থার্ড টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত শাহজালালে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে স্থগিতাদেশ
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮
•
অনলাইন সংস্করণ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও উড়োজাহাজের চাপ সামাল দিতে নতুন করে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
সম্প্রতি দেশের কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৩৮টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বেবিচক জানায়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে অনুমোদিত সময়সূচি ও ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না।
বেবিচকের তথ্যমতে, বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক এবং ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ওঠানামা করে। এছাড়া প্রতিদিন ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন হেলিকপ্টারসহ মোট প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ প্রতিদিন বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে।
এত বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, টার্মিনাল ভবন, অ্যারোব্রিজ, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন এবং ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে নিজস্ব পরিচালন বেজ নেই, তারা তৃতীয় টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অনুমোদিত ফ্লাইট সূচির বাইরে অতিরিক্ত নির্ধারিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পাবে না। এর আগে কোনো স্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকলেও সেটিকে পরিচালনাগত অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা হবে না।
রাজধানীর বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমাতে বেবিচক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারেরও আহ্বান জানিয়েছে।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তার সক্ষমতার প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে কোনো এয়ারলাইন্স চাইলে চট্টগ্রাম বা সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিতে পারবে। তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর অতিরিক্ত ফ্লাইটের ওপর আরোপিত এই সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, উড়োজাহাজ পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।