ফজরের নামাজ চলাকালে খুলনার মসজিদে গুলি, আহত দুই মুসল্লি
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৮
•
অনলাইন সংস্করণ
খুলনা মহানগরীতে ফজরের নামাজ চলাকালে একটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
১৪ জুন (রবিবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং স্থানীয় বাসিন্দা আলম মন্ডল (৫৫)। লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে। আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেক মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফজরের নামাজ আদায় চলাকালে কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় তার পাশে অবস্থান করা আলম মন্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। মুহূর্তেই মসজিদজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লিদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দে নামাজরত মুসল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, লোকমান হাকিমের মাথায় গুলি বা গুলির স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে খুলনায় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র বলছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, লোকমান হাকিম এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য কিংবা অন্য কোনো কারণে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ঘটনার পরপরই দৌলতপুর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কী কারণে এ হামলা হয়েছে এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”
পবিত্র মসজিদের ভেতরে নামাজ চলাকালে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।