আমাদের এই জনপদে বইছে এখন উল্টো বাতাস,
সময়ের স্রোত হয়েছে হঠাৎ বিপরীতমুখী।
আকাশজুড়ে জমেছে ঘন-কালো মেঘ-
এক অদৃশ্য অনিশ্চয়তার বিস্তার।
এখানে সূর্যের আলো ক্রমেই ম্যান হয়ে আসছে
যেন এই দেশটা নিজেই
হতাশার চাদরে ঢেকে নিচ্ছে নিজেকে!
এতক্ষণ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম
সেই স্থানও আর আগের মতো নেই!
দৃশ্যপট পুরো বদলে গেছে নিঃশব্দে-
সময়ের অদৃশ্য হাত
আমাদের পায়ের নিচের মাটি সরিয়ে দিয়েছে।
আমাদের চারপাশে চলমান এখন
বাতিলের এক অদ্ভুত উৎসব!
মানুষ বাতিল,
স্মৃতি বাতিল,
সত্য ইতিহাসও বাতিল!
এমনকি স্বপ্ন দেখাও বাতিল!
আমাদের নিজস্ব এই জনপদ
এখন আদিগন্ত নিষিদ্ধ হয়েই আছে!
বলতে গেলে পুরো সময়টাই এখন
এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে গেছে!
এখানে গ্রহণযোগ্য হতে হলে
নিজেকে আমূল মুছে ফেলতে হয়।
এখানে স্বীকৃতি মানে ওদের মেনে নেয়া,
নিজের সত্তাকে অস্বীকার করা।
যখন অশুভ শক্তি সব দরজা বন্ধ করে দেয়,
সে তার সব অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য
‘দায়মুক্তি’ জারি করে! তাই এসো,
আমরা একযোগে নিষিদ্ধ হই।
কারণ নিষিদ্ধ হওয়া কখনো
মানুষের জন্য নিশ্চিত করে চূড়ান্ত স্বাধীনতা।
তখনই নিষিদ্ধ মানুষ সব শক্তি একত্র করে
নিজের ভেতরের দরজাটি খুলে ফেলে।
সে নিজেকে দেখে সমুদয় নিষেধাজ্ঞার ঊর্ধ্বে।
নিজেকে দেখে, কোনো বাতিল মানুষ সে নয়।
কোনো অধ্যাদেশÑআইনের অধীন সে নয়।
সে এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য
নিষিদ্ধ টানেলের যাত্রী হয়।
আবার মুক্ত আবাহনে বেরিয়ে আসবে বলে
প্রকৃত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে
আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রাণপণ-দৌড়ে শামিল হয়।
ইতিহাসের অনেক সত্য
প্রথমে নিষিদ্ধ হয়েছে।
আর প্রতিটি নিষিদ্ধ সত্য
সময়ের আদালতে সাক্ষী হয়ে
নিজের অস্তিত্ব নিয়ে ঝলসে উঠেছে একদিন।
তাই এসো-
নিষিদ্ধ হওয়ার এই প্রচ্ছন্ন সাহসটুকু
আমরা একসাথে সঞ্চয় করি।