ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশো
অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। বিএনপির সময়ও সংসদে আইন পাস করার মাধ্যমে তা বহাল রাখা হয়। জুলাইপন্থী দলগুলো থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আওয়ামী লীগ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। অথচ রাজনীতি বিষয়ক সব আলোচনা অনুষ্ঠানেই আওয়ামী লীগের প্রাসঙ্গিকতা দৃশ্যমান। এখানে এই টকশোতেও দলটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে। এসব কথা বলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশো তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হলে তা তেমন কাজে আসে না। বরং নির্বাচনে যদি জনগণ প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে সেটা বেশি কার্যকর হয়। নেপালে গিয়ে সেটাই দেখে এসেছি। অথচ আমাদের দেশে নিষিদ্ধ করে, ভোটে সুযোগ না দিয়ে আওয়ামী লীগকে বরং সুবিধাই করে দেয়া হয়েছে। তারা এখন জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনার সুযোগ পাচ্ছে। বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা বলছে। ভোটে জনগণ দ্বারা প্রতাখ্যাত হলে এসব বলার সুযোগ পেতো না।’
গত ২৩ জুন এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরো ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ও শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের রাজনীতির সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
আওয়ামী লীগকে কোনদিন অপ্রসাঙ্গিক হতে দেয়ার পক্ষে নন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।
তিনি বলেন, দলটির ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন, গুম, খুন, নিপীড়ন সামনে আনার মাধ্যমে তাদের প্রাসঙ্গিক রাখতে হবে। এ থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবে। তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাঠের রাজনীতিতে নামার প্রচেষ্টা ঠেকানোর দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। এ দায়িত্ব মূলত প্রশাসনের। নিষিদ্ধ কোনো দল যদি আদালতের আশ্রয় নিয়ে ফেরার চেষ্টা করে, সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
‘আওয়ামী লীগের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা আমি কারো মধ্যে দেখি না। অনুশোচনা না করে তারা উল্টো জুলাই আন্দোলন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের কথা বলে থাকে। এই কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের ঘৃণা রয়ে গেছে’- বলেন সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এখন বাজেট অধিবেশন চলছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সংসদ সদস্য অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা টানছেন সেখানে। কেউ সংসদে জানালার পর্দা, ওভেন চাইছেন। নারীদের পোশাক নিয়ে অশালীন বক্তব্যও দিয়েছিলেন একজন। এর চেয়ে সংসদে মমতাজের গানই ভালো ছিলো- মন্তব্য করেন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। তিনি আরো বলেন, আমীর হামজা নামে একজন সংসদ সদস্যের দেখা যাচ্ছে জাতীয় বাজেটের আকার নিয়ে কোনো ধারণাই নেই। কেউ আবার জীবিত বাবাকে বলছেন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। এসব বিষয় এবারের সংসদকে মানহীন করে দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। অধিবেশন চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত- দু’পক্ষ থেকেই কোনো না কোনো সংসদ সদস্য অপ্রাসঙ্গিক কথা বলছেন। এ ধরনের বক্তব্য দেয়া উচিত নয়- একমত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।
তিনি বলেন, কারো বক্তব্যে পাওয়া যাচ্ছে গর্হিত অন্যায়। কেউ দিচ্ছেন ভুল তথ্য। এক্ষেত্রে সংসদের অভিজ্ঞতা কম থাকায় কেউ কেউ ভুল করছেন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে এই ভুল কমে আসবে, আশা করছেন তিনি।