আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ও লুটপাটের টাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়রা বিদেশে ফুর্তি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্রচিন্তা ও জাতীয়তাবাদের বিকাশ নিয়ে কমল-কুঁড়ি আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে সজীব ওয়াজেদ জয়কে তাদের নেতা মনে করছে। অথচ দেশের বাইরে রেস্তোরাঁয় বসে তার মদ্যপানের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ যে লুটপাট করেছে, সেই অর্থেই সজীব ওয়াজেদ জয়রা বিদেশে ফুর্তি করছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা এখন ভারতে, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলা হচ্ছে। যারা এ ধরনের কথা বলছেন, তারা মূলত আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চান।
রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সুযোগ দেবেন না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, আন্দোলনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যেসব নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আন্দোলনে তাদের ত্যাগ ও অবদান জাতির সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ আন্দোলনে শহীদ হওয়া সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ভিডিওতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের চিত্র দেখা যায়।
ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ছাত্রদল গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনেনি বরং মেধার বিকাশের মাধ্যমে সারা দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।