মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​হামলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কাছাকাছি : পাকিস্তান

​হামলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কাছাকাছি : পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে নতুন করে হামলার খবরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কোনো এক ধরনের সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শান্তি চুক্তি বা সমঝোতার পথে পরিস্থিতি আবারও এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, গত দুই-তিন দিনের সংকেত বলছে, আমরা কোনো এক ধরনের সমঝোতার খুব কাছাকাছি।

মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। আরাঘচির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হলেও বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

এর আগে, একই দিনে এক ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে আলাদা আলোচনা ‘অগ্রসর পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

চলমান সংঘাতে পাকিস্তান ও কাতার প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের নাগরিক। পাল্টা জবাবে ইরান ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

সমঝোতার আশায় তেলের দামে পতন

সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম। এর আগে লেনদেনের শুরুতে এক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও তা অনেক বেশি।

গেল রবিবার ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, শুধু এই চুক্তি হলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

এসব শর্তের বেশিরভাগই গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত অবসানে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক হুমকি বন্ধের বিষয় রয়েছে।

গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।

পরে, সোমবার রাতে এর জবাবে নতুন কিছু দাবি তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, গত ৫০ বছরে তারা যে ক্ষতি করেছে, তার জন্য আমরা অর্থ চাইব। পাশাপাশি, ইরানের বেসামরিক বিক্ষোভকারী এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের মৃত্যুসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। 

দুটি জাহাজে হামলা

কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনার মধ্যেই উপসাগরীয় ও লোহিত সাগর এলাকায় জাহাজে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর হুমকি আরও বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে একটি ছোট কার্গো জাহাজে সন্দেহভাজন হামলায় চার নাবিক নিহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা বলে ধারণা করা হলেও এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি গোষ্ঠীটি। তবে, মিশরের মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ নামের এই জাহাজে হামলার খবরে এখনও কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায় নি। 

এদিকে, ওমান উপসাগর দিয়ে পাকিস্তানের উপকূলের কাছে যাওয়ার সময় একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। সূত্রের বরাতে এটিকে সন্দেহভাজন মার্কিন হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইরানের বন্দর অভিমুখী জাহাজ চলাচলে নৌ অবরোধ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সদস্যদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়।

ইরানের বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা প্রথমবার এপ্রিলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জুনের শান্তি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর জুলাইয়ে তা আবারও কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে হুথিরা। ২০ জুলাই দেওয়া ওই ঘোষণায় গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের ‘অবরোধের’ জবাবে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়। তবে ইয়েমেনে কোনো ধরনের অবরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে রিয়াদ।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতেও যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। মার্কিন বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধটি ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়। কয়েক মাস পরই গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির উচ্চমূল্যও ভোটারদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন পর্যন্ত কয়েক মাস ধরে চলা মার্কিন সামরিক অভিযান, যার মধ্যে জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের ব্যাপক হামলাও ছিল, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি।

যদিও ট্রাম্প এরই মধ্যে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। এমনকি তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz