বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি!

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি!

সিঙ্গেল থাকলেই যে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি আর বিয়ে করলে কম তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত

বিজ্ঞাপন
বিবাহিত এবং অবিবাহিতদের নিয়ে চমকপ্রদ এক তথ্য সামনে এসেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বিয়ে করেননি, তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে এর কারণ বিয়ে না করা নয়; বরং জীবনযাপনের ধরন ও স্বাস্থ্যচর্চার সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি। এসব বিষয় বুঝতে পারলে ক্যানসার প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হতে পারে।

অবিবাহিত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসারের হার বেশি
ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, কখনো বিয়ে করেননি এমন পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের হার ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৩ শতাংশ বেশি।

তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসার, প্রজনন-ইতিহাস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এসব ক্যানসারের মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার।

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামির মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার এপিডেমিওলজির অধ্যাপক পাওলো এস. পিনেইরো ভেরিওয়েল বলেন, ‘যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অভ্যাসের মতো বিষয়গুলোতে পার্থক্য দেখা যায়। এসব বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে বলে জানা গেছে। তাই বৈবাহিক অবস্থা মূলত এসব অন্তর্নিহিত ঝুঁকির একটি পরোক্ষ নির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।’

বিয়ে করলে ক্যানসারের ঝুঁকি কম হতে পারে কেন?
এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই এর ফলাফল থেকে প্রমাণিত হয় না যে বিয়ে করলেই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। পিনেইরো বলেন, ‘এই ফলাফলকে বিয়ে করার সুপারিশ হিসেবে ব্যাখ্যা না করাই ভালো। গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে যে বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে এমন কিছু জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা সম্ভব, যাদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকির ধরন ভিন্ন। ক্যানসার প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণের উদ্যোগ নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে এটি সহায়ক হতে পারে।’

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত সুবিধা বিয়ের আগেও শুরু হতে পারে। এ থেকে বোঝা যায়, বিয়ের আইনগত স্বীকৃতির চেয়ে স্থিতিশীল ও সহায়তাপূর্ণ সম্পর্কের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

নারীদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি হওয়ার পেছনে তাদের প্রজনন-ইতিহাসও ভূমিকা রাখতে পারে। যেসব নারীর পূর্ণ মেয়াদে গর্ভধারণের সংখ্যা কম, তাদের ডিম্বাশয়, জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াল) ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সাধারণত বেশি থাকে।

তবে এই ফলাফল আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমান গবেষণায় প্রজনন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে গর্ভধারণের ইতিহাসের মতো বিষয়গুলো ক্যানসারের ঝুঁকিকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা স্পষ্ট নয়।

এই গবেষণার ফলাফলকে বিয়ে করার কারণ হিসেবে দেখার পরিবর্তে সামাজিক সমর্থন স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক সমর্থনের অভাবে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ শতাংশ বেশি হতে পারে।

একাকিত্বের সঙ্গে মাদক সেবনের সম্পর্কও রয়েছে, যা অ্যালকোহল ও তামাকজনিত ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে বৈবাহিক অবস্থা দিয়ে কারও সামাজিক যোগাযোগের মাত্রা সব সময় বোঝা যায় না। তবে কারো বৈবাহিক অবস্থা দিয়ে তিনি কতটা সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে আছেন, তা সব সময় বোঝা যায় না। সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ঠিকানা/এএস 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz