শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

যে আমল করলে বিয়ে হয় সহজে

যে আমল করলে বিয়ে হয় সহজে

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
বিয়ে শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর জীবনে ভালোবাসা ও প্রশান্তি দান করেন।

কিন্তু বর্তমান সময়ে নানা সামাজিক বাধা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জটিলতার কারণে অনেকের বিয়ে সময়মতো হচ্ছে না। কেউ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন।

ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। বিয়ের সামর্থ্য অর্জন করলে তা অযথা বিলম্ব না করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তার কাছে দোয়া করা এবং পবিত্র জীবনযাপনের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দোয়া, ইবাদত ও বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব, আল্লাহর পথে জিহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ দাস যে মুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে চায় এবং ওই ব্যক্তি যে পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৫৫)

তাই বিয়ের জন্য অপেক্ষার সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বাস্তবসম্মতভাবে বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন তিনটি আমল তুলে ধরা হলো, যা বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও তার সাহায্য কামনায় করা যেতে পারে।

১. বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। জীবনের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। বিয়ের জন্যও নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করা যায়। আল্লাহর কাছে একজন নেককার, উত্তম চরিত্রের ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী চাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের চরিত্র সংশোধন, হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা এবং বিয়ের পথ সহজ করে দেওয়ার জন্যও প্রার্থনা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

তবে দোয়া করার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে পাত্র-পাত্রী খোঁজা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে।

২. কোরআনের একটি দোয়া পড়া

নেককার জীবনসঙ্গী ও উত্তম পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি সুন্দর দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো,

আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا 

উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে, যে পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নেক আমলের পথে চলতে সহায়ক হবে। ফরজ নামাজের পর, নফল ইবাদতের সময় কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ের জন্য এটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা নির্দিষ্ট নিয়মে পড়তেই হবে এমন কোনো সহিহ প্রমাণ নেই।

৩. নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা যায়।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz