আটলান্টায় তিন দিনব্যাপী আবহ আর্ট অ্যান্ড থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৫৫
•
অনলাইন সংস্করণ
আটলান্টা : জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘আবহ আর্ট অ্যান্ড থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল’।
মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, আটলান্টা থেকে : জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘আবহ আর্ট অ্যান্ড থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল’। গত ১৪ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত আটলান্টার ঈগল থিয়েটার সেন্টারে এ উৎসবের আয়োজন করে প্রবাসে বাংলা ও ভারতীয় নাট্যচর্চায় পরিচিত সংগঠন ‘আবহ আর্ট অ্যান্ড থিয়েটার’।
বাংলাদেশ ও ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, নাট্য ঐতিহ্য ও শিল্পকলাকে প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে জর্জিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নাট্যদল, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন। ফলে তিন দিনের এ আয়োজন পরিণত হয় বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের এক মিলনমেলায়।
উৎসবের প্রথমদিন ছিল নাট্য পরিবেশনায় সমৃদ্ধ। এদিন মঞ্চস্থ হয় হিন্দি নাটক ‘পঞ্চ পরমেশ্বর—ধূপ ছাঁও’ এবং ‘পাগলা ঘোড়া’। নাটক দুটির পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘আবহ সম্মাননা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান’। পাশাপাশি ছিল একাধিক নাট্য পরিবেশনা। জর্জিয়ার আবহ দলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘গ্রেস পিরিয়ড টেন ডেজ’। এরপর টেক্সাসের উঋড নাট্যদল পরিবেশন করে ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’। সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় ‘হোয়াট ইজ ইট ফর মি’। ভিন্নধর্মী এসব পরিবেশনা উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে যোগ করে নতুন মাত্রা।
উৎসবের শেষ দিনেও ছিল বৈচিত্র্যময় আয়োজন। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় প্যানেল আলোচনা। পরে বোস্টনের ঊঘঅউ পরিবেশন করে ‘নামকরণ’। এরপর ওয়াশিংটন ডিসির থিয়েট্রিক্স পরিবেশন করে ‘বেপরোয়া’। দিনের শেষ নাট্য পরিবেশনা হিসেবে জর্জিয়ার আবহ দলের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘রিজারেকশন’ (জবংঁৎৎবপঃরড়হ)। পরে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিন দিনব্যাপী এ নাট্য উৎসব।
উৎসবজুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা নাট্যদল ও শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। নাটকের পাশাপাশি শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
আয়োজকেরা জানান, প্রবাসের নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও নাট্য ঐতিহ্যকে পরিচিত করে তোলা এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে তাদের সংযোগ আরো দৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নাট্যদল ও শিল্পীদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করাও ছিল উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। নাটক, শিল্প ও সংস্কৃতির এ বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আটলান্টার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘আবহ আর্ট অ্যান্ড থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল’ নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।