মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশে অন্তত ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গোয়েজ এই তথ্য নিশ্চিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর আলজাজিরার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ আইএমও প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলার কারণে এই নৌপথের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গোয়েজ বলেন, এই সমস্ত বেপরোয়া ও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক হামলা নিরপরাধ সমুদ্রকর্মীদের আবারও মারাত্মক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোনো নাবিকেরই শুধু তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য এভাবে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
আইএমওর মহাসচিব আরও যোগ করেন, আমরা যখন এই সংখ্যার (৬ হাজার নাবিক) দিকে তাকাই, আমাদের মনে রাখা উচিত এর পেছনে তাদের পরিবার জড়িয়ে আছে। এই ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট মাশুল তাদেরই দিতে হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট, যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বাজারের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। মার্কিন সেন্টকম কর্তৃক ইরানের ৯০টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের নজিরবিহীন আত্মঘাতী ড্রোন হামলার পর এই রুটে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে নোঙর ফেলে অপেক্ষা করছে।
শিপিং বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই ৬ হাজার নাবিকের নিরাপত্তা ও মুক্তির বিষয়টি যদি দ্রুত সমাধান না করা হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।