চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে চীন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৬ মিনিটে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনকে সংযুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। এই করিডরের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করে একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে। সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময় এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন ভাষার বিস্তারে চীন শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নেও চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, রোবটিক সার্জারি, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে চায় চীন। এছাড়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আরও সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে বেইজিং।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নীতিতে অটল রয়েছে। এ বিষয়ে চীন প্রয়োজন হলে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের মতো সফল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আবারও শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বাংলাদেশ ও চীন প্রথমবারের মতো ‘টু প্লাস টু’ (২+২) কাঠামোতে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর আওতায় দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে এই কাঠামোর বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের অধিকারের কথাও উল্লেখ করেছে বেইজিং।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের নির্বাচনী সাফল্যে চীনের সহযোগিতার জন্য ঢাকা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। অপরদিকে চীনও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করলে চীন সেই আবেদনকে স্বাগত জানাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক করিডর, বন্দর উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সংলাপ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঠিকানা/এসআর
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীনকে সংযুক্ত করে একটি অর্থনৈতিক করিডর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। এই করিডরের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করে একটি আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে। সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্ঞান বিনিময় এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন ভাষার বিস্তারে চীন শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নেও চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, রোবটিক সার্জারি, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতা করতে চায় চীন। এছাড়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা ভিসা সহজীকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে আরও সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে বেইজিং।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নীতিতে অটল রয়েছে। এ বিষয়ে চীন প্রয়োজন হলে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, অতীতের মতো সফল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আবারও শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বাংলাদেশ ও চীন প্রথমবারের মতো ‘টু প্লাস টু’ (২+২) কাঠামোতে কাজ করার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এর আওতায় দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে এই কাঠামোর বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের অধিকারের কথাও উল্লেখ করেছে বেইজিং।
বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় বাংলাদেশের নির্বাচনী সাফল্যে চীনের সহযোগিতার জন্য ঢাকা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। অপরদিকে চীনও ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করলে চীন সেই আবেদনকে স্বাগত জানাবে এবং ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক করিডর, বন্দর উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সংলাপ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঠিকানা/এসআর