শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
বর্ষবরণের উৎসবে মেতেছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি * টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে মঙ্গল শোভাযাত্রা  

আনন্দধ্বনি ও ড্রামা সার্কলের বর্ণাঢ্য আয়োজন আনন্দধ্বনি’র সাংস্কৃতিক আয়োজন 

আনন্দধ্বনি ও ড্রামা সার্কলের বর্ণাঢ্য আয়োজন আনন্দধ্বনি’র সাংস্কৃতিক আয়োজন 

আনন্দধ্বনি ও ড্রামা সার্কলের বর্ণাঢ্য আয়োজন

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও বাংলা নববর্ষ যেন বদলে দিয়েছিল শহরে রূপ। বিশ্বের রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারের ঝলমলে আলোর নিচে আর বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা বসে যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা, আনন্দধ্বনি, ড্রামা সার্কলসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের বর্ণাঢ্য আয়োজন, সব মিলিয়ে বর্ষবরণের এই উৎসব যেন হয়ে ওঠে শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযোগের এক আবেগঘন উপলক্ষ।
হাজারো মাইল দূরে থেকেও মাতৃভাষা, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের প্রতি গভীর টানেই প্রবাসীরা মেতে উঠেছিলেন উৎসবে। রঙিন মুখোশ, আলপনার নকশা আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে চারপাশ, যেখানে নতুন বছরের সূচনা শুধু ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়, বরং এটি হয়ে ওঠে আশা, ঐক্য আর পরিচয়ের এক প্রাণবন্ত উদযাপন।
টাইমস স্কয়ারে বর্ষবরণ : নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইম স্কয়ারে গত ১১ এপ্রিল শনিবার যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’-এর আয়োজনে এবং নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবে প্রবাসী বাঙালি, আন্তর্জাতিক অতিথি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও মূলধারার মার্কিন রাজনীতিকদের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক বৈশ্বিক মিলনমেলা।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৭টি বর্ণিল পর্বে সাজানো এই আয়োজন নিউইয়র্কে বাঙালির সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। দিনভর গান, নৃত্য, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের সম্মিলনে টাইমস স্কয়ার মুখরিত হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের উচ্ছ্বাসে।
উৎসবের সূচনা হয় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় শুভেচ্ছা বার্তা ও ভিডিও। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিকরা, যাদের শুভেচ্ছা বার্তা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিশেষ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দিন আবুল কালাম-এর জন্মশতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানকে আবেগঘন সূচনায় নিয়ে যায়।
এরপর সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনায় জমে ওঠে অনুষ্ঠান। লোকঐতিহ্য থেকে আধুনিক সংগীত-সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে এক বৈচিত্র্যময় মঞ্চ। ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র পরিবেশনা বিদেশি দর্শকদের সামনে বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
উৎসবে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে নেপাল, লাওস ও থাই কমিউনিটির শিল্পীদের অংশগ্রহণ। বহুসাংস্কৃতিক এই পরিবেশনা বাংলা নববর্ষকে এক বৈশ্বিক সম্প্রীতির মঞ্চে রূপ দেয়। একইসঙ্গে ‘ছয় ঋতু’র নান্দনিক উপস্থাপনায় বাংলার প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের চিত্র ফুটে ওঠে।
মধ্যাহ্নে গুণীজন সম্মাননা ও বিশেষ পর্বে প্রবাসী বাঙালির সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। স্মারকগ্রন্থ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকে দলিলবদ্ধ করার এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত সৃষ্টি হয়।
বিকেলে নাটক, মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকগান ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের ধারাবাহিক পরিবেশনা উৎসবকে নতুন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রার সময় টাইমস স্কয়ার যেন ঢাকার চারুকলার রঙিন প্রতিরূপে পরিণত হয়।
সন্ধ্যার পর শিশুদের ‘শতকণ্ঠে বর্ষবরণ’ এবং সিনিয়র শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে যেমন ভবিষ্যতের আশা ধ্বনিত হয়, তেমনি অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে প্রবাস জীবনের গভীর অনুভূতি।
রাত ১০টায় সমাপনী সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। আয়োজকদের ভাষায়, টাইমস স্কয়ারে বাংলা নববর্ষ এখন আর শুধু একটি উৎসব নয়-এটি বিশ্বমঞ্চে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐক্য এবং শক্তির প্রতীক।
এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল, বাঙালির উৎসব আজ ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে-যেখানে ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও ঐতিহ্য একসূত্রে গাঁথা। 
পরদিন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে ডাইভারসিটি প্লাজায় দ্বিতীয় দিনের মত উৎসবে মেতে ওঠেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 
‘এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ দুদিনব্যাপী বর্ষবর্ষণের অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক হয়ে ওঠে বাঙালিদের সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। 
আনন্দধ্বনি-টিবিএন : প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাকে অটুট রেখে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দধ্বনি’-এর আয়োজনে গত ১২ এপ্রিল রোববার কুইন্সের কুইন্সবোরো পারফরমিং আর্টস সেন্টারে (কিউপিএসি) অনুষ্ঠিত হলো বাংলা বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ ১৪৩৩। এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল কিউপিএসির বিশাল মিলনায়তন। 
বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আনন্দধ্বনি-টিবিএ২৪, যেখানে সহযোগিতায় ছিল কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইন্ক। পুরো আয়োজনটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন সংগঠনের পরিচালক অর্ঘ্য সারথী শিকদার, যিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বর্ষবিদায়ের আবহে পরিবেশিত হয় কবিতা, আবৃত্তি ও সংগীত। এরপর নতুন বছরের আগমনী বার্তা নিয়ে মঞ্চে পরিবেশিত হয় বৈশাখী গান ও নান্দনিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। জনপ্রিয় শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস তাঁর সুরেলা কণ্ঠে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। একইসঙ্গে ডা. সেজান মাহমুদসহ স্থানীয় শিল্পীরাও সঙ্গীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করেন। আবৃত্তি করেন ডা. নাসরিন শাহানা, এমডি এবং সেতারে ঝড় তোলেন ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী। 
সঙ্গীত আয়োজনে সহযোগিতা করে ‘মাটি’ ব্যান্ড, যা আধুনিক ও লোকজ ধারার গানের সংমিশ্রণে পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবলায় সঙ্গত করেন পিনুসেন দাস, অমিত দাস, স্বপন দত্ত ও হরাধন কর্মকার, তাদের দক্ষ পরিবেশনায় প্রতিটি সংগীত পরিবেশনা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অংশগ্রহণ, যারা বাংলা গান, কবিতা ও পাঠের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩কে স্বাগত জানাতে এই আয়োজনে প্রবাসীরা ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী আবহে একত্রিত হন। গান, কবিতা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো বছরকে বিদায় জানানোর এই উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আনন্দধ্বনির এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- ‘আনন্দধ্বনি-টিবিএ২৪ বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যার নেতৃতত্বে ছিলেন- চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক এবং কো-চেয়ারপারসন ডা. রাজজি সাহা রায় মুনমুন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. শেখ মাহফুজুল হক, এমডি। কমিটিতে প্রধান সৃজনশীল সুহৃদ হিসেবে ছিলেন- মিথুন আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আর পি দত্ত স্বপন এবং সম্মানিত গাইডেন্স হিসেবে দেবশীষ দেবনাথ। সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন- অর্ঘ্য সারথি সিকদার এবং যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে মেহের কবির। এছাড়াও সমন্বয়কারী ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন- সঞ্জিত কুমার ঘোষ, গৌতম কুণ্ডু, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, টিটু আনাম, পারভেজ বারভুঁইয়া, সুবাস তালুকদার, সুজিত সাহা, সুজন সাহা, সুমন্ত বৈদিক, গোবিন্দ জি বানিয়া, জাকির হোসেন বাবু, সৈয়দ উদ্দিন, সুলতান বোহারি, জিয়াউর দেওয়ান, পারিজাত দাস, খালেদ আখতারসহ আরও অনেকে।  
পুরো অনুষ্ঠানটির ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন বিধান পাল, যিনি অনুষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ধারণ করেন।
এদিকে আনন্দধ্বনির এক ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে- ‘জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের এই ক্ষণে আমরা প্রত্যেকে প্রত্যাশা করি এমন এক আগামীর, যা হবে অধিকতর মানবিক, শান্তিময় এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত। আমাদের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও লোকজ উত্তরাধিকার কেবল সংস্কৃতির বাহ্যিক অলংকার নয়; এগুলো আমাদের জাতিসত্তার অন্তর্নিহিত শক্তি, আমাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি। কিন্তু আজকের বিশ্ব এক গভীর সংকটকালের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। মানবসভ্যতার এই বিপন্ন সময়ে সংস্কৃতিও নিরাপদ নয়; আগ্রাসন কেবল ভূখণ্ড দখল করে না, তা মানুষের ভাষা, শিল্প, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের ওপরও আঘাত হানে।  যেখানে অস্ত্রের গর্জন প্রবল হয়, সেখানে প্রথমেই স্তব্ধ হয়ে যায় গানের কণ্ঠস্বর। যেখানে বিভেদের প্রাচীর উঁচু হয়, সেখানে ক্ষীণ হয়ে আসে মানবতার ভাষা। 
এই বাস্তবতায় বাঙালি ঐতিহ্য সংরক্ষণ আমাদের কাছে হয়ে উঠেছে আরও জরুরি, আরও তাৎপর্যময়। আমাদের শেকড়, আমাদের ভাষা, আমাদের সুর—এসবই আগামী প্রজন্মের হাতে অর্পণ করার মতো মূল্যবান উত্তরাধিকার।  তাই প্রয়োজন আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ এক সাংস্কৃতিক জাগরণ, যেখানে নিজস্ব ঐতিহ্যের চর্চাই হবে অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান অবলম্বন।
আমরা প্রত্যাশা করি, নতুন বছরের আলো... হিংসা ও যুদ্ধের বিভীষিকা দূর করে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত করবে শান্তির নতুন দিগন্ত।যেখানে শিল্প হবে মানবিক সংলাপের ভাষা, সংস্কৃতি হবে মিলনের সেতুবন্ধন, সংস্কৃতির দীপশিখায় উদ্ভাসিত হবে মানবতার পথ। শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যের জয়ে শুভ হোক নববর্ষ।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আনন্দধ্বনি প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশের এক নিষ্ঠাবান বাহক হিসেবে কাজ করে চলেছে। বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করেও শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ রাখার  অটুট উৎসাহ  ও  কঠিন সাধনাকেই আনন্দধ্বনি আপন দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করেছে। এই নবযাত্রার প্রেরণায় নিউইয়র্কের “আনন্দধ্বনি” প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করেছে বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক পর্ব যেটি দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে ১২ই এপ্রিল। 
এই সুদুর প্রবাসে নানা ব‍্যস্ততার মধ্যেও আমাদের অনুষ্ঠানে আপনাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, সহযোগিতা এবং উৎসাহ আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার জন্য।’ 
ড্রামা সার্কল : নিউইয়র্কে পহেলা বৈশাখ মানেই প্রবাসী বাঙালির হৃদয়ে এক বিশেষ আবেগের নামÑআর সেই আবেগের অন্যতম ধারক ও বাহক ঐতিহ্যবাহী নাট্যসংগঠন ড্রামা সার্কল নিউইয়র্ক। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগঠনটি একটি অনন্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে-পহেলা বৈশাখের দিনেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন। সময়ের সাথে সাথে অনেক আয়োজনের ধরন বদলালেও, পহেলা বৈশাখের দিনটিকে কেন্দ্র করেই উৎসব উদযাপনের এই ধারাবাহিকতা ড্রামা সার্কলকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে প্রবাসী সমাজে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে  ১৪ এপ্রিল  মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত হলো ড্রামা সার্কল নিউইয়র্কের আয়োজনে বর্ষবরণ ১৪৩৩। বিকেল থেকেই রঙ-বেরঙের বৈশাখী সাজে সেজে শতশত প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। লাল-সাদা পোশাক, শাড়ি-পাঞ্জাবি আর বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যবাহী সাজে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ধরা দেয় নিউইয়র্কের মাটিতে। অনুষ্ঠান শুরু হয় ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় পান্তা-ইলিশ ভোজের মাধ্যমে-যা পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই ভোজের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডা. দিলরুবা হোসেন ও আলী শিকদার। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এই পান্তা-ইলিশ যেন সকলকে ফিরিয়ে নেয় শিকড়ের টানে, গ্রামের উঠোনে, বাংলা নববর্ষের চিরচেনা স্মৃতিতে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় নববর্ষের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক পর্ব। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নার্গিস আহমেদ এবং বর্তমান সভাপতি আবীর আলমগীর। তারা তাদের বক্তব্যে ড্রামা সার্কলের দীর্ঘ পথচলা, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে এই ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান, ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি এম এম শাহীন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, বাংলা পত্রিকা ও টাইম টিভির সম্পাদক আবু তাহের, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, সাগর ফাউন্ডেশনের প্রধান শাহাবুদ্দিন সাগর, কাহিনীক-এর সিইও ইফতেখার ইভান এবং এফএমএস গ্রুপের প্রধান হোসেন জব্বার শৈবাল। 
সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল বৈচিত্র্য ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা। সংগীত পরিবেশন করেন চন্দন চৌধুরী, লেমন চৌধুরী, কান্তা আলমগীর, ফারহানা তুলি, জাফরিন আবেদীন, ফারহানা মমো, আনোয়ারা আনা ও শায়ান। নৃত্য পরিবেশন করে জারিন মাইশা, অন্তরা সাহা এবং নীলা ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ফারুক আজম।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন আদিবা জহির ও আবার আলমগীর। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, আন্তরিকতা এবং মিলনমেলার আবহ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়-এটি হয়ে ওঠে শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পহেলা বৈশাখের দিনেই বর্ষবরণ আয়োজনের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ড্রামা সার্কল নিউইয়র্ক আবারও প্রমাণ করলো-প্রবাসে থেকেও বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আবেগকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব, যদি থাকে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।
সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ নিউইয়ক : নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের ৩৭  রোড এবং ৭৬ ও এবং ৭৭ স্ট্রিটের মধ্যবর্তী এলাকায় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত বর্ষবরণ মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পরিষদ নিউইয়র্ক। 
দুপুর থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রবাসী বাঙালিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে ছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব, ছিল সঙ্গীত পরিবেশনা। এছাড়াও ছিল পান্তা-ইলিশ ও মিষ্টিমুখের আয়োজন। বিকেল ৫টায় জ্যাকসন হাইটসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
“শঙ্কা ও ভয়, বৈশাখ করবে জয়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় স্থানীয় শিল্পীরা বাংলা গান, নৃত্য ও অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টাইমস স্কয়ারে বাংলাদেশ ক্লাব ও বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ’র বর্ষবরণ: নিউইয়র্কে বাঙালি প্রবাসীদের অন্যতম সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ক্লাব ইউএসএস এবং বেঙ্গলি ক্লাব ইউএসএ’র যৌথ উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে গত ১২ এপ্রিল রোববার টাইমস স্কয়ারে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আয়োজনে ছিল বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশনা, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী নানা আয়োজন। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত হয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানান, যা বাঙালির ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আয়েজকরা জানান, প্রবাসে এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা গান, নৃত্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেন। এছাড়া ছিল ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিলনমেলার আবহ, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন-জনপ্রিয় শিল্পী টিনা রাসেল, বিন্দুকণা, নাজু আখন্দ,  বাউল শিল্পী কালা মিয়া, মেলাল শাহ ও করিম হাওলাদার, রকশিল্পী আফতাব জনি, ত্রিণিয়া, স্বপ্নীল সজিব, ডিজে রাহাত প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করেন রাসেল ও অন্তু এবং মিথুন ড্যান্স একাডেমি। অনুষ্ঠানে তারকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ইমন এবং মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা। 
এর আগে ১১ এপ্রিল শনিবার জ্যামাইকায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্লাব ইউএসএর উদ্যোড়ে পান্তা ইলিশ ও সাংস্কৃতিক পর্ব। 
মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতি : নিজস্ব সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকারে মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ও পিঠা উৎসব। রোববার সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক টুকরো গ্রামীণ বাংলায়।
উৎসবে ছিল ২৭ পদের ঐতিহ্যবাহী পিঠার আকর্ষণীয় প্রদর্শনী। দুধ-চিতই, পাটিসাপটা, ভাপা, আন্দোশা, তেলের পিঠা, নারিকেল পুলি, ফুল পিঠাসহ নানা স্বাদের পিঠায় সাজানো ছিল উৎসবের টেবিল। চিতই পিঠার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় চ্যাপা শুঁটকি, সরিষা ও বিভিন্ন ভর্তা-যা প্রবাসেও গ্রামীণ স্বাদের আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক নূরজাহান ভূঁইয়ার সমন্বয়ে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মঈন চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলা নববর্ষকে ঘিরে প্রবাসে এমন উদ্যোগ শুধু সংস্কৃতিকে দৃশ্যমানই করে না, নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি-র সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমসহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সোহেল মল্লিক ও শুক্লা রায়ের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী গৃহিণীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতায় পিঠা উৎসবটি পায় ভিন্নমাত্রা।
সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান জুবায়েরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কৃষ্ণাতিথি ও সজল রায়, যা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজন যেন একটাই বার্তা দেয়- দূরে থেকেও হৃদয়ে বেঁচে থাকে বাংলা, বেঁচে থাকে শিকড়ের টান।
এবিসিএইচ : বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আমেরিকান বাংলাদেশি কমিউনিটি হেল্প (এবিসিএইচ) গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী বৈশাখী অনুষ্ঠান ‘এবিসিএইচ-পটলাক পান্তা-ইলিশ’। গত ১২ এপ্রিল রোববার লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম স্টেট পার্কে উৎসবমুখর, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েক শত মানুষ পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই অংশগ্রহণকারীরা বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নিজ নিজ বাসায় প্রস্তুত করা ভর্তা, ভাজি ও বিভিন্ন দেশীয় খাবার নিয়ে উপস্থিত হন। পটলাক পদ্ধতিতে সবার আনা খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে এক অনন্য ঐক্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতির প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্টেট পার্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে পটলাক ভিত্তিক পান্তা-ইলিশ ও নববর্ষ উদযাপনের এমন আয়োজন এটিই প্রথম। অংশগ্রহণকারীরা রঙিন কাগজের পতাকা ও নান্দনিক নকশায় পুরো পার্ক সাজিয়ে তোলেন, যা পরিবেশকে বৈশাখী আমেজে ভরিয়ে তোলে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নারী ও পুরুষদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক খেলা, নৃত্য, সঙ্গীত, ফ্যাশন শো এবং র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়ের পরিচয় তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছ সরবরাহে সহযোগিতা করে ‘মাছওয়ালা’ ব্র্যান্ড। এছাড়া স্টার ফার্নিচার বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার প্রদান করে। ‘ক্রাফটিডিয়াস’ নামের একটি দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাখা, একতারা ও অন্যান্য সামগ্রী উপহার দেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে গ্রুপের অ্যাডমিন তরিকুল ইসলাম মিঠু বলেন, “এবিসিএইচ পান্তা-ইলিশ শুধু একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐক্য, সম্প্রীতি ও কমিউনিটি বন্ধনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বাংলা নববর্ষের চেতনা ও দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত হোক।”
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজন সফল করতে যারা সময়, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়েছেন-এবিসিএইচ পরিবারের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, অংশগ্রহণকারী, শুভানুধ্যায়ী ও পৃষ্ঠপোষক-সবার প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কমিউনিটি সম্প্রীতি জোরদারে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত থাকবে। 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz