতার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নষ্ট করে এবং চিকিৎসা খাতে অনিয়মের মাধ্যমে লাভবান হয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
শিশু ও প্রবীণদের সুরক্ষায় তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রবীণদের আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষার বিষয়টিও তাঁর নির্বাচনী কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
জেমসের দাবি, অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষায় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রবীণদের অর্থ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রতিরোধেও তাঁর দপ্তর কাজ করছে।
বিশেষ করে নার্সিং হোমগুলোতে রোগী ও বাসিন্দাদের অবহেলা, অনিরাপদ পরিবেশ এবং কর্মীদের সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। করোনা মহামারির আগে, চলাকালে এবং পরবর্তী সময়েও এসব তদন্ত অব্যাহত ছিল বলে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় লেটিশিয়া জেমস নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম সমালোচক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তাঁর নির্বাচনী বক্তব্য অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অভিবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে লিগ্যাল অবজারভেশন প্রজেক্ট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং অভিবাসীদের আইনি অধিকার রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষায় মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসীরা শুধু নিউইয়র্কের সমাজের অংশ নন, তাঁরা অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কমিউনিটির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন।
আবাসন অধিকার ও ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নিউইয়র্কে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চ ব্যয়ের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের অধিকার রক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন জেমস।
তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরে তিনি অরক্ষিত ও নিম্ন আয়ের নিউইয়র্কবাসীর আবাসন অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভাড়াটিয়া, বাড়ির মালিকানা এবং হাউজিং ভাউচার ব্যবহারকারীদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন বাড়িওয়ালা ও সম্পত্তির মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
বাফেলো থেকে নিউইয়র্ক সিটি পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বাড়িওয়ালাদের অনিয়মের শিকার ব্যক্তিদের জন্য মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচন সুরক্ষায় উদ্যোগ এর কথাও বলা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার ও নির্বাচন পরিচালনার স্বাধীনতা রক্ষাকেও অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন লেটিশিয়া জেমস।
তাঁর অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের কাছে সেভ অ্যাক্ট প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানানো এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে পারে—এমন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও তাঁর প্রচারসামগ্রীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি, নাগরিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে একত্রিত করে ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল বার্তায় বলা হয়, লেটিশিয়া জেমসের নির্বাচনী কর্মসূচিতে আটটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে-জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা, ভোক্তা অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু ও প্রবীণদের সুরক্ষা, অভিবাসীদের অধিকার, আবাসন এবং নির্বাচন সুরক্ষা। তাঁর প্রচারের মূল বক্তব্য, ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থের চেয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিউইয়র্কের ভোটাররা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে জয়ী হলে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগ, ভোক্তা সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় আরও চার বছর কাজ করার সুযোগ পাবেন লেটিশিয়া জেমস।
লেটিশিয়া জেমস: নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অধিকার, নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষায় কাজের দাবি: ২০১৯ সাল থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায়, ৯ হাজার ৫০০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র অপসারণ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া ‘টিশ’ জেমস ২০১৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কর্মজীবী পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, অনিয়মকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নিউইয়র্কবাসীর অধিকার ও নিরাপত্তা সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিচিতিমূলক তথ্যে এসব কাজের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
লেটিশিয়া জেমস নিউইয়র্কের ৬৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল। ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা জেমস দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হন। তাঁর প্রচার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কে অঙ্গরাজ্যব্যাপী কোনো পদে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নির্বাচিত প্রথম নারী।
৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায়ের দাবি করা হয়েছে। জেমসের প্রচার শিবিরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রচার শিবিরের দাবি।
এর মধ্যে প্রাণঘাতী ওপিওয়েড সংকটে ভূমিকার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন নার্সিং হোমের কাছ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জরিমানা ও সমঝোতার মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আগ্নেয়াস্ত্র ও অপরাধ দমনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের সড়ক ও জনপথ থেকে ৯ হাজার ৫০০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র অপসারণে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কাজ করেছে বলে প্রচার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ঘোস্ট গান’ বা শনাক্তকরণ নম্বরবিহীন, অনিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা: জেমসের প্রচার শিবিরের দাবি, নিউইয়র্কবাসীর নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে-এমন ফেডারেল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়ে একাধিক জোট গঠন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কবাসীর অধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা, জনশিক্ষা ও কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অর্থায়ন রক্ষায় ৫০টির বেশি মামলা করেছেন বলেও তাঁর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোক্তা ও বাড়ির মালিকদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। নিউইয়র্কের ভোক্তাদের সুরক্ষায় অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় কয়েকটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন জেমস। এর মধ্যে রয়েছে ফেয়ার বিজনেস প্র্যাকটিস অ্যাক্ট। প্রচার শিবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ আইন শিকারি ঋণদাতা, হয়রানিমূলক ঋণ আদায়কারী এবং অসাধু বন্ধকী ঋণদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়াবে।
বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি জালিয়াতি থেকে সুরক্ষার জন্য ডিড থেফট বা দলিল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আইন প্রণয়নেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে। শিশুদের অনলাইন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইনগত উদ্যোগের ক্ষেত্রেও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে প্রচার শিবিরের বক্তব্য।
সরকারি ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানা গেছে, অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার আগে জেমস নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি নগরব্যাপী কোনো পদে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হন। পাবলিক অ্যাডভোকেট থাকাকালে তিনি আগের সব পাবলিক অ্যাডভোকেটের সম্মিলিত সময়ের চেয়েও বেশি আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।
এসব উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল চাকরির আবেদন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীর আগের বেতনের তথ্য জানতে চাওয়া নিষিদ্ধ করার আইন। প্রচার শিবিরের মতে, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বেতনবৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেই এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
এর আগে তিনি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট-ব্রুকলিনের প্রতিনিধিত্ব করে টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেন। কাউন্সিল সদস্য থাকাকালে তিনি সেফ হাউজিং অ্যাক্ট প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। এ আইনের মাধ্যমে নগরীর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা ভবনগুলোর বাড়িওয়ালাদের ভাড়াটিয়াদের বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে বাধ্য করার ব্যবস্থা করা হয়।
সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার আগে জেমস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্রুকলিন আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি লিগ্যাল এইড সোসাইটিতে পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবে কাজ করেন। তিনি লেম্যান কলেজ থেকে স্নাতক এবং হ্যাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
জেমসের প্রচার ওয়েবসাইটে তাঁর প্রশাসনিক ও আইনগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিউইয়র্কবাসীর অধিকার, নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। 

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]