১০ উড়োজাহাজ কিনতে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করল বিমান
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার। এ জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে এই চুক্তি সই হয়।
‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক এ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন বলেন, ‘আমরা আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিমানের সেবা আরও উন্নত করব। গ্রাহকরা যাতে বিশ্বমানের সেবা পেয়ে বিমানকে বেছে নেন, সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আজ বিমান একটি মাইলফলক অর্জন করছে। বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছি। এটা আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, টেকসই বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে এবং এই চুক্তি ইউরোপ-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
এয়ারবাস সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইওগাস ক্রিস্টিমায়ার বলেন, ‘আজকের এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বাংলাদেশ এভিয়েশন নেশন হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করল। এয়ারবাস বিমানের ফ্লিট মডার্নাইজেশনে পার্টনার হতে পেরে আমরা গর্বিত।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চুক্তিটিতে চারটি ওয়াইড বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি ন্যারো বডি ‘এ৩২১নিও’ জেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে শুরু হতে পারে, তবে সরকার চায় তা ২০৩০ সালের আগেই এটি শুরু হোক।
বোয়িং থেকে আসবে আরও ২৫ উড়োজাহাজ : এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান।
গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে (৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮।
দ্বিতীয় দফায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ আসা শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। এই প্রতিষ্ঠানের সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর লাগবে।
বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং ও পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে বহরের দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে। এ কারণে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া (লিজ) নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।