‘বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না’ জামায়াত নেতা জুবায়ের
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১৭:৩২
•
অনলাইন সংস্করণ
গত ২০ আগস্ট জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কোয়ালিশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (কোবা) এ সভার আয়োজন করে।
কোবার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ইয়র্ক বাংলার সম্পাদক রশীদ আহমদের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগীতশিল্পী সালাহ উদ্দিন রাসেল।
নিউইয়র্কে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও বিভিন্ন ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনে বহু শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সরকার মুখে বলছে, তারা অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে; কিন্তু কাজে করছে ঠিক তার উল্টো।’
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরই তারা জাতির সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ, দুদক আইন, গুম কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাব বাদ দিয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে।’
দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দীর্ঘদিনের। অথচ এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ছে। সাধারণ মানুষ বলতে শুরু করেছেÑ আগেই ভালো ছিল। সরকারের কর্মকাণ্ড দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।’
জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষা, গণভোট এবং বিপ্লব-পরবর্তী জন-আকাক্সক্ষা পূরণে বিএনপি কথা দিয়ে কথা রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিএনপি ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং সর্বত্র দলীয়করণের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছে। দলটি মুখে যা বলছে, কাজে তা করছে না। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’
লংমার্চ ও মহাসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথ ও সংসদে সমান ভূমিকা রাখব। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই এবং সরকারকে অযথা বিব্রত করতে চাই না। তবে আগামী দিনে আন্দোলনের কর্মসূচি রয়েছে।’ তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে লংমার্চের পাশাপাশি আগামী অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, টাইম টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয়ের নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক আজকালের বিশেষ প্রতিনিধি ও নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন, সাপ্তাহিক হককথার এবিএম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, আমার সিলেটের সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী দীপু, দৈনিক সংগ্রামের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এইচএম আখতার হোসাইন এবং আলোকচিত্রী জেমসসহ অনেকে।
আলোচনা, মতামত প্রদান ও প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাণবন্ত এ মতবিনিময় সভা শেষ হয়।