শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

সিটি চাকরিতে আধুনিক নিয়োগের পথে  নিউইয়র্ক

ঠিকানা রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫৭
সিটি চাকরিতে আধুনিক নিয়োগের পথে  নিউইয়র্ক
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরিতে নিয়োগ-প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা, পুরোনো প্রযুক্তি ও নিয়োগে ধীরগতি কমিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত সরকারি চাকরিতে যুক্ত করার লক্ষ্যেই গঠন করা হয়েছে ‘সিভিল সার্ভিস মডার্নাইজেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি’।
মেয়র মামদানি এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি ওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের (ডিসিএএস) কমিশনার ইউমে কিতাসেই ৫ অক্টোবর নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন। কমিটিতে সিটি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের রাখা হয়েছে। তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে বর্তমান নিয়োগ-ব্যবস্থার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সুপারিশ করা হবে।
কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডিসিএএস কমিশনার ইউমে কিতাসেই। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ডিসি ৩৭-এর নির্বাহী পরিচালক হেনরি গ্যারিডো। কমিটিতে সিটি প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এবং একাধিক শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে ভালো বেতনের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং ন্যায়সংগত হওয়া উচিত। তার প্রশাসন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দিকেও এগোচ্ছে। বর্তমান নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় যে দীর্ঘ সময় লাগে, তা কমানোর পাশাপাশি নতুন ও উদ্ভাবনী পরীক্ষা-পদ্ধতি চালুর বিষয়ও বিবেচনা করা হবে। ডিসিএএস কমিশনার ইউমে কিতাসেই বলেন, সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের কার্যক্রমের অন্যতম ভিত্তি। শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ব্যবস্থাকে একুশ শতকের কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক করা জরুরি। নতুন কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ-ব্যবস্থা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী ও বর্তমান কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা পরিচালনা করে ডিসিএএস। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থী ও কর্মীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়াও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে পুরোনো প্রযুক্তি, অতিরিক্ত প্রশাসনিক ধাপ, দীর্ঘ নিয়োগকাল এবং বিভিন্ন সিটি এজেন্সির মধ্যে দায়িত্ব বিভাজনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ-প্রক্রিয়া জটিল হয়ে আছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নতুন কমিটি চারটি প্রধান বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দ্রুত করার পাশাপাশি মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ নিয়োগের নীতি অক্ষুণ্ন রাখা হবে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ, পরীক্ষার নিয়ম ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ সম্পর্কে সহজে তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে প্রার্থী ও সিটি এজেন্সি উভয় পক্ষই নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সহজে পরিচালনা করতে পারে।
মামদানি প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি সরকারের চাকরিতে নিয়োগ বাড়াতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাইয়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রথমবার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ঘোষণা করা হয়। আগস্টে ডিসিএএস সিভিল সার্ভিসেস পাথওয়েস ফেলোশিপ কর্মসূচি দ্বিগুণ করা হয়। এর মাধ্যমে ৪০০ নিউইয়র্কবাসীর জন্য কলেজ থেকে সরাসরি সিটি সরকারের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে চালু করা হয়েছে জবস এনওয়াইসি সেন্টার। সেখানে নিউইয়র্কবাসী সরাসরি গিয়ে সরকারি খাতে ভালো বেতনের চাকরি, আবেদন-প্রক্রিয়া ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সহায়তা নিতে পারবেন। সিটি কর্মীদের জন্যও প্রশাসন নতুন কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য বিনামূল্যের শিশু যত্নকেন্দ্র এবং সিটি কর্মীদের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ কর্মসূচি রয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের কর্মীসংখ্যা ৩ লাখের বেশি। এর প্রায় ৮০ শতাংশ পদ সাধারণত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। স্যানিটেশন কর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, কেসওয়ার্কার, স্টাফ অ্যানালিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। ডিসিএএস বছরে প্রায় ১৭৫টি পরীক্ষা পরিচালনা করে।
ডিসি ৩৭-এর নির্বাহী পরিচালক হেনরি গ্যারিডো বলেন, সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা সরকারি চাকরিতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী ছাড়া নিউইয়র্কবাসীকে কার্যকর সরকারি সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্টেট সিনেটর রবার্ট জ্যাকসন এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সিভিল সার্ভিসেস অ্যান্ড লেবার কমিটির চেয়ার শার্লি আলদেবোলও উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা ও শূন্যপদের সমস্যা কমানোর পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরির সুযোগ আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
কমেন্ট বক্স
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz