‘আমাদেরও ভুলত্রুটি হয়, তবে অন্যায়ের সঙ্গে জামায়াতের আপস নেই’
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:১০
•
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ফেরেশতাদের সংগঠন নয়। দলের নেতাকর্মীরা মানুষ, তাই তাদের ভুল-ত্রুটি বা অন্যায় হতে পারে। তবে কোনো ধরনের অন্যায়কে দল কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আগেই পরিষ্কার করে দিয়েছি—অন্যায় আর জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে চলতে পারে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের কোনো ভুল বা অন্যায় হয় না। আমাদের ভুল, দোষ, অপরাধ হতে পারে। সেগুলো প্রমাণিত হলে আমরা তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করতে চাই।”
তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে দলীয় নেতাকর্মীদের ভুল-ত্রুটি ও অনিয়ম তুলে ধরতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, সমালোচনা ও গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণের মানসিকতা দলের রয়েছে এবং প্রমাণিত অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, যাদের ওপর জনগণ আস্থা রেখেছে, তাদের দায়িত্বও বেশি। নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, ছোটখাটো বা সংশোধনযোগ্য ভুলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধের ঘটনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনা দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মত দিয়েছে। তাই জনগণের সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকার প্রত্যাশিত উদ্যোগ নেয়নি। একই সঙ্গে জুলাই জাদুঘর এখনো চালু না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তাহলে একই যুক্তিতে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
রুকন সম্মেলনে দলের নীতি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।