ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যে আট খাবার

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ , অনলাইন ভার্সন
ফ্যাটি লিভার বর্তমান বিশ্বের একটি বড় সমস্যা। অনেকে অল্প বয়সেই আক্রান্ত হচ্ছেন ফ্যাটি লিভারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ফলে হতে থাকে যকৃতে প্রদাহ, আর ক্রমাগত প্রদাহ থেকে পরবর্তী সময়ে সিরোসিস বা ক্যানসার হওয়াও বিচিত্র নয়।

এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসকে ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছে ফ্যাটি লিভারজনিত সিরোসিস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ফ্যাটি লিভার।

আমাদের দেশে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজই বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও কায়িক শ্রমের অভাব। এই ফ্যাটি লিভারের আদতে কোনো চিকিৎসা নেই, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ছাড়া। সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কম গুড কোলেস্টেরল বা এইচডিএল, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকে সমস্যার কারণে যকৃতে চর্বি জমে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। এই তিনটির মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে জরুরি। কিছু খাবার লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সেগুলো হলো-

সবুজ শাকসবজি: গবেষণা বলছে, সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজির মধ্যে যে পলিফেনল ও নাইট্রেট পাওয়া যায়, তা যকৃতের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তবে রান্না ও সেদ্ধ করে ফেললে এর পলিফেনলের পরিমাণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়। তাই সেদ্ধ করে পানি না ফেলে বা সম্ভব হলে কাঁচা সালাদে যতটা সম্ভব সবুজ পাতাওয়ালা সবজি, যেমন শাক, লেটুস ও অন্যান্য পাতা খেতে চেষ্টা করুন।

ডাল ও বীজজাতীয় খাবার: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ইত্যাদি খাবারে স্টার্চ ও আঁশ প্রচুর। এসব খাবার পরিপাকতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর, একই সঙ্গে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। সয়াপ্রোটিন ও টফুও উপকারী। সয়াতে যে বিটা কনগ্লাইসিন থাকে, তা ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভিসেরাল ফ্যাট কমায়। সূর্যমুখীর বীজে আছে প্রচুর ভিটামিন ই, যা ফ্যাটি লিভারের জন্য ভালো।

সামুদ্রিক মাছ: ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, স্যামন, সার্ডিন ইত্যাদি ওমেগা ৩ তেলযুক্ত সামুদ্রিক মাছ উপকারি এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে যকৃতে চর্বি ও প্রদাহ কমায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মাছ খাওয়া উচিত।

ওটস ও জটিল শর্করা: ফ্যাটি লিভার থেকে রেহাই পেতে আপনাকে জটিল শর্করা, যেমন ওটমিল বা লাল আটার বা যবের রুটি খেতে হবে।

আখরোট: আখরোটে মেলে গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরজিনিন। যা লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। শরীর থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। লিভারের ভিতরের প্রদাহ ও চর্বির আধিক্য কমায়। ​ প্রতিদিন সকালে ৪–৫টি ভেজানো বা শুকনো আখরোট খেতে পারেন। তার বেশি নয়।

বিট: বিটে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং নাইট্রেট থাকে।​পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে। উৎসেচকের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে লিভার সতেজ রাখে।

লেবু ও ভিটামিন সি যুক্ত ফল: আমলকি, পেয়ারা, লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এগুলি লিভারকে বিষমুক্ত করতেও সাহায্য করে।

মসলা: কাঁচা হলুদের কারকিউমিন ও কাঁচা রসুন যকৃতের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]