বিএনপিকে ‘মাইনাসের’ ষড়যন্ত্র করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে মাইনাস করার চক্রান্ত করেছিল। তখনকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে পছন্দ করতেন। তিনি সেভাবে পছন্দ করেননি বিএনপিকে। তাদের সরকার চেয়েছিল জামায়াত সরকার করবে, আর বিএনপি থাকবে বিরোধী দলে। এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে গড়িমসি করেছিল। কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য ছিল, তিনজন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সালেহউদ্দিন আহমেদ ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নির্বাচনের পক্ষে সোচ্চার। পরিস্থিতি না বদলালে তারা পদত্যাগের হুমকিও দিয়েছিলেন। তাদের চাপেই মূলত ড. ইউনূস লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।’
২৮ জুলাই মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নামে জোটবদ্ধ হয়েছিল বামধারার ৯টি দল। কিন্তু তাদের ১৫৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজনই জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। ভোটাররা তাদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন না কেন, জানতে চাইলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘আমরা সব সময়ই বলে থাকি আমাদের দেশে নির্বাচন তিনটি ‘এম’ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়- মানি, মাসল ও ম্যানিপুলেশন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে নির্বাচন আপাত নিরপেক্ষ হয়। কারণ ম্যানিপুলেশন বা কারসাজির সুযোগ কম থাকে। কিন্তু অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব থেকেই যায়। যার চর্চা আমাদের দিয়ে হবে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নির্বাচনে আঞ্চলিকতার একটা প্রভাবও থাকে। আমাদের প্রার্থীকে অনেকে ভালো মানুষ বলে থাকেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় চিন্তা করেন যারা ক্ষমতায় যাবেন, তাদেরই ভোট দিতে হবে।’
এদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে অনির্বাচিত প্রশাসক হিসেবে নিজ দলের নেতাদের নিয়োগ দেয়। সম্প্রতি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আরও কয়েকজন নেতাকে। এই দলীয়করণ কেন? এমন প্রশ্নে বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছর প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়। সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ঢেলে সাজায়নি। সে ক্ষেত্রে সেখানে একধরনের গতি আনতে দলীয় নেতাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কারণ বিশ্বস্ততা তৈরি করতে না পারলে নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করা একটি সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়, মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হয়েছে। একটি সরকারের জন্য যা খুব বেশি সময় নয় বলে মনে করেন বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন। তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারকে নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি সরকারকে কর্তৃত্ববাদের দিকে নিয়ে যেতে পারে, সেই জায়গা থেকে আমরা তাদের সতর্ক পর্যবেক্ষণে রাখতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাধারণ জীবনযাপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই ব্যক্তিগত ইমেজ দিয়ে তিনি মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ভালো, বাকিদের দেখার দরকার নেই- শুধু এই প্রবণতা দিয়ে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে।’