বিরোধীদলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৩:২০
•
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণে সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হলেও বিরোধী দল তা গ্রহণ করতে পারছে না। কারণ তাদের প্রধান লক্ষ্য জনগণের স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি খবরে দেখলাম, মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দল বাজেটের সমালোচনা করছে। তাহলে তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা জনগণের পাশে দাঁড়াতে চায় না, বরং মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে অশান্ত করা।”
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এবারের বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। কর বৃদ্ধি করা হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের মতো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর।
“মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দল সেটিকেও সমালোচনার বিষয় বানিয়েছে। জনগণ তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারছে,” বলেন তিনি।
‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্প কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
তিনি জানান, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত কৃষি উৎপাদন সম্ভব হবে।
জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে উপবৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
তিনি বলেন, “দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়। দেশের প্রকৃত মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।”
ঐতিহাসিক পাতলী খালের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, পাতলী খাল ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় অর্ধশতাব্দী পর সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পেরে তিনি গর্ববোধ করছেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব কর্মসূচি শেষে রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা।