শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
বিশেষ সাক্ষাৎকারে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান’ করতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছি

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান’ করতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছি

ছবি ঠিকানা

বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত। এ কথা জেনেও ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান’ করতেই প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়েছেন। কারণ বিএনপির প্রার্থী যদি বিনা ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে যান, তখন অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারে, ১১ দল কেন প্রার্থী দিতে পারল না? এসব কথা বলেছেন ১১-দলীয় জোট মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঠিকানা টিভির বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রবীণ এই রাজনীতিক আরও বলেন, ‘আমি প্রার্থী হওয়ার কারণে ১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী আছে, এটা বলা যাচ্ছে। এখন আমরা চাইব, বিএনপিও এমন একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করবে, যিনি আমার চেয়েও ভালো হবেন।’

বুধবার রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যা নিউইয়র্ক সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। সমসাময়িক রাজনীতির নানা বিষয়ে ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীনের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। নিজেদের প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানাবে সরকারে থাকা এই দল। তবে দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হতে চলেছেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমি একজন প্রার্থী হয়ে অন্য প্রার্থী সম্পর্কে কিছু বলাটা আমার বিবেকে বাধে। ভালো-মন্দ সব জনগণই বিচার করবে।’

এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের বিপক্ষের কাউকে ভোট দিতে পারবেন না সংসদ সদস্যরা। সম্প্রতি এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্য পদই থাকবে না। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ১১-দলীয় জোট মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ যখন করা হয়েছিল, তখনকার প্রেক্ষাপট একরকম ছিল। এখন জুলাই সনদ অনুযায়ী, এটা বাতিল করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। কারণ ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা খর্ব হয়ে যায়। তাই এটা বাতিল করে বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা উচিত। গণতন্ত্র এক জায়গায় থাকবে, অন্য জায়গায় থাকবে না, এটা হতে পারে না, মনে করেন অলি আহমদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে লড়েননি এলডিপির চেয়ারম্যান। তবে অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে এবার প্রার্থী ছিলেন তার ছেলে মো. ওমর ফারুক। তিনি মাত্র ১০২৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তার ছেলেকে হারানো হয়েছিল, দাবি করছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের অন্তত ৫০ হাজার ভোটে জেতার কথা ছিল। সেখানে নির্বাচনের দিন দুপুর ১২টার পর থেকে আমাদের কর্মীদের পেটানো শুরু করে প্রশাসনের লোকজন। জবরদস্তি করে আমাদের পোলিং এজেন্টদের দরখাস্ত নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি ভোটের ফল ঘোষণা চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। হঠাৎ রাত ১২টার পর বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ এই অভিযোগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে কারা দায়ী, এমন প্রশ্নে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য দায়ী তখনকার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভেতরের আরও অনেক কিছুই আমি জানি। কিন্তু এখন বলা ঠিক হবে না। চারটি শক্তি মূলত আমাদের পরাজিত করতে কাজ করেছিল। তবে নির্বাচন টেম্পারিং করার জন্য ড. ইউনূসকে অবশ্যই কোনো না কোনো সময় বিচারের মুখে পড়তে হবে।’

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz