একমাত্র ‘ঠিকানা’ই দিয়েছে আসল তথ্যটি। দুর্লভ নিউজটিতে ছিলো চমকপ্রদ শিরোনাম। ‘তিস্তা মেগাপ্রজেক্ট চীনের বেহাত’। মিডিয়া বিশ্বের কাছে চোখধাঁধানো সংবাদ। কারণ গোটা বিশ্ব জানতো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। মহাচীন সফরে গিয়ে সৃষ্টি করা হবে মহাচমক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাক্ষর করবেন মহাচুক্তি। কাঙ্খিত ‘তিস্তা মেগাপ্রজেক্ট’ চীনের করতলগত হবে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিলো তা আয়ত্বে নেয়ার। কিন্তু কৌশলী তারেক সরকার পিছু হটেছে। পণ করেছে এই যাত্রায় তেমনটি হবে না। এই দুর্লভ ও চাঞ্চল্যকর তথ্যটি পূর্বেই ছাপে ‘ঠিকানা।’ গত ২৩ জুন দ্বিতীয় শিরোনাম করে। প্রথম পাতার প্রতিবেদনটি ছিলো এই বিশেষ প্রতিনিধি (সালেম সুলেরী)-এর। ঠিকানা’র সেই ফোরকাস্টটি অবশেষে সত্যে পরিণত হলো।
মূলত ভারত ও আমেরিকার চাপে সিদ্ধান্ত পাল্টায় সরকার। প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিবরণ ছিলো। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব ছিলো না সফরসঙ্গী। রিপোর্টটি প্রকাশের পর পর একটি ঘটনা ঘটে। সফররত তারেক রহমান দু’মন্ত্রীকে ডেকে পাঠান চীনে। পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি ও তথ্যমন্ত্রী জহিরুদ্দিন স্বপনকে। দুদিন পরে সদলবলে ফিরেও আসেন। অবশেষে জাতীয় সংসদে নতুন ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন। ‘ঠিকানা’য় যে ফোরকাস্ট, তারই প্রতি উচ্চারণ। বলেন, তিস্তা মহাপ্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করবোই। ১৩ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এদেশে যেভাবে পদ্মা সেতু হয়েছে। সেভাবেই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প হবে। দেশের অর্থনীতির চাকা নতুন গতি পাবে। আমাদের বিএনপি সরকারের দ্বারাই এই অসাধ্য সাধন হবে।
ভিসা খুললেও ভারতভীতি
কাটছে না এপার বাংলা’র
মহাচীনকে এককভাবে তিস্তাপ্রকল্প দিলো না বাংলাদেশ। ফলে শিলিগুড়ির ‘চিকেননেক’ নিয়ে ভারত আশংকামুক্ত। নাকের ডগায় চীনের উপস্থিতি মানতে নারাজ। তবে বাংলাদেশীদের চীনপ্রীতি কমাতে ভারত ব্যতিব্যস্ত। মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে করিডোর করতে চায় চীন। প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার সড়কপথে ‘চাঁটগাঁ টু কুনমিং’। হুনান প্রদেশে চিনের সীমান্তবর্তী নান্দনিক নগরী। মানুষ ও মালামাল পরিবহনের সুবর্ণ সুযোগ। নৌ ও বিমানপথের বিড়ম্বনা দূর হয়ে যাবে। চিকিৎসা, পর্যটন, বাণিজ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। চীন তাই ভৌগলিক সুবিধের করিডোর প্রস্তাব মেলে ধরে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সফর ছিলো শতভাগ সফল। তবে সফরকালীন সময়েই ভারত দেখায় চমক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রী মর্যাদাদান। অতঃপর ২৬ জুন তিনি দিলেন নতুন ঘোষণা। বন্ধ থাকা ভারতীয় ভিসা চালু করে দিলেন ২৮ জুন। ভিসা সেন্টারে নারী ও শিশুদের জন্যে বিশেষ পরিষেবা। বললেন, ভারতে চিকিৎসা ও পর্যটন সুবিধে বাড়ানো হবে। এর আগে বলেছিলেন, দু’দেশেই একই আকাশ, একই বাতাস। ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মিলেমিশে ১৬০ কোটি। সম্মিলিতভাবে থাকলে বিশাল শক্তিতে পরিণত হবে।
ভিসা জটিলতা খুলে দেওয়ায় মহাখুশি কলকাতা। নিউমার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা মিষ্টিমুখ করেছে। কারণ ২০২৪-এর ৫ আগস্ট থেকে অধিকাংশের ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। হোটেল, মোটেল, হাসপাতাল, দোকান- সবখানে ধ্বস। বাংলাদেশের পর্যটক নির্ভর পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরার বাণিজ্যজীবন। মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন, টিকেটিং, সিম বিক্রয়ে অচলাবস্থা। ভিসা বন্ধ থাকায় বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার লোকসান ভারতের। অর্ধেক রোগী স্থানান্তরিত হয়েছে মালয়েশিয়া, থাই, সিঙ্গাপুর। ভারত ছেড়ে সিংহভাগ গেছে আকুপাংচার-খ্যাত চায়নায়। সেই স্রোত ঠেকাতে ভারত এবার মরিয়া। বাংলাদেশ অভিমুখী রপ্তানি সারণিও অর্ধেকে নেমেছে।
ভ্রমণ ভিসা খুলে দিলেও মানুষের সংশয় কাটছে না। সাধারণ ভ্রমণকারীরা এখনও আতঙ্কে আছে। ৫ আগস্টের পর অসংখ্য বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হতো। ফলে উগ্র সম্প্রদায় বাংলাদেশের মুসলিমকে শাসাতো। অনেকের টাকা, পাসপোর্ট, সম্পদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর শাসনও একটি ফ্যাক্টর। ঈদে গরু জবাই নিষিদ্ধ, রেড রোডে ঈদজামাত স্থগিত। ফলে, অনেকেই পশ্চিমবঙ্গকে নিরাপদ ভাবছেন না।
মব জাস্টিসের ভয়ে অনেকেই ভিসা সংগ্রহে আগ্রহী নন। তবে অসুখ সারাতে মধ্যবিত্তশ্রেণী ভারতমুখী হচ্ছেন। গত বছর থেকে মেডিকেল ভিসা চালু রয়েছে। তবে রেকর্ডপত্র ও অবস্থানগত কড়াকড়ি ব্যাপক। এজন্যে অধিকাংশজন ভিজিট ভিসাতেই অধিক আগ্রহী। অনেক ভ্রামণিকের মতে রথ দেখা কলা বেচা দুটোই সারি।
দুবাইয়ে বেনজির ধৃত, বৃটেনে স্টার কিয়ারমার পতিত
জুলাই বার্ষিকী তে হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা
রাজনীতিতে টিউলিপ সিদ্দিকের সম্ভাবনা
জুন মাসেই ঘটলো নাটকীয় ঘটনাগুলো। আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিলো ২৩ জুন। না, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলকে দাঁড়াতে দেয়নি সরকার। নাশকতা ঠেকাতে চার জেলায় সেনাবাহিনী নামানো হয়। ফলে, নিউইয়র্ক ও লন্ডনে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানাবলী। ফলে শ্লোগান ওঠে আওয়ামী লীগ এখন প্রবাসলীগ।
দুবাই-এ আটক হন সাবেক আইজিপি বেনজির আহমদ। অনেকে ওনাকে ‘শাপলা চত্বরের কসাই’ বলে। ২০১৩-এ র্যাব-এর ডিজিরূপে হেফাজত আন্দোলন ঠেকান। পরে হাসিনা সরকারের আইজিপি হন। বিদেশে ব্যাপক ধন-সম্পদ পাচারের অভিযোগ। ২০২৪-এর মে মাসে বিদেশ পালিয়ে যান। অনেকে ওনাকে ‘শেখ হাসিনার সিপাহশালার’ বলেন। বাংলাদেশে দুদক-এর মামলায় পলাতক আসামী। অবশেষে ‘ইন্টারপোলে’র মাধ্যমে দুবাই-এ ধরা পড়লেন। ফলে শেখ হাসিনার একটি উইকেট পড়লো বলে মন্তব্য উঠেছে।
আরেকটি উইকেট বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার কিয়েরমার।
শেখ রেহানাকন্যা টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠজন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে গোপনে সিলেট ভ্রমণ করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর হয়ে ওঠেন। এসময়ে টিউলিপ সিদ্দিকও সফরসঙ্গী ছিলো। পরে কিয়েরমার প্রধানমন্ত্রী হলে টিউলিপও মন্ত্রী হন। কিন্তু উপঢৌকনের বাড়ি-বিতর্কে মন্ত্রিপদে পদত্যাগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গতবছর বৃটেন যান ড. ইউনূস। রাজা চার্লস পদক দিলেও দেখা দেননি কিয়ারমার। টিউলিপও ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ চেয়ে বিফল হন।
সম্প্রতি প্রশাসনিক ব্যর্থতায় পদ হারালেন কিয়ারমার। লেবার পার্টির নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে তোড়জোড় চলছে। আওয়ামীপন্থী মহল নতুন চেষ্টায় নেমেছে। মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে যে টিউলিপই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে। যদিও সিরিয়ালে টিউলিপের নাম ৫-৬ নম্বরে। প্রধান সমস্যা তিনি এখন কেবল এমপি, মন্ত্রী নন। না হলে অতো ওপরে তোলা একেবারেই দুঃসাধ্য। অনেকে বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ‘মুজিবের দৌহিত্রী একদিন ক্ষমতাপ্রদীপ জ্বালাবেই’।
২০২৪-এর ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন বার্ষিকী সমাগত। জাতিসংঘমতে ১৪০০ শিশু-তরুণ-জনগণ নিহত। হাজার হাজার পঙ্গু, আহত, চিকিৎসারত। সব হত্যার হুকুমের আসামী প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আইসিটি মামলায় তিনি এখন ফাঁসির আসামী। এই ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। আসামী প্রত্যার্পণ চুক্তির অধীনে ফেরত আনুক সরকার। এমন দাবির প্রতি সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। গণভোট, জুলাই সনদ ঢাকতে ‘হাসিনা ইস্যু’ সামনে আনতে চায়। জারি করতে চায় বিশেষ পরোয়ানা।
তিস্তা প্রকল্প চীনকে না দেওয়ায় ভারত মহাখুশি। বিনিময়ে ‘দিল্লীশ্বর হাসিনা’কে ফেরত পাঠাতেও দ্বিধা করবে না।
মূলত ভারত ও আমেরিকার চাপে সিদ্ধান্ত পাল্টায় সরকার। প্রতিবেদনে বিস্তারিত বিবরণ ছিলো। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব ছিলো না সফরসঙ্গী। রিপোর্টটি প্রকাশের পর পর একটি ঘটনা ঘটে। সফররত তারেক রহমান দু’মন্ত্রীকে ডেকে পাঠান চীনে। পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি ও তথ্যমন্ত্রী জহিরুদ্দিন স্বপনকে। দুদিন পরে সদলবলে ফিরেও আসেন। অবশেষে জাতীয় সংসদে নতুন ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন। ‘ঠিকানা’য় যে ফোরকাস্ট, তারই প্রতি উচ্চারণ। বলেন, তিস্তা মহাপ্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করবোই। ১৩ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। এদেশে যেভাবে পদ্মা সেতু হয়েছে। সেভাবেই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প হবে। দেশের অর্থনীতির চাকা নতুন গতি পাবে। আমাদের বিএনপি সরকারের দ্বারাই এই অসাধ্য সাধন হবে।
ভিসা খুললেও ভারতভীতি
কাটছে না এপার বাংলা’র
মহাচীনকে এককভাবে তিস্তাপ্রকল্প দিলো না বাংলাদেশ। ফলে শিলিগুড়ির ‘চিকেননেক’ নিয়ে ভারত আশংকামুক্ত। নাকের ডগায় চীনের উপস্থিতি মানতে নারাজ। তবে বাংলাদেশীদের চীনপ্রীতি কমাতে ভারত ব্যতিব্যস্ত। মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে করিডোর করতে চায় চীন। প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার সড়কপথে ‘চাঁটগাঁ টু কুনমিং’। হুনান প্রদেশে চিনের সীমান্তবর্তী নান্দনিক নগরী। মানুষ ও মালামাল পরিবহনের সুবর্ণ সুযোগ। নৌ ও বিমানপথের বিড়ম্বনা দূর হয়ে যাবে। চিকিৎসা, পর্যটন, বাণিজ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। চীন তাই ভৌগলিক সুবিধের করিডোর প্রস্তাব মেলে ধরে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সফর ছিলো শতভাগ সফল। তবে সফরকালীন সময়েই ভারত দেখায় চমক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রী মর্যাদাদান। অতঃপর ২৬ জুন তিনি দিলেন নতুন ঘোষণা। বন্ধ থাকা ভারতীয় ভিসা চালু করে দিলেন ২৮ জুন। ভিসা সেন্টারে নারী ও শিশুদের জন্যে বিশেষ পরিষেবা। বললেন, ভারতে চিকিৎসা ও পর্যটন সুবিধে বাড়ানো হবে। এর আগে বলেছিলেন, দু’দেশেই একই আকাশ, একই বাতাস। ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মিলেমিশে ১৬০ কোটি। সম্মিলিতভাবে থাকলে বিশাল শক্তিতে পরিণত হবে।
ভিসা জটিলতা খুলে দেওয়ায় মহাখুশি কলকাতা। নিউমার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা মিষ্টিমুখ করেছে। কারণ ২০২৪-এর ৫ আগস্ট থেকে অধিকাংশের ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। হোটেল, মোটেল, হাসপাতাল, দোকান- সবখানে ধ্বস। বাংলাদেশের পর্যটক নির্ভর পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরার বাণিজ্যজীবন। মানি এক্সচেঞ্জ, পরিবহন, টিকেটিং, সিম বিক্রয়ে অচলাবস্থা। ভিসা বন্ধ থাকায় বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার লোকসান ভারতের। অর্ধেক রোগী স্থানান্তরিত হয়েছে মালয়েশিয়া, থাই, সিঙ্গাপুর। ভারত ছেড়ে সিংহভাগ গেছে আকুপাংচার-খ্যাত চায়নায়। সেই স্রোত ঠেকাতে ভারত এবার মরিয়া। বাংলাদেশ অভিমুখী রপ্তানি সারণিও অর্ধেকে নেমেছে।
ভ্রমণ ভিসা খুলে দিলেও মানুষের সংশয় কাটছে না। সাধারণ ভ্রমণকারীরা এখনও আতঙ্কে আছে। ৫ আগস্টের পর অসংখ্য বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হতো। ফলে উগ্র সম্প্রদায় বাংলাদেশের মুসলিমকে শাসাতো। অনেকের টাকা, পাসপোর্ট, সম্পদ কেড়ে নেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর শাসনও একটি ফ্যাক্টর। ঈদে গরু জবাই নিষিদ্ধ, রেড রোডে ঈদজামাত স্থগিত। ফলে, অনেকেই পশ্চিমবঙ্গকে নিরাপদ ভাবছেন না।
মব জাস্টিসের ভয়ে অনেকেই ভিসা সংগ্রহে আগ্রহী নন। তবে অসুখ সারাতে মধ্যবিত্তশ্রেণী ভারতমুখী হচ্ছেন। গত বছর থেকে মেডিকেল ভিসা চালু রয়েছে। তবে রেকর্ডপত্র ও অবস্থানগত কড়াকড়ি ব্যাপক। এজন্যে অধিকাংশজন ভিজিট ভিসাতেই অধিক আগ্রহী। অনেক ভ্রামণিকের মতে রথ দেখা কলা বেচা দুটোই সারি।
দুবাইয়ে বেনজির ধৃত, বৃটেনে স্টার কিয়ারমার পতিত
জুলাই বার্ষিকী তে হাসিনার বিরুদ্ধে পরোয়ানা
রাজনীতিতে টিউলিপ সিদ্দিকের সম্ভাবনা
জুন মাসেই ঘটলো নাটকীয় ঘটনাগুলো। আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিলো ২৩ জুন। না, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলকে দাঁড়াতে দেয়নি সরকার। নাশকতা ঠেকাতে চার জেলায় সেনাবাহিনী নামানো হয়। ফলে, নিউইয়র্ক ও লন্ডনে আয়োজিত হয় অনুষ্ঠানাবলী। ফলে শ্লোগান ওঠে আওয়ামী লীগ এখন প্রবাসলীগ।
দুবাই-এ আটক হন সাবেক আইজিপি বেনজির আহমদ। অনেকে ওনাকে ‘শাপলা চত্বরের কসাই’ বলে। ২০১৩-এ র্যাব-এর ডিজিরূপে হেফাজত আন্দোলন ঠেকান। পরে হাসিনা সরকারের আইজিপি হন। বিদেশে ব্যাপক ধন-সম্পদ পাচারের অভিযোগ। ২০২৪-এর মে মাসে বিদেশ পালিয়ে যান। অনেকে ওনাকে ‘শেখ হাসিনার সিপাহশালার’ বলেন। বাংলাদেশে দুদক-এর মামলায় পলাতক আসামী। অবশেষে ‘ইন্টারপোলে’র মাধ্যমে দুবাই-এ ধরা পড়লেন। ফলে শেখ হাসিনার একটি উইকেট পড়লো বলে মন্তব্য উঠেছে।
আরেকটি উইকেট বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার কিয়েরমার।
শেখ রেহানাকন্যা টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠজন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে গোপনে সিলেট ভ্রমণ করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতর হয়ে ওঠেন। এসময়ে টিউলিপ সিদ্দিকও সফরসঙ্গী ছিলো। পরে কিয়েরমার প্রধানমন্ত্রী হলে টিউলিপও মন্ত্রী হন। কিন্তু উপঢৌকনের বাড়ি-বিতর্কে মন্ত্রিপদে পদত্যাগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গতবছর বৃটেন যান ড. ইউনূস। রাজা চার্লস পদক দিলেও দেখা দেননি কিয়ারমার। টিউলিপও ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ চেয়ে বিফল হন।
সম্প্রতি প্রশাসনিক ব্যর্থতায় পদ হারালেন কিয়ারমার। লেবার পার্টির নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে তোড়জোড় চলছে। আওয়ামীপন্থী মহল নতুন চেষ্টায় নেমেছে। মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে যে টিউলিপই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে। যদিও সিরিয়ালে টিউলিপের নাম ৫-৬ নম্বরে। প্রধান সমস্যা তিনি এখন কেবল এমপি, মন্ত্রী নন। না হলে অতো ওপরে তোলা একেবারেই দুঃসাধ্য। অনেকে বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ‘মুজিবের দৌহিত্রী একদিন ক্ষমতাপ্রদীপ জ্বালাবেই’।
২০২৪-এর ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন বার্ষিকী সমাগত। জাতিসংঘমতে ১৪০০ শিশু-তরুণ-জনগণ নিহত। হাজার হাজার পঙ্গু, আহত, চিকিৎসারত। সব হত্যার হুকুমের আসামী প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আইসিটি মামলায় তিনি এখন ফাঁসির আসামী। এই ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। আসামী প্রত্যার্পণ চুক্তির অধীনে ফেরত আনুক সরকার। এমন দাবির প্রতি সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে। গণভোট, জুলাই সনদ ঢাকতে ‘হাসিনা ইস্যু’ সামনে আনতে চায়। জারি করতে চায় বিশেষ পরোয়ানা।
তিস্তা প্রকল্প চীনকে না দেওয়ায় ভারত মহাখুশি। বিনিময়ে ‘দিল্লীশ্বর হাসিনা’কে ফেরত পাঠাতেও দ্বিধা করবে না।