বিতর্কিত আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার কারণে যে শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক পর আবার সেই কলকাতায় ফিরতে পেরেছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
১৯ বছর পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে গেছেন তিনি। কলকাতার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শনিবার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমার।
আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মাথায় তার এই প্রত্যাবর্তন ঘটল।
দমদম বিমানবন্দরে শুক্রবার সকালে পৌঁছান তসলিমা নাসরিন। চোখে চশমা ও লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরিহিত লেখিকাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার ও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায়। কলকাতায় যাওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি দিয়ে তসলিমা লিখেছিলেন, “আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।”
বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “খুবই ভালো লাগছে। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
আয়োজকরা জানিয়েছেন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক সংগঠন সেক্যুলার মিশন। সংগঠনটির পক্ষে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান...। আমরা তার সংগ্রামের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।”
২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশকে কেন্দ্র করে কলকাতার একাংশে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সেনা মোতায়েন করতে হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার বিতর্কিত ওই বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরে তৃণমূল কংগ্রেস টানা ক্ষমতায় থাকলেও তসলিমার ওপর এই অঘোষিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ বহাল ছিল। সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর সেই চিত্র বদলাল।
রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় কয়েক দিন আগেই জানিয়েছিলেন, তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে আসার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। নতুন রাজনৈতিক আবহে দীর্ঘদিনের শুভানুধ্যায়ীরা তাকে কলকাতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কোনো রাজনীতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, “তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে অনুষ্ঠান হবে। তবে তার নিরাপত্তা একটি বড় বিষয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তসলিমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।”