​জুলাই শহীদের অনুদানের টাকা দিয়ে বাবার দ্বিতীয় বিয়ে!

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৫:২০ , অনলাইন ভার্সন
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার বিরুদ্ধে ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, শহীদ শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ছেলের নামে পাওয়া অনুদানের অর্থ থেকে ৭ লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, নিজের উপার্জনের অর্থেই তিনি বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর মমতাজ বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে ছিলেন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন এবং একটি ১০ বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে।

শেখ শাহরিয়ার ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, শহীদ সন্তানের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যবহার করেই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই স্বামী তার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার দাবি, আব্দুল মতিনের আর্থিক অবস্থা এমন নয় যে তিনি নিজস্ব অর্থে এত ব্যয়বহুল বিয়ে করতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারি অনুদানের টাকায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমার ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।”

মমতাজ বেগম আরও অভিযোগ করেন, শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে তার স্বামী বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি শহীদ পরিবারকে দেওয়া এককালীন ৩০ লাখ টাকা তার স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলনেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমি ২২ বছর তার সঙ্গে সংসার করেছি। দুই পরিবার চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই। আমার এখন একটাই চাওয়া, মেয়েটাকে মানুষ করে যেতে পারি এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”

অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। তার দাবি, প্রথম স্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন, যদিও এখন তা অস্বীকার করছেন।

তিনি বলেন, “আমি একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। বিয়ে করার মতো সামর্থ্য আমার আছে। ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করার প্রয়োজন নেই। বিয়ের পর আমি প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

এদিকে, জুলাই যোদ্ধা রুহুল আমিন রিপন এ ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, একজন জুলাই শহীদের বাবার এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি এর নিন্দা জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এটি মেনে নেওয়া কঠিন। তার মতে, পরিবারের দায়িত্ব ও শহীদ সন্তানের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।

তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঠিকানা/এসআর
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]