পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় চাঁদের আলোতে ভরে গেছে বারান্দা। পায়ে পায়ে বারান্দায় যাই, আকাশের দিকে তাকাই। শরতের মেঘমুক্ত আকাশ সাদা আর নীলে মাখামাখি। আকাশে মেঘ আর নেই। শরতের কাশফুল ফুটে আছে। মনে হয়, একঝাঁক বক বসে মিটিং করছে। পেঁজা পেঁজা তুলো। তুলোতে চাঁদের আলোয় ভরিয়ে তুলেছে দিগন্ত, তারারা সব মিটমিট করে লুকোচুরি করে বেড়াতে আসে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি, তারারা আপন মনে মালা গেঁথে চলছে, কোনো ঝগড়া-বিদ্বেষ নেই। কী মিতালি!
রুমে আসি আর ভাবি কিছু লেখি। কী লিখব ভাবতে থাকি। হঠাৎ মনে পড়ে আমার ছেলেবেলার স্মৃতি। ফেলে আসা কথারা ভিড় করে। সোনার কাঁথা মোড়ানো সকাল, অলস দুপুর, নিস্তব্ধ বিকাল-কোথায় হারিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে পুতুল খেলা শেষ।
আমরা গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। বাবা থাকতেন ঢাকায়। বাবা বাড়িতে এলেন। বাবাকে মা বলেন, মেয়েটা বড় হলো, ওকে স্কুলে দিতে হবে। ছেলে দুইটা বড় হচ্ছে, ওদের স্কুলে দেওয়া দরকার। স্কুলে পড়ার কথা মনে হতেই ভাবতে শুরু করি, কবে বড় হব, পড়াশোনা করে পৃথিবীটা নিজের করে নেব। কখনো ভাবিনি শৈশবের স্মৃতিগুলো এভাবে হারিয়ে যাবে। কল্পনা আর বাস্তব এক হয় না। মানুষ তার পুরো জীবনের কথা কখনো বলতে পারে না, বলা সম্ভব নয়। নিজের কথা ভাবার সময় পেলাম না।
যৌবন এসে দরজায় হানা দেয়। বিয়ে দিতে হবে। সবার মন রক্ষা করতে গিয়ে পরাজিত হয়ে যাই। কষ্ট শুধু একটাইÑকল্পনা যে বাস্তবে দাঁড়াতে পারল না। তাই পরিণয়সূত্রে নিজেকে গেঁথে ফেলি। মন শুধু আহত পাখির মতো ডানা ঝাপটায়। সোনার খাঁচায় বন্দী। পিছু ফিরে দেখতে চাই না।
ভাবতে ভাবতে টেলিভিশনের সুইচ দিই। আয়নায় ভেসে এল, কোন গোপনে মন ভেসেছে। অনিকের মনে গোপনে প্রেম এসেছে। অনিক প্রকাশ করতে পারে না, চোখের ভাষায় প্রেমিকাকে বোঝাতে চায়। প্রেমিকা বুঝতে চায় না। অনিকের চোখের পাতায় বেদনা ভরা, চোখ যে মনের কথা বলে, চোখ থাকলে বোঝা যায়। চোখের ভাষা বুঝতে হলে চোখ থাকা চাই।
এই গানটা শুধু গান মনে হতো, অনিকের চোখের ভাষায় আমার মন চলে যায় বহু বছর আগে এমন একজন চোখের ভাষা দিয়ে বোঝাতে চেয়েছে নিজেকে, তখন বুঝতে পারিনি। আজ আবার জেগে ওঠে সেই চোখের চাওয়া।
গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসি বাবার বাসায়। সেই বাসায় সবাই ভাড়া থাকেন। আমাদের দেখে সবাই খুশি। এক খালা বলেন, মা, কুয়াতলায় বালতিতে পানি আছে, তোমরা হাত-মুখ ধোও। আমি ভাবি, কুয়ো কেন? পুকুর নাই? তিনি মাকে বলেন, বুবু, তুমিও ফ্রেশ হও, আমি সবার জন্য খাবার নিয়ে আসি। বাবা খালাকে বলেন, আপনি ব্যস্ত হবেন না, আমি ওদের নিয়ে বেড়াতে যাব, ঢাকা শহর দেখুক। খালা বলেন, তবে রাতে এখানে খাবেন। বাবা বলেন, আপনি কিছু করতে যাবেন না, ওদের নিয়ে খেয়ে আসব। বাবা আমাদের নিয়ে রিকশা করে এক চায়ের দোকানে গেলেন। দোকানের ছেলেটা আমাদের দেখে খুব খুশিÑসবাইকে নিয়ে এসেছেন। হ্যাঁ, তোর দোকানে কী আছে? ডালপুরি, মোগলাই এখনো হয় নাই। ডালপুরি দুইটা করে আর পাঁচজনকে চা দেবে। মা বলেন, এক কাপ। আমরা চা খাই না। দোকানি প্লেটে ডালপুরি এনে দিল। বাবা বলেন, দাম নাও। ছেলেটা বলে, দাদা, রোজ আপনার কাছ থেকে নিই। ওরা আমার অতিথি। বাবা দোকানের কাছ থেকে একটা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আমাদের ঢাকা শহর দেখাতে নিয়ে চলেন। লালবাগের কেল্লা, লাল কুঠির, আহসান মঞ্জিল। দেখতে দেখতে রাস্তায় বাতি জ্বলে ওঠে। সারা রাস্তায় চাঁদের আলোর মতো আলো ছড়িয়ে পড়ে। আবার রাস্তায় লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি থামে, সবুজ বাতি জ্বললে গাড়ি চলতে আরম্ভ করে। দেখতে দেখতে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। মা বলেন, এবার যাওয়া যাক, পরে দেখতে পারব।
আমরা হোটেলে চলে আসি। হোটেলের ভেতরে একজন লোক সাদা কাপড় পরা, মাথায় পাগড়ি। বাবা লোকটাকে খাবারের কথা বলেন। মা চারটি প্লেটে খাবার দিতে বলেন, একটা খালি প্লেটও দিতে বলেন। লোকটা খাবারের ডিশ ও পাঁচটি প্লেট দিল। মা খাবারগুলো পাঁচ প্লেটে নিলেন। সবাই খেয়ে বাসায় আসি। আমরা তিন ভাইবোন বাবার খাটে শুয়ে পড়ি। মা নিচে বিছানা করেন, বাবা আর মা শোবেন। শোয়ার সময় বাবা বলেন, সকাল সকাল উঠবে, কুয়াতলায় পানি তোলা আছে, মুখ ধুয়ে গোসল সেরে নিয়ো। মা নাশতার ব্যবস্থা করেন। পাশের খালা নাশতা নিয়ে এসেছেন। সাথে খালু। বাবা খালাকে বলেন, আপনি কেন ঝামেলা করতে গেলেন? খালা বললেন, এ আর কী ঝামেলা। আজ আমাদের সাথে খাবেন, আমরা সকালে বের হয়ে যাব, তবে রাতে খাবেন। মা মানা করেন। খালু বলেন, দাদা আমাদের বটগাছ, তার ছায়ায় আছি। বাবা বলেন, বাদ দাও ওসব কথা। খালু বলেন, তবে রাতে খাবেন। খালা বলেন, বুবু, নাশতাটা খাও এবং বাচ্চাদের দাও। পরোটা, ভাজি আর হালুয়া আছে। সবাই নাশতা খেয়ে তৈরি হই বাসা দেখতে। একটি বাসায় সামনে গেটে লেখা অদিত্য নারায়ণ চৌধুরী। গেটে দারোয়ান। বাবা দারোয়ানকে বলেন, আমরা বাসা দেখতে এসেছি। দারোয়ান গেট খুলে ভেতরে আসতে বলল। বাসায় ঢোকার পথে দুই ধারে নারিকেল ও সুপারি গাছ। দারোয়ান আমাদের নিয়ে দোতলায় গেল। বাড়ির মালিক এক মহিলা। তিনি এসে আমাদের তার ড্রয়িংরুমে নিয়ে বসালেন। হেসে মাকে বলেন, আমি আগে আপনার কাছে মাপ চেয়ে নিই। মা অবাক হন। মহিলা বলেন, অনেক বছর আগের কথা। আপনার স্বামীর মতো দেখতে আমার ভাই ছিল। হুবহু তাকে দেখে আমি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলি। কী করে সম্ভব মৃত ভাই আমার বাড়িতে।
আপনার মৃত ভাই আপনার স্মৃতিতে লুকানো ছিল, ভুলতে পারেননি। মানুষের মতো মানুষ হতে পারে। তাই ওনাকে দেখে ভাই মনে হয়েছে। বাবাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দাদা, আমি আপনার বোন তো, বেশ। বাবা বলেন, আমারও বোন ছিল, মেলায় গিয়ে হারিয়ে যায়। আজও মনে মনে খুঁজে বেড়াই ওকে। মা বলেন, তোমাদের কী অদ্ভুত মিল। বোন পেল ভাইকে, আমি পেলাম ননদকে, বলে মা হাসেন।
এবার পরিচয়ের পালা শেষ। বাসাটা দেখি। বাসাটা ভালো, পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার মতো বাসা। মহিলা বলেন, আমরা থাকতাম কলকাতার বাঁকুড়ায়। বাবা বাঁকুড়ায় গিয়ে বলেন, আমরা এবার ঢাকায় চলে যাব। সবাই অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি বলেন, দেশ ভাগ হওয়ার পর এ দেশে থাকা নিরাপদ নয়। ঢাকায় গিয়ে সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি। কীভাবে? আমার মতোই একজন কলকাতায় আসার আগ্রহ। কথায় কথায় সব আলাপ হয়। চৌধুরী সাহেব বলেন, আমার সবাই কলকাতায় চলে গিয়েছে, আমি শুধু জমিদার মহলের জন্য আছি। আপনার সাথে আলাপ হয়েছে। আপনাকে জমিদার মহল দিয়ে চলে যাব। এভাবেই দেওয়া-নেওয়া হলো।
মহিলা বলতে থাকেন, আমরা ঢাকায় আসি। বাড়ি দেখে সবাই খুব খুশি। এই খুশির মধ্যেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। সবাই বসে বাবাকে বলতে থাকেন, এবার সব বলো। জমিদার মশাই বলেন, আপনাকে আমি সবই দিলাম, তবে নিচের রুমখানা আপনার ও আমার নয়। কী বলেন? হ্যাঁ, এই ঘর মা দুর্গার, আমি দুর্গা মাকে প্রতিষ্ঠিত করি। বলেছি, তোমার সব সন্তান তোমার কাছে আসবে, ঘরের অর্ধেকে আমার জমিদারি পরিচালনা করি। বাকি অর্ধেকে মায়ের পূজা হয়। দেখেন, আমরা সবাই মানবজাতি, একজনেরই উপাসনা করি। গোত্র শুধু মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। আমি আর কিছু বলতে পারিনি। তবে আমার স্বামী বলেন, এটা কী করে হয়, মুসলমানের বাড়িতে প্রতিমা পূজা! আমি মানি না, আমি মূর্তি ভেঙে ফেলব। বাবা মানা করা সত্ত্বেও ভাঙতে যান। দরজায় যাইতেই জ্ঞান হারান, ওখানেই শেষ। আর কেউ সাহস করে নাই।
বাবা সব শুনে বলেন, এখন আমরা সবাই পরিবার-পরিজন। ফুপু তার ছেলেমেয়েদের ডেকে বলেন, জামিল, তানিয়া, তনিমা, তোমাদের মামা আমার ভাই। মা আমাদের ডেকে বলেন, তোমাদের ফুপু, সালাম করো। জয়া, তমাল, তাপস-বেশ ওরা এখন ছয় ভাইবোন। ফুপু আমাকে ভর্তি করে দেন আনন্দময়ী গার্লস স্কুলে। ফুপুর মেয়েরা পড়ে সেখানে, তাদের সাথেই ঘোড়ার গাড়িতে স্কুলে যাই।
স্কুলে নোটিশ এল, দুই দিন ছুটি সরস্বতী পূজার। তনিমা আমার ক্লাসে পড়ে। ওকে বলি পূজার কথা। ও বলে, কাল আমাদের বাসায় নিচে পূজা হবে। সকালে দেখি, সরস্বতী ঠাকুর। আমরা সবাই যাই। পূজার অনুষ্ঠানে আনন্দ, গানের আসর বসে, প্রসাদ দেওয়া হয়। অনেকে গান গাইতে শুরু করে। আমি কি গাইতে পারি? তুমি গাইতে পারো? তবে গাও। আমি গেয়ে উঠি, মন মোর মেঘের সংগীতে উড়ে চলে দিগ্্দিগন্তে। সবাই বলে, তুমি ভালো গাও। আরও গাই, আমার বেলা যে যায় শেষ বেলাতে। বেশ বেশ। পূজা শেষে সবাই উপরে যাই। জামিল ভাই ফুপুকে বলেন, মা, জয়াকে একটা হারমনি কিনে দাও। খুব ভালো গায়। কার কাছে শিখেছ? আমাদের বাড়ির সাথে এক দিদি থাকতেন, রোজ সকালে কোলে একটা কুমড়া নিয়ে গাইতেন, আমি শুনতাম। দিদি বলতেন, জয়া, তুই গান শিখবি? আমি তোকে শেখাব। মা বারণ করতেন। ওটা কুমড়া না, তানপুরা।
দেখতে দেখতে সবাই বড় হয়ে যাই। বুবুর বিয়ে হয়। জামিল ভাই ডাক্তারি পড়তে থাকেন। আমি ইন্টারমিডিয়েট শেষ করি। মায়ের মাথা খারাপ, বিয়ে দেওয়ার জন্য। বাবা ফুপুকে বলেন, জয়ার জন্য একটা ভালো ছেলে পেয়েছি। বেশ তো, মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিতে হয়। মা সকালে বলেন, আজ তোমাকে দেখতে আসবে ছেলের মা ও বোন। সব ঠিক হলে বিয়ের দিনও ঠিক করে যাবে। আশ্বিন মাসে দিন ভালো। আমি অবাক হই। সময় কীভাবে বদলাতে থাকে। দেখি, জামিল ভাই ফুপুকে বলেন, মা, আমি ডাক্তার হয়েছি। ফুপু বলেন, তোর মামাকে বলে আয়। বাবাকে এসে বলেন, মামা, আমি ডাক্তারি পাস করেছি। বাবা ভাইকে বুকে নিয়ে বলেন, সুখবর। তবে আরেকটা সুখবর দিই, আজ জয়াকে দেখতে আসবে, পছন্দ হলে তারিখ দিয়ে যাবে। বেশ, তুমি একটু ছেলেটাকে দেখো। দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে এল। জামিল ভাই বিদেশে যাওয়ার সব ঠিক করে এলেন। ফুপুকে এসে বললেন, মা, আমি লন্ডনের হাসপাতালে চাকরি করব আর পড়াশোনা করব। তুমি সব গুছিয়ে দাও। তুই চলে গেলে তানিয়ার বিয়ে? মামা, জয়ার জামাই তানির বিয়ে দেবে। আমার দিকে এমনভাবে তাকাল, চোখে অশ্রুরোদন। জয়া, একটা গান শোনা। আমি বিয়ের সাজে ব্যস্ত। তবু গেয়ে উঠি, মনের অজান্তে গাই, আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে। বলেন, আর গাইতে হবে না। ছলছল চোখে চলে গেলেন। ফুপু মায়ের হাতে দুটি বালা দিয়ে বলেন, জয়ার জন্য তৈরি করেছিলাম। আপনি নিজ হাতে পরিয়ে দেন। আমি তো জামিলের সাথে এয়ারপোর্ট যাব। আমার বিয়ে, জামিল ভাই আকাশে।
আমার বিয়ের কিছুদিন পরে তানির বিয়ে হয়ে যায়। সবাই সংসারজীবন গড়ে তুলি। সকালে মা ফোন করে বলেন, কাল জামিল এসেছে। জামিল ভাই এসেছে শুনে সবাই আসি। ফুপু জামাইদের বলেন, তোমরা মেয়ে দেখো, জামিলকে বিয়ে করিয়ে দাও।
আমি বিয়ে করব না। এই হাতে যাকে মালা পরাব, তাকে পরাতে পারিনি। এই মালা আমি কাকে পরাব। এখন যে তোমার সাথি হবে, তাকে পরাবে।
একদিন মা ও ফুপু তানির বাসায় যান। ফুপু বলেন, জয়া, জামিলকে চা দিস। চা দিতে গিয়ে জামিল ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, এ বুকে কাউকে স্থান দিতে পারব না। আজও তুই আমার। আমাকে ছেড়ে দাও, আমার পায়ে শিকল, আমার সন্তান আছে। তোর সন্তানদের পরিচয় আমি দেব। আমার স্বামীর তো কোনো অপরাধ নেই। সমাজ কী বলবে? সমাজে এখন সবকিছু হয়।
জামিল ভাইয়ের বিয়ে। সবাই খুশি। সকালে ফুপু ডেকে বলেন, তোমরা বউমাকে নিয়ে নাশতার টেবিলে আসো। দুলাভাই ভাবিকে বলেন, তোমার গলায় এ মালা জামিল পরাল। ভাবি বলেন, দুলাভাই, এ মালা আমার কণ্ঠে নাহি সাজে, এতে আছে দীর্ঘ নিঃশ্বাস। না পাওয়ার বেদনা।
অনেক দিন হয়, ভাবি সব সময় মুখ ভার থাকেন। সবাই ড্রয়িংরুমে বসে গল্প করি। ভাবিও আসেন। ভাবি জয়াকে বলেন, জয়া, তোমাকে একটা কথা বলব। বলো। তুমি কি জামিলকে ভালোবাসতে? তুমি তোমার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করো। জামিল ভাই বলেন, এটা কী কথা? তুমি সব সময় বলো ভালোবাসি, আজও ভালোবাসি। বুবু বলেন, এটা তো রবীন্দ্রসংগীত। জামিল সব সময় রবীন্দ্রসংগীত ভালোবাসে। জয়া, তুমি তো আমার কথার জবাব দিলে না। জয়া জামিলের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি তোমার সব কথার উত্তর দেব ভাবলে কী করে? রাগে-দুঃখে গল্পের আসর ছেড়ে চলে আসি। বুবু বলেন, জয়া, তুই যাস না। ভাবিকে বলেন, জামিলকে কেন ছোট করলে? জামিল ভাইয়ের চোখ আমার দিকে, চোখের পাতায় ছলছল বেদনা।
আমার বুকে ঝড় বইতে শুরু। বুকের ঝড় দেখা যায় না। শুধু অতীত স্মৃতি ফিরে আসে।