বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ : সুখবর, তবু
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৩:৩৮
•
অনলাইন সংস্করণ
খবরের শেষ নেই। ভালো খবর, মন্দ খবর। জয়-পরাজয়ের খবর। মৃত্যুর খবর। যুক্তরাষ্ট্রে এখন চলছে বিশ্বের সর্বোচ্চ বিনোদনের আসর বিশ্বকাপ ফুটবল, এ দেশে যা সকার। সেখানে জয়-পরাজয়ের মধ্যে প্রমাণিত হবে-কে শ্রেষ্ঠ। তবু এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দুটি খেলায় জয়ী হয়ে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। উদ্বোধনী খেলাতেই প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শুভ সূচনা করেছে। দ্বিতীয় খেলাতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে শেষ বত্রিশে নাম লিখিয়েছে। এ নিয়ে এ দেশের মানুষের উত্তেজনার শেষ নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশে হামে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাপদাহে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার অভিবাসীর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী-প্রত্যাশীদের দুঃস্বপ্নের শেষ নেই।
খবর আরও আছে। খবরের কাগজে খবর তো থাকবেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ খবর যত বেশি থাকবে, সম্পাদকীয়র জন্য নির্বাচন তত কঠিন হয়। যেহেতু জন্মভূমি জননীসম, সে কারণে স্বদেশের কোনো সুখবরে প্রাধান্য দিতে মন নেচে ওঠে। বিশেষ করে, শান্তি যেখানে ১৮ কোটি মানুষের আরাধ্য, সেই শান্তিতে যখন বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার খবর চোখে পড়ে, তখন মনটা নিজের অজান্তেই আনন্দে ভরে ওঠে। তা-ও আবার সেটা যদি নিজ অঞ্চলের দুটি প্রধান আলোচিত দেশের চেয়ে মাত্রায় বেশি হয়, তবে সে আনন্দের সীমা থাকে না।
প্রকাশিত খবরটির শিরোনাম, ‘পিছিয়েছে ভারত-পাকিস্তান/বৈশ্বিক শান্তি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের এটা কোনো সরকারের বা দলীয় দাবি নয়। ঘুষ বা প্রভাব খাটিয়ে এ সার্টিফিকেট অর্জন করা নয়। চেষ্টা-তদবির করে সংগ্রহ করার সুযোগ আছে বলেও মনে হয় না। তাই বিরোধী পক্ষদের প্রত্যাখ্যান করা, সমালোচনা করার সুযোগ থাকে না। মনে মনে তারা বেজার হলেও মুখে মুখে কষ্ট করে হলেও বলতে হয়, ভালো ভালো।
ঠিকানার ১৭ জুন সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় খবরটি উপরের দিকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে। খবরের শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে শান্তি বেড়েছে, কমেছে ভারত ও পাকিস্তানে।’ এটা কাদের সিদ্ধান্ত? এটা গ্লোবাল পিস ইনডেক্স বা বিশ্ব শান্তি সূচকের চলতি বছর ২০২৬ সালের জরিপে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘শত সংকট সত্ত্বেও শান্তির মানদণ্ডে এগিয়েছে বাংলাদেশ।’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর তাদের জরিপে এটা প্রকাশ পায়। এবার ২০২৬ সালেও প্রকাশিত হয়েছে। তাতে শান্তি সূচকে বাংলাদেশের এই অগ্রগতি নির্ধারিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব শান্তি সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। এখন তার অবস্থান ১১৭তম। ভারতে শান্তি পরিস্থিতি ২.৯ শতাংশ অবনতি ঘটেছে। এখন তার অবস্থান ১২৭তম। অন্যদিকে পাকিস্তানে শান্তির সূচক ৫.৫ শতাংশ কমে গেছে। দেশটি এখন ১৫২তম অবস্থানে নেমে গেছে। এখানেও লড়াইটা কাছাকাছি হলেও এই অগ্রগতি অশান্ত, অস্থির, রাজনৈতিক অস্থিরতায় টালমাটাল বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট স্বস্তির এবং আনন্দের। আর শান্তি সূচকে একেবারে তলানিতে রয়েছে একসময়ের শান্তির দেশ রাশিয়া।
শান্তি সূচকে বাংলাদেশের উল্লম্ফন অবশ্যই আনন্দের, নিঃসন্দেহে। তবে কেবল কি শান্তি সূচকে এগিয়ে গেলেই সমাজ ও রাষ্ট্রে অনাবিল শান্তির বাতাস বইবে? শান্তি বিরাজ করবে সর্বস্তরে? না, কখনোই না। কেবল শান্তি সূচকই মানবসমাজে শান্তি, স্বস্তি, উন্নয়ন-অগ্রগতির নিশ্চয়তা দেয় না। সার্বিক শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সমাজের সব সদস্য অর্থাৎ রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জীবন উন্নয়নে আরও অনেক সূচক রয়েছে, সেসবের উন্নয়ন না হলে মানুষের জীবনে কখনো শান্তির প্রকৃত অর্থ অনুভূত হবে না। এর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা বা অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে শেখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সমাজ থেকে খুন-গুম-রাহাজানি, ঘুষ-দুর্নীতি দূর করা-এসব ক্ষেত্রে যদি সমাজে উন্নয়ন না আসে, তবে কেবল শান্তিকে প্রকৃত শান্তি বলা যাবে না।
তাই আমরা যেন শান্তি সূচকে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্য সব সূচকের উন্নয়নেও মনোযোগী হই এবং সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রকৃতই একটি শান্তিময় এবং উন্নয়নমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হই।