রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫ • পুরুষ মডেল ভাড়া করে প্রেমিকের আদলে ছবি তুলছেন চীনা তরুণীরা • বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ • ট্রাম্পকে হ'ত্যার হুমকির অভিযোগ, অস্ত্রসহ আটক ভেনেজুয়েলার নাগরিক • সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ • শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমির লড়াইয়ে টিকে রইল বাংলাদেশ • জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছিল সেনাবাহিনী : সাখাওয়াত হোসেন • যুদ্ধ শুরুর সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ইরান • দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী • প্রবল চাপের মুখে তাওহিদ হৃদয়ের অবিস্মরণীয় ব্যাটিংয়ে ডাবল সেঞ্চুরি

রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বরের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু এবং মিত্র চিহ্নিত করার দিন।'

‘১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল। এই চক্রান্তের পথ ধরেই পহেলা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে কারাবন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।’

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যে অপশক্তি দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস এবং সম্মানের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবকে ভুলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অপশক্তি পরাজিত হয়েছে।'

‘তবে ৭ নভেম্বর পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনোই থেমে থাকেনি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব এবং মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছিল। গণতন্ত্রের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, আজকের এই দিনে তাদের অবদানকেও আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ। ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ববিরোধী সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছিল।’

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার বাংলাদেশ ৭ই নভেম্বরের পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবার দেশ এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ৭ই নভেম্বর হলো স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।'

‘দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যারা এই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয় আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর আমরা বাংলাদেশি পরিচয় নির্ধারণের ভিত্তিভূমিও রচনা করেছিল। সুতরাং যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘৭ই নভেম্বরে নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছেন। আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের এই আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী যারা এই স্টেডিয়ামে ৭ই নভেম্বরকে ঘিরে যেভাবে নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে করেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইতিহাস সচেতন এই প্রজন্ম ৭ই নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।'

‘তরুণ প্রজন্মের প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই আপস করেনি। সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে দেশ এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এটিই হোক আমাদের এবারের ৭ই নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে আমাদেরকে ৭ই নভেম্বরের মতো সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।

‘স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব, তবে সেই গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা। অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো তারুণ্যের সকল সম্ভাবনাকে বিকশিত করার প্রয়োজনীয় এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় তরুণ প্রজন্মের ভাই-বোনেরা, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এ দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, দিল্লি না, পিন্ডি না, নয় অন্য কোনো দেশ! সবার আগে, সবার আগে!’ দর্শকরা তখন সমস্বরে বলেন ‘বাংলাদেশ’।

ঠিকানা/এসআর
বিজ্ঞাপন

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz